আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ট্রাম্পে কী যাদু পেলেন মোদি?
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এদের বেশিরভাগই ভোট দেয় ডোমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীকে। অথচ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি আর ট্রাম্প যেন পরস্পরের রাজনৈতিক পরিপূরক।
আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ। ডনাল্ড ট্রাম্প নাকি জো বাইডেন কার ঘরে পড়বে এই ভারতীয় ভোটারদের বেশিরভাগের ভোট? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কি ডনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সাহায্য করবে?
এই প্রশ্নগুলো উঠে আসার মূল কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত নয়টি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের ভোট জয়-পরাজয়ে নির্ণায়ক শক্তি।
২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্প জিতেছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে। নির্বাচনের পর ‘ন্যাশনাল এশিয়ান-আমেরিকান সার্ভে’র রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ৭৭ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দিয়েছিলেন।
আসলে পরম্পরাগতভাবে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বেশি। কিন্তু এর মধ্যেও একটা ‘কিন্তু’ ছিল। ওই ৭৭ শতাংশের মধ্যে ৩৭ শতাংশ ‘ট্রাম্প খুব খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানদের ভোট ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে পড়েছিল আনুগত্যের কারণে। ৩৭ শতাংশ হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে অপছন্দ করেন বলে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর চার বছর ধরে ট্রাম্প নিজের সমর্থন-ভিত্তি ধরে রাখতে মন্ত্র দিয়েছেন ‘আমেরিকা বনাম ওরা’। অভিবাসন থেকে শুরু করে গর্ভপাতের অধিকার, আগ্নেয়াস্ত্র আইন ইত্যাদি নানাবিধ বিষয়ে বিতর্কিত প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন অতি কট্টর শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীকে।
আর একটা জিনিস হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ডনাল্ড ট্রাম্পের সখ্য বেড়েছে। সখ্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কূটনৈতিক নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্লোগান দিলেন ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার’ (এবার ট্রাম্প সরকার)।
২০১৯-এর ২২ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের হিউস্টনে প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয়-আমেরিকানের উপস্থিতিতে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি এবং ডনাল্ড ট্রাম্প একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন। ওই ৫০ হাজার ভারতীয়-আমেরিকানদের হর্ষধ্বনির মধ্যে বিজেপি কর্মীর স্টাইলে মোদি স্লোগান দিলেন ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার’।
ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারের মূল সুর গেঁথে দেয়া হলো। এখানেই শেষ নয়। ‘হাউডি মোদি’র স্টাইলেই ২০২০-এর ২৪-২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতে এলেন সস্ত্রীক ডনাল্ড ট্রাম্প। মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটের আহমেদাবাদে সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করলেন ট্রাম্প। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আবার একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন মোদি ও ট্রাম্প। অনুষ্ঠানের পোশাকি নাম ‘নামাস্তে ট্রাম্প’।
স্মরণে রাখতে হবে, ভারতীয়-আমেরিকানদের একটা বড় অংশ কিন্তু গুজরাটের আদি বাসিন্দা। সম্ভবত সে কারণেই গুজরাটে স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে এলেন সস্ত্রীক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা সংক্রমণ তখন শুরু হয়ে গেছে। ভোট অতি বিষম বস্তু।
এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার কৌশলে অনেকটাই চলতি দশক জুড়ে চলতে থাকা বিজেপির প্রচার কৌশলের ছাপ। ‘হিন্দুত্ব’ , ‘মুসলিম বিরোধিতা’, ‘বাম বিদ্বেষ’ সবই আছে ট্রাম্পের প্রচারে। বড় করে দেখানো হচ্ছে সেখানকার বামপন্থি ও মুসলমান সংগঠনগুলির ভারত বিদ্বেষকে।
জো বাইডেন ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভারতবিরোধী চিহ্নিত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করছে ‘হিন্দুত্ববাদী’ কয়েকটি সংগঠন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মোদি ও ট্রাম্প একে ওপরের পরিপূরক হয়ে উঠছেন।
চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে ভারত এবং আমেরিকা। দক্ষিণপন্থি আদর্শের মেলবন্ধনই মোদি-ট্রাম্পের সখ্য বাড়িয়ে তুলছে। ভীষণভাবেই ভারতের বর্তমান শাসকদলের প্রথম এবং শেষ পছন্দ ডনাল্ড ট্রাম্প।
- আইয়ুব খানের পদত্যাগের দিন আজ
- টাই পরা বাদ দিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করতে চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
- যুদ্ধবন্দী কারাগারে বোমা হামলা, পরস্পরকে দোষছে রাশিয়া-ইউক্রেন
- আবারও মক্কায় কালো পাথর স্পর্শ-চুম্বনের সুযোগ পাচ্ছেন মুসল্লিরা
- মাঙ্কিপক্স ঠেকাতে পুরুষদের সেক্স পার্টনার কমানোর পরামর্শ
- ভারতের স্বাধীনতা দিবস শনিবার
- গাজায় অ্যাম্বুলেন্সে হা*মলা, নি হ ত ৯ হাজার ছাড়িয়েছে
- ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের মালিক রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা মারা গেছেন
- মালিতে সন্ত্রাসী হামলায় ৪২ সেনার মৃত্যু
- ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য হিও গ্রাঞ্জে দো সুলে বনায় ৫৬ জন নি হ ত
























