ঢাকা, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৬:৩৯, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

ইরানি সাংবাদিক রুহুল্লাহ জামকে ফাঁসি কেন দেওয়া হলো?

ছবি: Amad news

ছবি: Amad news

সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইরানি এক সাংবাদিককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাঁর ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে বড় বড় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে।

তার বিরুদ্ধে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে অসন্তোষ সৃষ্টির জন্য উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। যার জন্য শনিবার রুহুল্লাহ জামকে ফাঁসি দেয়া হয়। এর আগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বহাল রাখে।

তবে কিভাবে রুহুল্লাহ জামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এটি পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। কারণ, রুহুল্লাহ জাম ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন। গত বছর তিনি ইরাকে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাকে ধরা হয়েছিল।

রুহুল্লাহ জামের অপরাধ

রুহুল্লাহ জাম আমাদনিউজ বলে একটি ওয়েবসাইট চালাতেন। এই ওয়েবসাইটটি ইরান সরকারের বিরোধী ছিলো এবং নিউজ ওয়েবসাইটটি বেশ জনপ্রিয় ছিল।

আমাদনিউজ ২০১৭-১৮ সালে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়, তাতে উস্কানি দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল ইরান সরকার। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে আমাদনিউজ যেসব সাংকেতিক বার্তা শেয়ার করতো, সেগুলো ফলো করতো প্রায় দশ লাখ মানুষ।

এই ওয়েবসাইটে আমাদনিউজ ইরানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের খবর ছাড়াও ইরানি কর্মকর্তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করতো।

যদিও পরে ইরান সরকার এই ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পরে সাইটটি আবার ভিন্ন-নামে আত্মপ্রকাশ করে।

রুহুল্লাহ জাম সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি ছিলেন ইরানের সংস্কারপন্থী ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ আলি জামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে 'বিশ্বকে কলুষিত' করার অভিযোগ আনা হয়। এটি ইরানের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের একটি বলে বিবেচনা করা হয়।

রুহুল্লাহ কি ‘অন্যায্য বিচারের’ শিকার?

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রুহুল্লাহ জাম 'অন্যায্য বিচারের' শিকার হয়েছেন, কারণ তার বিচার করা হয়েছে 'জোর করে আদায় করা স্বীকারোক্তির' ভিত্তিতে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রুহুল্লাহ জামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিল। তারা এটিকে 'ইরানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত' বলে বর্ণনা করে।

ফ্রান্স রুহুল্লাহ জামকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল। ২০০৯ সালে ইরানে যে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, তারপর রুহুল্লাহ জামকে আটক করা হয়েছিল।

আইআরজিসির অভিযোগ

তবে ফ্রান্সের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে উল্টো অভিযোগ করছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর আগে বলেছিল, তারা 'আধুনিক গোয়েন্দা তথ্য এবং উদ্ভাবনী কৌশল' প্রয়োগ করে রুহুলাহ জামকে আটক করে।

আইআরজিসির অভিযোগ, রুহুল্লাহ জামকে পরিচালনা করতো ফ্রান্স, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থাগুলো।

এসোসিয়েটেড প্রেস বার্তা সংস্থার মতে, রুহুল্লাহ জাম পরে টেলিভিশনে হাজির হয়ে তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়