ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ১৩ ১৪২৮

সীমান্ত দাস

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ১২ জানুয়ারি ২০২২

ধূমপানের ক্ষতি ও সিগারেট ছাড়ার উপায়সমূহ

অনেকেই শখের বসে সিগারেট খান। সিগারেট ধূমপান শখের বসে শুরু হয়, শেষ হয় বুড়ো বয়সে ক্যান্সার বা ফুসফুসে, গলায়, মুখে বিভিন্ন রোগের মাধ্যমে। একটি সিগারেট খেয়ে আপনি হয়তো টের পাবেন না কতোটা ক্ষতি করেছে আপনার সিগারেটটি, তবে যারা নিয়মিত সিগারেট খায় তাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা অনেক গুণাগুণই কিন্তু হারিয়ে ফেলেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর ধূমপানের কারনে গড়ে ৮০ লক্ষ মানুষ মারা যায়৷ এদের মধ্যে ৭০ লক্ষ এর মতো মানুষ মারা যায় সরাসরি তামাকের কারনে সৃষ্ট রোগে এবং বাকিরা মারা যায় অন্যান্য রোগে যেখানে ধূমপান একটি বড় প্রভাবক ছিলো। সুতরাং ধূমপান এর প্রভাব ও এর ক্ষতির মাত্রাকে কোনভাবেই অবজ্ঞা করলে চলবে না। আজকের এ লেখাটি থেকে আমরা জানবো ধূমপানের ফলে মানবদেহে কি কি ভয়ংকর সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে৷

তাই সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও সেটা ছাড়তে হবে। ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরণের রোগের সৃষ্টি করে ধূমপান। তাই আপনার জানা উচিত- সিগারেটের ক্ষতি, ধূমপানে যেসব ক্ষতি হয়, কিভাবে সিগারেট ছাড়বেন, সিগারেট ধূমপান ছাড়তে আপনাকে যা করতে হবে, ধূমপান বা সিগারেট ছাড়ার উপায়সমূহ।

সিগারেট বা ধূমপানের ক্ষতি

সিগারেট বা ধূমপান আপনার যেসব ক্যান্সারের কারণ হতে পারে

ধূমপান ও ক্যান্সার, বর্তমান যুগে যেন এক প্রকার সমার্থক শব্দ হয়ে গিয়েছে। আর হবেই না বা কেন, মানবদেহে যত ধরনের ক্যান্সারের সৃষ্টি হয় তার কারন অনুসন্ধান করলে দেখা যায় এর জন্য ধূমপান ই প্রধান কিংবা অন্যতম কারন৷ যেসকল ক্যান্সারের জন্য ধূমপানকে অন্যতম প্রধান কারন হিসেবে জানা যায় সেগুলো হলোঃ 

  • মুখগহ্বর এর ক্যান্সার
  • গলার ক্যান্সার
  • স্বরযন্ত্রের ক্যান্সার
  • খাদ্যনালীর ক্যান্সার
  • যকৃতের ক্যান্সার
  • বৃক্কের ক্যান্সার
  • জরায়ুর ক্যান্সার
  • মূত্রথলির ক্যান্সার
  • অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার
  • পাকস্থলীর ক্যান্সার
  • ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সার
  • ফুসফুসের ক্যান্সার

দেখা যাচ্ছে যে শরীরের প্রায় সকল অঙ্গের ক্যান্সারের-ই অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে এই ধূমপান। বিশেষত ফুসফুসের ক্যান্সার এর ক্ষেত্রেই ধূমপানের প্রভাবটা সবচেয়ে মারাত্নক। ক্যান্সার ছাড়াও অন্যান্য অনেক ধরনের রোগের কারন হচ্ছে ধূমপান।

ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ সৃষ্টি করে সিগারেট

ধূমপানের ফলে ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের এ ধোঁয়াতে প্রায় ৭০০০ রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অন্তত ৬৯ টি উপাদান বিদ্যমান থাকে যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সাধারনত ধূমপানের ফলে অন্যান্য সকল অঙ্গের চেয়ে ফুসফুসকেই বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়৷ গবেষনা মতে, যদি কেউ ধূমপান না করতো, তাহলে পৃথিবীর ৮৫% ফুসফুসের ক্যান্সারের ঘটনা ঘটতো না। ধূমপানের ফলে ফুসফুসে ক্যান্সারের পাশাপাশি COPD, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসেমা, Smoker’s Cough প্রভৃতি রোগ সৃষ্টি করে থাকে।

হৃদযন্ত্রে ও রক্তপ্রবাহে যেসব ক্ষতি হয়

ধূমপানের ফলে সিগারেটের যে বিষাক্ত ধোঁয়া শরীরে প্রবেশ করে, এর মধ্যে থাকে কার্বন মনোক্সাইড এর মত বিষাক্ত গ্যাস। এটি হৃদপিন্ডে পৌছে রক্তের হিমোগ্লোবিন এর সাথে যুক্ত হয়ে যায় ও দেহের নানান অংশে ছড়িয়ে যায়৷ রক্তের হিমোগ্লোবিন এর সাথে কার্বন মনোক্সাইড যুক্ত হওয়ার ফলে অক্সিজেন যুক্ত হওয়ার পরিমান কমে যায়, ফলে সারাদেহে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যায়।

এছাড়াও ধূমপানের ফলে হৃদপিন্ডে রক্তের প্রবাহ অনেক কমে যায়, তাই হৃদপিন্ডের পক্ষে সারাদেহে প্রয়োজনীয় পরিমানে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। একে Coronary Heart Disease (CHD) বলে। এর ফলে হৃদপিন্ডের নানান রোগ এবং হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, এমনকি মস্তিষ্কে স্ট্রোক ও হতে পারে। 

এছাড়াও ধূমপানের কারনে হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার কারনে হাত ও পায়ে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। এর ফলে হাটার সময়ে পায়ে ব্যাথা হতে পারে, এমনকি যদি হাতে ও পায়ে কোন ক্ষত হয় রক্তপ্রবাহ কম থাকার ফলে তা আর নাও সারতে পারে। এই কারনে অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তাররা ধূমপায়ীদের শরীরে কোন ধরনের অপারেশন করতে পারেন না যতদিন না তারা ধূমপান ছেড়ে দিচ্ছে।

সুস্থ জীবন পেতে হলে সিগারেটকে না বলুন

বাহ্যিক অঙ্গে সিগারেটের প্রভাব

ত্বক

আমাদের শরীরের সম্পূর্নটাই আবৃত ত্বক দ্বারা। তাই এটি আক্রান্ত হলে সম্পূর্ন শরীরেই এর কোন না কোন প্রভাব পড়বেই। ধূমপানের ফলে এ ত্বকের ও ক্ষতি হয়। ধূমপানের ফলে যেসকল বিষাক্ত পদার্থ দেহে প্রবেশ করে, তা ত্বকের অভ্যন্তরীণ গঠনকে পাল্টে দেয়। এছাড়াও এর ফলে ত্বকীয় কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, যার ফলে স্কিন ক্যান্সারের সৃস্টি হয়ে থাকে।

চুল

সিগারেটের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে নিকোটিন। আর এ নিকোটিন চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। নিকোটিন গ্রহনের ফলে অসময়ে চুল পেঁকে যাওয়া বা সাদা হয়ে যাওয়া, চুল পড়া, মাথায় টাক হওয়া এমনকি সম্পূর্নরূপে চুল ঝড়ে পড়ে ন্যাড়া হয়ে যাওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে। তাই চুল পড়া বন্ধ করার জন্য হলেও ধূমপান ত্যাগ করা উচিৎ।

নখ

ধূমপানের ফলে নখের ও ক্ষতি হয়ে থাকে। একটি গবেষনায় এসেছে, ধূমপানের ফলে ধূমপায়ী ব্যক্তির নখে ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং তা সহজে ভালোও হয়না, কারন ধূমপায়ীদের দেহে রক্তপ্রবাহ কম থাকে।

দাঁত

ধূমপানের ফলে গাম ডিজিজ (মাড়িকে আক্রান্ত করে এমন একটি রোগ) এর সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়াও দাঁতের গঠন দূর্বল হয়ে যায়, সহজেই দাঁত পড়ে যেতে পারে।

ধূমপানে রয়েছে করোনার ঝুঁকিও

পরিসংখ্যান বলছে, যারা অধূমপায়ী তাদের চেয়ে ধূমপায়ীদের শরীরে করোনা ভাইরাস সহজে আক্রমণ করে। এর কারণ ধূমপায়ীদের শরীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ফুসফুস আগে থেকেই দূর্বল থাকে৷ তাছাড়াও করোনা ভাইরাস আক্রমণ করলে সাধারনত সবাইকে আইসিউ বা হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে এমন হয়না, কিন্তু ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করলে তা বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করে থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই৷ ফলে হাসপাতাল এ ভর্তি হতে হয় ও আইসিউ এ থাকার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়।

সুতরাং একজন ধূমপায়ী ব্যক্তি অবশ্যই একজন অধূমপায়ী ব্যক্তির তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এছাড়াও যেখানে সারাবিশ্ব শারীরিক দূরত্ব রাখার কথা বলছে সেখানে যারা গ্রুপ হয়ে ধূমপান করছে তাদের দেখা যায় সিগারেট শেয়ার করতে। এতে অনেকক্ষেত্রেই অন্য এক ধূমপায়ীর লালা বা অদৃশ্য ভাইরাস সিগারেটের গোঁড়ায় লেগে থাকে। সেক্ষেত্রেও করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

সিগারেট ছাড়ার উপায়সমূহ

বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত চিকিৎসক অরূপ রতন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই তামাকজাত পণ্যে ব্যবহারের বিপক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ধূমপান একটি আসক্তি। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে নিম্নোক্ত পন্থাগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

১. আজ এখুনি ধূমপান ছাড়ার প্রতিজ্ঞা করুন। টেবিল কিংবা পকেটে রাখা সিগারেটের প্যাকেট ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলুন

২. একদিন ধূমপান না করে দেখুন। এরপর পার্থক্য অনুভব করার চেষ্টা করুন। এরপর দুইদিন , তিনদিন ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। তাহলে অভ্যাস গড়ে উঠবে।

৩. আপনার আশপাশে যারা ধূমপান বর্জন করেছে তাদের অনুসরণ করুন। তাদের স্বাস্থ্যগত কী পরিবর্তন এসেছে সেটি জানার চেষ্টা করুন।

৪. একটা হিসেবে করে দেখুন তো সিগারেট কিংবা তামাকজাত পণ্যের জন্য প্রতিমাসে আপনার কত টাকা খরচ হয়? হিসেব করে দেখলে ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য সহজ হবে। সে টাকা জমিয়ে অন্য খাতে খরচ করতে পারেন।

৫. আপনার ধূমপায়ী বন্ধুদের সঙ্গ সুকৌশলে এড়িয়ে চলুন।

৬. সিগারেট ছাড়ার পর মুখে চুইংগাম কিংবা আদা চিবোতে পারেন। তাহলে ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমে আসবে।

৭. যে সময়টিতে আপনার ধূমপান করতে ইচ্ছা করবে সে সময়ে রাস্তায় হাঁটুন। তাহলে ধূমপানের চাহিদা থাকবে না।

৮. যে কোন জায়গায় ধূমপান কর্নার থেকে দূরে থাকুন

৯. ধূমপান বিরোধী এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বই পড়তে পারেন

১০. নিরুপায় হলে সর্বশেষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে কাউন্সেলিং-এর সহায়তা নিতে পারেন।

চিকিৎসক অরূপ রতন চৌধুরী বলছেন, ধূমপান ছাড়ার জন্য কোন প্রস্তুতির দরকার নেই। আপনার একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

সিগারেট ছাড়ার ৭ টি কার্যকরী উপায়

সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্তই প্রথম পদক্ষেপ

যেকোনও লক্ষ্যে সফল থেকেই প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। অনেকেই হুট করে সিগারেট ছেড়ে দেন, তবে তা ৪-৫ দিনের বেশি ধরে রাখতে পারেন না। খুব দৃঢ় মনোবল না থাকলে কারো পক্ষেই এত তীব্র আসক্তি এভাবে ত্যাগ করা সম্ভব হয়না। এছাড়াও হঠাৎ নিকোটিনের অনুপস্থিতি কিছু সাময়িক শারীরিক সমস্যার ও সৃস্টি করে, যার সমাধান করার জন্য দেখা যায় পুনরায় সেই সিগারেটেই ফিরে যান আসক্তরা।

আপনি যদি প্রকৃত অর্থেই এই ভয়ংকর আসক্তিটি থেকে মুক্ত হতে চান, আপনার সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী আগানো উচিত। নিজের আসক্তির কারন নিয়ে নিজের কাছে নিজের আগে পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। তখনই শুধুমাত্র সে ধারনা অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করে সিগারেটের এই আসক্তি থেকে মুক্তিলাভ করা সম্ভব হবে। তাই আপনি শুরুতেই আগে নিজের সমস্যাটি নিয়ে গভীরভাবে ভেবে কিছু তথ্য বিশ্লেষন করুন। এভাবে নিজেকে নিয়ে নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন।

এক্ষেত্রে আপনি নিজে ধূমপায়ীর বিষয়ে কিছু ধারণা থাকা উচিত।

  1. সিগারেট আসক্তির মাত্রা কোন পর্যায়ে আছে তা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। যদি আপনি চেইনস্মোকার হন অর্থাৎ দিনে এক প্যাকেটের বেশি সিগারেট প্রয়োজন হয়, সিগারেট ছাড়া থাকতেই পারেন না এরকম ভয়াবহ পর্যায়ের আসক্তিতে আপনাকে অবশ্যই বাকিদের তুলনায় আলাদাভাবে বেশি করে চেষ্টা করতে হবে। 
  2. আপনি সাধারনত যে সময়টাতে সিগারেটের ব্যাপক ইচ্ছা অনুভব করেন যেমন খাবার খাওয়ার পর, বিকাল সময়ে, চা খাওয়ার পর, এরকম যে যে কাজের পর আপনার সিগারেটের ইচ্ছা হয় তার একটি তালিকা তৈরি করুন।
  3. যেই বিশেষ ব্যক্তির সাথে আপনার সিগারেট বেশি পান করা হয়ে থাকে যেমন কোন বন্ধু, বা বন্ধুদের গ্রুপ, এরকম থাকলে তা চিহ্নিত করুন।
  4. এবার আপনার সিগারেট খাওয়ার সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা ও সে অনুযায়ী কাজ শুরু করে দিন৷ যেকোন আসক্তিই চাইলেই ছেড়ে দেওয়া যায়না, এবং ছাড়তে বেশ কষ্টই হয়।

আজকে থেকে সিগারেট আর ধরবোই না, শুধুমাত্র এই সংকল্প নিয়ে এই অভ্যাস দূর করতে চাইলে ভালোরকম সম্ভাবনা আছে আপনি আবারো সিগারেটেই ফেরত যাবেন। কারন অনেকগুলো বিষয় আছে যা আপনাকে এই বাজে অভ্যাসটিতে ফিরে যেতে প্ররোচিত করবে।

আপনার মস্তিষ্ক সহজে চাইবে না আপনি এতদিনের সিগারেটের অভ্যাস হুট করে বদলে ফেলুন। তাই সিগারেট ছাড়ার এই কাজ টি করতে হবে বুদ্ধিমত্তার সাথে ও সঠিক কর্মপন্থায়। কিছু কাজের মাধ্যমে আপনার জন্য সিগারেট ছাড়া ও আর কখনো এই বাজে অভ্যাসে ফেরত না যাওয়াটা সহজ হয়ে যায়।

'ঢাকঢোল পিটিয়ে' সিগারেট ছাড়ুন

একা একা অভ্যাস ছাড়ার চেয়ে সবাইকে জানালে সেই অভ্যাসটা ছাড়া সহজ হয়ে যায়, কারন তখন সবার সামনে সে কাজ করা যায়না। একটি জবাবদিহিতার মত ব্যাপার চলে আসে। তাই শুরুতেই, সকলকে জানিয়ে দিন, আপনি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন।

এতে যা হবে, যখনই পরিবারের কারো সামনে, বা অন্য কারো সামনে সিগারেট খেতে যাবেন, তারা মনে করিয়ে দিবে আপনার প্রতিজ্ঞার কথা। তাছাড়া তাদের সামনে প্রতিজ্ঞা করেও তা ভেঙে সিগারেট খেতে আপনার ও খারাপ লাগবে, একটু ইতঃস্তত বোধ করবেন। এই অনুভূতিটাই আপনাকে অনেকক্ষেত্রেই সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত রাখবে।

সিগারেটের চেহারাও মাথায় আনবেন না

আপনার গাড়ি, কামরা, বাড়ি থেকে সকল সিগারেটের প্যাকেট ছুড়ে ফেলে দিন। আপনার হাতের নাগালের মধ্যে যদি এসব থাকে আপনি হয়ত প্ররোচিত হয়ে সিগারেট খেতে পারেন। তাই এসব কিছু আপনার কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

সিগারেটখোরদের ছাড়ুন

স্বাভাবিকভাবেই আপনার সামনে অন্য কেউ সিগারেট খেলে এতদিনের পুরানো অভ্যাসের কারণে আপনার ও সিগারেটের তীব্র ইচ্ছা জাগবে। তাই আপনার সামনে কাউকেই সিগারেট খেতে নিষেধ করে রাখবেন। হতে পারে তা বন্ধু বা বাসারই অন্য কেউ। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সে স্থান থেকে সরে আসুন।

ধূমপায়ী বন্ধুদের আড্ডার স্থানে কয়েকদিন যাবেন না। যতটা সম্ভব ধূমপানরত কারো থেকে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করুন, যাতে আপনার মনে আবারো সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা জেগে না উঠে।

সিগারেট না খাওয়ার জন্য নিজেকে পুরস্কার দিন

যেকোন নতুন অভ্যাস গঠনে এটি বেশ কার্যকর একটি পদ্ধতি। নিজের জন্য নিজেই কয়েকটি “Reward System” রাখুন। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। আপনি নিজে নিজে ঠিক করলেন, যদি আমি আজকে সারাদিন সিগারেট না খেয়ে থাকতে পারি, তাহলে রাতে এই মুভিটা দেখবো। যদি এই সপ্তাহ টা সিগারেট না খেয়ে থাকতে পারি, তাহলে এই নতুন জামাটি কিনবো। এতে যখন আপনি রাতে ফাইনালি মুভিটা দেখবেন, সেটি হবে আপনার সারাদিন ধূমপান থেকে দূরে থাকার পুরস্কার।

আমাদের মস্তিষ্ক এ ব্যাপারটি খুব ভালোভাবে গ্রহণ করে। এর ফলে আপনি একটি প্রসেসে পুরষ্কারের জন্য কাজ করছেন, মোটিভেটেড থাকছে ও এতে আপনার অভ্যাসটিই ধীরেও ধীরে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

সিগারেট কেনো ছাড়ছেন তা মনে রাখবেন

এইযে সিগারেট থেকে দূরে আছেন, এর দ্বারা আপনি অর্জন করছেন একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ জীবন, আপনার নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা ইত্যাদি৷ এর ফলে আপনি সিগারেট ছাড়ার কারন বা মোটিভ নিয়ে নিশ্চিত থাকবেন, ফলে মস্তিষ্ক ও আপনাকে এই অভ্যাসটি ছাড়তে সাহায্য করবে।

'এই লাস্ট সিগারেট' ফাঁদে পা দিবেন না

আপনার খুব বেশি সিগারেট খেতে ইচ্ছা করছে, আপনি আর টিকতে পারছেন না। আপনি ভাবছেন মাত্র একটা সিগারেট ই তো, খেয়ে এই অস্থির অবস্থাটা থামিয়ে আবারো মনোনিবেশ করতে পারবো, সিগারেট ছেড়ে দিতে পারবো, আপাতত এই সমস্যাটার জন্য সিগারেট খাই। এই ফাঁদে কখনোই পা দেওয়া যাবে না। আপনি যখনই এই বাধাটা সরিয়ে দিয়ে একটি সিগারেটের অনুমতি নিজেকে দিয়ে দিবেন, তখন আপনাআপনিই আরো অনেক সিগারেট ও আপনার খাওয়া হয়ে যাবে।

মোদ্দাকথা আপনার আর এই ধূমপানের অভ্যাসটি ত্যাগ করা হয়ে উঠবে না। মনে করে দেখুন, সিগারেটের নেশা যখন আপনি শুরু করেছিলেন তখনো কিন্তু ভেবেছিলেন একটা সিগারেট খেলেই আসক্ত হবেন না, খাওয়াই যায়, কিন্তু শেষ অব্ধি কিন্তু আসক্ত হয়েই গিয়েছিলেন।

ধূমপানে মৃত্যুঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাক গ্রহণকারীদের ৫০% মানুষের ই মৃত্যুর কারন এর সাথে এই ধূমপান জড়িত থাকে। ধূমপায়ী ব্যক্তিদের অর্ধেক সংখ্যক মানুষ ই এজন্য মৃত্যুবরণ করে। ধূমপানের ফলে একদিকে যেমন আয়ু কমে যায়, তেমনি অন্যান্য রোগে সহজে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, যা প্রায় ৫০%।

আইনিউজ/এসডি

মানসিক চাপ কমাবেন যেভাবে

চিনির কারণে প্রতিবছর সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে

বয়স পঞ্চাশের আগেই বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা

সহবাসে পুরুষের অক্ষমতা, সেক্স এডুকেশনের অভাব?

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়