ঢাকা, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৮:০১, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০

পাকিস্তানে প্রাচীন মন্দিরে আগুন দিলেন উন্মত্ত মুসলিম জনতা

পাকিস্তানের খাইবার প্রদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রাচীন মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে উন্মত্ত মুসলিম জনতা। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে কারাক জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, উন্মত্ত জনতা মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

জানা গেছে স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের উসকানিতে সহস্রাধিক মানুষ তেরি গ্রামের ওই মন্দিরে হামলা চালায়। দেয়ালের ইট খুলে নিতে থাকে। একপর্যায়ে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এ সময় মন্দিরের ভেতরে কেউ ছিল না।

এদিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা মন্দিরের ছাদে ওঠে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তাদের ধর্মীয় স্লোগান দিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে তার আগেই মন্দিরের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়ে যায়। 

পুলিশ জানায়, নিকটবর্তী একজন হিন্দুর নির্মাণাধীন বাড়িও তছনছ করা হয়।

জানা যায়, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় তাদের মন্দিরের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানালে এর বিরোধিতা করে  ধর্মীয় নেতারা এবং শত বছরের পুরোনো মন্দিরটি অপসারণে জনগণকে সংঘবদ্ধ করেন।

১৯১৯ সালে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে এ মন্দিরটি নির্মিত হয়। ১৯৯৭ সালে উন্মত্ত মুসলিম জনতা এটিতে হামলা চালায়। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মন্দিরের সংস্কার করা হয়।

পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের শাস্তি দিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে ধর্মীয় নেতাদের বক্তব্যে স্থানীয় মানুষ উত্তেজিত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়।

দেশটির ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টি  এ ঘটনার নিন্দা জানায়। এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করে।

স্থানীয় পিটিআই নেতা লাল চান্দ মালহি বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, দোষীদের যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার করা হবে।’

আইনিউজ/এইচএ

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়