ঢাকা, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২১ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৫:৩০, ২১ ডিসেম্বর ২০২০

কী জানা যাচ্ছে ব্রিটেনে পাওয়া নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস সম্পর্কে?

ছবি: GETTY IMAGES

ছবি: GETTY IMAGES

ব্রিটেনে নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের এ ভাইরাস প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটেনে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধিনিষেধ। আর এজন্য দায়ী করা হচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন বৈশিষ্ট্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়াকে।

তবে কয়েক মাস আগেও ইংল্যান্ডে এর কোন অস্তিত্ব ছিল না।  কয়েক মাস পরে এই নতুন ভ্যারিয়ান্ট বা বৈশিষ্ট্য-বিশিষ্ট করোনাভাইরাস কিভাবে এতটা ছড়িয়ে পড়লো তা নিয়ে ভাবছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটিশ সরকারের সংক্রমণ বিষয়ক উপদেষ্টারাও মোটামুটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, করোনাভাইরাসের নতুন এ বৈশিষ্ট্যটি অন্য বৈশিষ্ট্যের করোনার চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।  

নতুন এই বৈশিষ্ট্যটি কেমন?

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মূলত তিনটি কারণে করোনাভাইরাসের নতুন এই ভ্যারিয়ান্টটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে:

  • এটি ভাইরাসের অন্য সংস্করণগুলোকে প্রতিস্থাপিত করছে
  • এটির বিভাজন বা রূপান্তর ভাইরাসের কিছু অংশে পরিবর্তন আনে, যা গুরুত্বপূর্ণ
  • এসব বিভাজনের মধ্যে বেশ কিছু ল্যাবে পরীক্ষার পর দেখা গেছে যে এগুলো মানুষের দেহের কোষকে সংক্রমিত করার ভাইরাসের যে সক্ষমতা তা বাড়ায়

নতুন এসব বৈশিষ্ট্য ভাইরাসটিকে সহজে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের কোভিড-১৯ জেনোমিক্স কনসোর্টিয়ামের অধ্যাপক নিক লোমান বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ল্যাবরেটরিতে এ নিয়ে পরীক্ষার দরকার আছে, কিন্তু এর জন্য কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে অপেক্ষা করার সময় আছে কি? সম্ভবত এই অবস্থায় নয়।"

কত দ্রুত ছড়ায় নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটি?

ভাইরাসের এই নতুন ধরণটি সেপ্টেম্বরে প্রথম শনাক্ত করা হয়। গত নভেম্বরের দিকে লন্ডনে আক্রান্তদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ ছিলেন নতুন বৈশিষ্ট্যের এই ভাইরাসের শিকার। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় টীণ ভাগের দুই ভাগে।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এই বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটি ৭০ শতাংশ বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এটা হয়তো 'আর নাম্বার' বাড়িয়ে দিচ্ছে - এটার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, মহামারি কি আসলে ছড়িয়ে পড়ছে না-কি কমছে। এটা হিসাব করা হয় ০ থেকে ৪ এর মধ্যে।

যুক্তরাজ্যে চতুর্থ স্তরের বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ড. এরিক ভলজ-এর একটি উপস্থাপনায় সত্তুর শতাংশ বেশি হারে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে আসে।

তিনি বলেন, "এটা এখনই বলা খুব কঠিন ... কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, সেটি হচ্ছে যে এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, ভাইরাসটির অন্য যে কোন বৈশিষ্ট্যের তুলনায় এটি ছড়িয়ে পড়ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এর উপর নজর রাখতে হবে।"

তবে নতুন এই স্ট্রেইনটি কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার কোন নির্দিষ্ট হিসেব নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তাকে জানিয়েছেন যে, এটি ছড়িয়ে পড়ার হার ৭০ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, এটি আরও বেশি সংক্রামক কি-না?

"এখনও পর্যন্ত যে তথ্য জানা যাচ্ছে সেগুলো পর্যাপ্ত নয় এবং এগুলো অনুযায়ী কোন দৃঢ় মতে পৌঁছানোও সম্ভব নয় যে ভাইরাসটি আসলেই বিশালভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে," বলছেন ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক জোনাথন বল।

এটা কত দূর ছড়িয়ে পড়েছে?

ধারণা করা হচ্ছে যে ভাইরাসের এই স্ট্রেইনটি যুক্তরাজ্যেই কোন একজন রোগীর দেহে আর্বিভূত হয়েছে কিংবা এমন একটি দেশ থেকে এসেছে যেখানে ভাইরাসটিকে পর্যবেক্ষণ করার মতো তেমন কোন ব্যবস্থা নেই।

এটি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে, শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ড ছাড়া। কিন্তু এটি মূলত রাজধানী লন্ডন এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব ইংল্যান্ডেই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অন্য এলাকাগুলোতে খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

ভাইরাসটির জেনেটিক কোড নিয়ে কাজ করা নেক্সটস্ট্রেইন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, ডেনমার্ক এবং অস্ট্রেলিয়াতে যে ভাইরাসের স্ট্রেইনটি পাওয়া গেছে তা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে। নেদারল্যান্ডেও নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

এটা কী আগেও ঘটেছে?

হ্যাঁ। চীনের উহানে যে ভাইরাসটি প্রথমে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটির সাথে বিশ্বের অন্যান্য স্থানে থাকা ভাইরাসের কোনো মিল নেই।

D614G নামে ভাইরাসটি গত ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপে ধরা পরে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কাছাকাছি এই বৈশিষ্ট্যের।

A222V নামে আরেকটি ভাইরাসের স্ট্রেইনও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে, এবং স্পেনে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় এটি বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাসটির নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা কী জানি?

ভাইরাসটির নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রাথমিক একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটির ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কাজ করবে কি-না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে

ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন এসেছে - এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটির মাধ্যমেই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

N501Y নামে চিহ্নিত একটি পরিবর্তনে স্পাইকের ওই জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর এসেছে, যা "রিসেপ্টর-বাইন্ডিং ডোমেইন" নামে পরিচিত।

এর মাধ্যমেই ভাইরাসের স্পাইক মানুষের ত্বকের সঙ্গে প্রথম সংযোগ ঘটায়। যেকোন ধরণের পরিবর্তন, যা এই ভাইরাসটিকে শরীরে সহজে প্রবেশ করতে সহায়তা করে, তা ভাইরাসটির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

"এটাকে আপাত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন মনে হচ্ছে," বলেন, প্রফেসর লোমান।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়