এবার ফ্রান্সের লিয়ন সিটিতে গীর্জার কাছে এক পাদ্রিকে গুলি করে পালিয়ে গেছে দুষ্কৃতিকারীরা। পাদ্রির বয়স প্রায় ৫২ বছর। ৭২ ঘন্টার মধ্যে এটি ফ্রান্সের দ্বিতীয় আক্রমণ। চিকিৎসকদের মতে, শনিবার গ্রীক অর্থোডক্স গির্জার পাদ্রিকে খুব কাছ থেকে পেটে গুলি করা হয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীকে ধরতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ফ্রান্স পুলিশের পক্ষ জানানো হয়েছে, হামলাকারীরা লম্বা কালো রঙের জামা পরেছিল এবং শটগানটি তাদের কোটের ভিতরে লুকানো ছিল। লিওনের চার্চের আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যাজককে দু'জন গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, একজনকে হঠাৎ করে পালিয়ে আসতে দেখা যায় এবং তারপরে ওই যাজক রক্তাক্ত অবস্থায় গির্জার দরজার বাইরে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। হামলার পেছনের কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট নয়৷
এটি একটি 'গুরুতর ঘটনা' বলেই পাদ্রি হামলার ঘটনাকে ব্যাখ্যা করেছেন ফরাসী প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্টো। ঘটনার সঠিক তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে তিনি জানান 'ক্রাইসিস সেন্টার' সক্রিয় করা হবে।
এর আগে গত মাসে স্যামুয়েল প্যাটি নামে একজন ইতিহাসের শিক্ষকের শিরচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এর দু'সপ্তাহের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিস শহরের নতর দাম বেসিলিকা চার্চে গলা কেটে খুন হয় ১ নারীসহ ৩ জনকে৷
এই ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার হয়েছে বলে জানান নিসের মেয়র ক্রিস্টিয়ান এসট্রোসি। তার মতে, এই নৃশংস হিংসার ঘটনা নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসবাদী হামলা। প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্টো জানান, '' এই হিংসার ঘটনা আমাদের দেশের সামনে খুব গম্ভীর এবং নতুন একটা চ্যালেঞ্জ খাড়া করল।''
গির্জার ঘটনার পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনজীবীরা এই হামলার তদন্ত শুরু করেন। এদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জাতীয় সুরক্ষা বজায় রেখেছে ফ্রান্স। ফরাসী সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটর জন ফ্রাঙ্কোয়া রিকার্ড বলেছেন, পুলিশ রেকর্ডে বলা হয়েছে যে সন্দেহভাজন ২১ বছর বয়সী তিউনিশিয়ার নাগরিক যারা সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুর দিকে ফ্রান্সে এসেছিল। ইতালীয় রেডক্রস তার একটি নথি জারি করেছিল। পুলিশ সূত্র হামলাকারীর নাম ব্রাহিম আউটসোই জানানো হয়েছে। আরও বলা হয় যে, সেপ্টেম্বরে সে তিউনিসিয়া থেকে ইতালীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসার নৌকায় ভ্রমণ করে আসে।
























