ঢাকা, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

২৮ বছরে মিললো অভয়া হত্যার বিচার    

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

তিন দশক আগের কথা। ভারতের কেরালার কোট্টয়মের একটি মঠে খুন হন ১৯ বছরের এক তরুণী অভয়া (সিস্টার)। সেন্ট পায়াস নামক ওই মঠটিতে থাকা পানির কূপ থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে এই ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। 

কিন্তু কোনো রকমের কূল কিনারা করতে পারছিল না দেশটির পুলিশ সদস্যরা। আর এতে করে কেরালার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মামলায় রূপ নিয়েছিল এটি।

কিন্তু অবশেষে ২৮ বছর আগে সংগঠিত ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে দেশটির সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। 

আর সংস্থাটির করা তদন্তের ভিত্তিতে ওই মঠের ফাদার থমাস কোটর ও সিস্টার সেফির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে আদালত। সিবিআই স্পেশাল কোর্টের বিচারক জুনিয়র সানাল কুমার অভয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘ক্লিয়ার মার্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

কিন্তু এই রায় যখন মিলল, তখন অভয়ার মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। তারা জানতে পারেনি যে, তাদের মেয়ে যে মঠের সিস্টার হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং ওই মঠের ফাদার ও সিস্টারের হাতেই অভয়া হত্যার শিকার হয়েছেন। 

হত্যার শিকার অভয়ার বড় ভাই থমাস বিজু এই বিচারকে ‘ঐশ্বরিক বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। 
সেইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য তিনি গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান। দুবাই প্রবাসী বিজু জানান, গণমাধ্যম এই মামলাটিকে নিয়ে সরব ছিল। এতে করে এত বছর পরে হলেও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ার সঙ্গে বিচারও হয়েছে।

বিজু বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সময় আমি ২১ বছরের তরুণ ছিলাম, তখন গুয়াহাটিতে কাজ করতাম। পরে জীবিকার তাগিদে দুবাই চলে আসি।

তিনি উল্লেখ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পরে আমরা মামলাটি চালিয়ে গিয়েছিলাম। ২০১৪ সালে মামলাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তারপর আমরা আবার আপিল করেছিলাম। আর্থিক অনেক সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে মা-বাবা মারা যাওয়ার পর আমি সত্যি ভেঙে পরেছিলাম। দেশের বিচার ব্যবস্থার উপরও আস্থা চলে গিয়েছিল। সত্যি বলতে, কিছুটা হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। এই মামলাটির বিষয়ে না ভুলে যাওয়ার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়