ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ৩১ অক্টোবর ২০২০

তুরস্ক-গ্রিসের ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬

সংগৃহীত

সংগৃহীত

এজিয়ান সাগরের উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে তুরস্ক ও গ্রিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমিকম্পে দুই দেশে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

কেবল তুরস্কেই আরও সাত শতাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর মিলেছে। পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ভবন ভেঙে পড়েছে প্রায় ২০টি। ভূমিকম্পের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসও আঘাত হেনেছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরস্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির শক্তিমত্তা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রা, যদিও তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) বলেছে, এটি ছিল ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে তুরস্কের উপকূলীয় ইজমির প্রদেশের ইজমির শহরে জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। এসময় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি বলছে, কমপক্ষে ২৪ জন মারা গেছে দেশটিতে। আহত হয়েছে আরও ৭০৯ জন। অন্যদিকে গ্রিসের সামোস দ্বীপে এই ভূমিকম্পের আঘাতে দুই কিশোর-কিশোরীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। 

এএফএডি বলছে, তুরস্কের ইজমির শহরে ১৭টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বসে পড়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে। দেশটির নগরায়ন বিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরাম জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে তাঁবু খাটানো হয়েছে, যেখানে দুই হাজার মানুষ থাকতে পারবেন।

ভূমিকম্পের সময় ইজমির শহরের গুজেলবাহচে এলাকায় ছিলেন পিএইচডি শিক্ষার্থী ইল্কে সিদে। তিনি ভূমিকম্পের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ফলে ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সময় তেমন একটা পাত্তা দেইনি। কিন্তু পরে দেখলাম, এটি একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প। ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল এটি।

ভূমিকম্পের আঘাতের পর জলোচ্ছ্বাসও দেখা দিয়েছে উপকূলীয় এলাকায়। ইজমির সেফেরিহিসার শহরের মেয়র ইসমাইল ইয়েতিস্কিন বলছেন, জলোচ্ছ্বাস এমনভাবে আঘাত করেছে যেন মনে হচ্ছে এগুলো ছোট সুনামির মতো।

তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই ভূমধ্যসাগরে অনুসন্ধানের অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তবে ভূমিকম্পের পর দুই দেশ পরস্পরের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান পরস্পরের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন।

গ্রিস প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস এক টুইটে বলেন, আমাদের চিন্তাধারায় পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো সময় আমাদের সবাইকে এক হতে হয়, পরস্পরের পাশে দাঁড়াতে হয়।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান টুইটে বলেন, এই কঠিন সময়ে আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ পরস্পরের পাশে রয়েছি। আরও অনেক দ্বন্দ্বের চেয়েও এটি অনেক বেশি মূল্যবান।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়