ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২,   আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

সীমান্ত দাস

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ৯ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১৩:৪০, ৯ জানুয়ারি ২০২২

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির উপস্থিতির মাত্রা বৃদ্ধি করে। খাবার খেয়ে শরীরে গ্লুকোজ হয়। এই গ্লুকোজ কোষগুলিতে ইনসুলিন-মুক্তির হরমোন হিসাবে কাজ করে। যাতে তারা শক্তি পেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগ বোঝার আগে ইনসুলিনের গুরুত্ব বুঝতে হবে। ইনসুলিন হলো এরকম একটি হরমোন। যা শরীরে কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটগুলির বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন ছাড়া গ্লুকোজ শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। এটি রক্তনালীতে জমা হয়। এটি কোনও ব্যক্তিকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত করে তোলে।

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ। যা রোগীদের কখনোই সম্পূর্ণ নিরাময় হয়না। কিছু চিকিৎসা দিয়ে, আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আগের যুগে, এই রোগটি শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেই ঘটত । তবে আজকাল এই রোগটি যে কারোও মধ্যে ধরা পড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো তাদের ভুল খাদ্যাভাস। সুষম খাদ্য গ্রহণ করা গেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আপনাকে জানতে জানতে হবে ডায়াবেটিস বা সুগার বা বহুমূত্ররোগ সম্পর্কে। ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের প্রকারগুলি কী কী? ডায়াবেটিসের কারণ কী? ডায়াবেটিস লক্ষণগুলো কি কি? ডায়াবেটিসের চিকিৎসা কী? ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের ঘরোয়া টোটকা কী? ডায়াবেটিসে কি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? এরকম বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানলেই ডায়াবেটিস সম্পর্কে ধারণা হয়ে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস সম্পর্কে। এর প্রতিকার-প্রতিরোধ-চিকিৎসা এবং সবশেষে জেনে নেওয়া হবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস

বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে দেড় কোটিতে।

ডায়াবেটিস দুই প্রকার

বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ড. এ কে আজাদ খান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, ডায়াবেটিস প্রধানত টাইপ-ওয়ান ও টাইপ-২, এই দুইভাবে আমরা ভাগ করি। আমাদের দেশে ৯৫ শতাংশ রোগী টাইপ-২ ধরনের।

টাইপ-ওয়ান হচ্ছে যাদের শরীরে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাদের ইনসুলিন বা পুরোপুরি ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেজন্য সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তবে টাইপ-২ ধরনের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করে রাখলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ঠেকিয়ে রাখা বা বিলম্বিত করা সম্ভব।

আপনার ডায়াবেটিস আছে কি না বুঝবেন কিভাবে?

ডায়াবেটিস এমন একটা রোগ, যাতে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ আক্রান্ত হয় না। বরং বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বিপাক ক্রিয়ার অসুবিধার সমষ্টিই হলো ডায়াবেটিস। যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গের অসুখ নয়, তাই নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণও প্রকাশ পায় না। মজার বিষয় হলো প্রায় অর্ধেক রোগীর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণই থাকে না। অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা নিতে এসে বা কোনো রুটিন পরীক্ষার সময় তাঁদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে।

অনেকেই মনে করেন, বেশি বেশি প্রস্রাব হওয়া মানেই ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে, তবে সেটিই একমাত্র লক্ষণ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের ত্রিমুখী লক্ষণ প্রকাশ পায়। সেগুলো হলো ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়া, ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। আপনার বা আপনার কাছের কারো যদি এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, তবে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

ওজন কমবে

ডায়াবেটিসের আরো একটা লক্ষণ হচ্ছে ওজন কমে যাওয়া। এধরণের রোগীদের প্রচুর খাবার পরেও দিন দিন ওজন কমে যায়। ওজন অবশ্য অনেক কারণেই কমতে পারে। তবে কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমতে থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিৎ। রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, সামান্য কাজ করার পরই দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে। বেশি বেশি ঘুম পায়। কাজে মনোযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়। রক্তের অতিরিক্ত শর্করা জীবাণুর বংশ বৃদ্ধির জন্যে ভালো কাজ করে। এসময় শরীরে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জনিত বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দেয়। চর্মরোগ বা অন্যান্য ইনফেকশন হতে পারে। এ ধরণের রোগীদের শরীরে কোনো ঘা হলে তা শুকাতে দেরি হয়। 

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুব সচেতন নন। তাঁরা সাধারণত ছোট খাটো সমস্যাগুলোকে পাত্তা দেন না। অথচ সেগুলোই হতে পারে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ। যে সময়ে তাঁরা ডাক্তারের কাছে আসেন, তাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসার জন্যে আসেন ডায়াবেটিসের নানা ধরণের জটিলতা নিয়ে। প্রাথমিক অবস্থার পরে ডায়াবেটিসের বিভিন্ন জটিল লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। রক্তের অতিরিক্ত চিনি শরীরের বিভিন্ন রক্তনালীতে রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিস হলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেড়ে যায়। যে কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়। বেড়ে যায় ব্রেইন স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং হার্ট এটাকের মতো নানা প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি।

চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়

ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের বিভিন্ন অংশের বিশেষ করে চামড়ার নিচের স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হাত পায়ে জ্বালা পোড়ার অনুভূতি হয়। অনেক রোগী ডাক্তারের কাছে এসে এমনও বলেন, তাঁরা পায়ের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারেন না, পা পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়। অনেক সময় পায়ে বড় কোনো ক্ষত হলেও রোগীরা টের পান না বা ব্যথা অনুভব করেন না। এ সময় পায়ে কোনো ঘা হলে সেটা সহজে শুকায় না। এ অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিক ফুট। অনেক সময়ই এ রকম রোগীদের পায়ের কোনো আঙ্গুল এমনকি পুরো পাই কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। রক্তের অতিরিক্ত শর্করা চোখেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের জ্যোতি দিন দিন কমে যায়, ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে একসময় তাঁরা অন্ধও হয়ে যেতে পারেন।

তবে এগুলো সবই ডায়াবেটিসের শেষ স্তরের জটিলতা। প্রাথমিক অবস্থা থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা করালে এসব জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। যদি আপনার প্রাথমিক লক্ষণের কোনো একটি প্রকাশ পায়, যেমন ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগা বা অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া, তবে তখনই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এমনকি যদি আপনার এসব লক্ষণ নাও থাকে, তারপরও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ অনু্যায়ী রক্ত পরীক্ষা করানো উচিৎ। বলা হয়ে থাকে রক্তের যে কোনো পরীক্ষা করাতে গেলেই গ্লুকোজের মাত্রাটা মেপে নেয়া উচিৎ।

গ্লুকোজের পরিমাণ জেনে রাখুন

ডায়াবেটিস রোগীদের রক্ত পরীক্ষা মূলত তিন রকমের হয়।  র‍্যান্ডম ব্লাড সুগার বা যে কোনো সময় রক্তের গ্লুকোজ মাপা। এক্ষেত্রে আপনি কখন খেয়েছেন, তা বিবেচনায় নেয়া হয় না। আর একটা পরীক্ষা হলো ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট বা OGTT। এক্ষেত্রে যা করা হয়, সাধারণত ৮ থেকে ১২ ঘন্টা না খেয়ে থাকা অবস্থায় একবার রক্তের গ্লুকোজ মাপা হয়। এরপর রোগীকে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। খাবার ২ ঘণ্টা পরে আবার গ্লুকোজ মাপা হয়। দুই বারেই যদি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে মনে করা হয়। এই পরীক্ষাটা মূলত প্রথমবার ডায়াবেটিস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে করা হয়। আমাদের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা কতো, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক কতোটা বাড়লে তাকে ডায়াবেটিস হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে ইত্যাদি বিষয় সেখানে আলোচনা করা হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের আরো এক ধরণের পরীক্ষা আছে, হিমোগ্লোবিন A1c। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় রোগীর ডায়াবেটিস গত দুই তিন মাসে ঠিক কতোটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। এছাড়া তাকে যে ওষুধ দেয়া হয়েছে, সেটি ঠিক ঠাক কাজ করছে কিনা, ওষুধের ডোজের কোনো কম বেশি করতে হবে কিনা, সেটাও বোঝা যায় এই পরীক্ষার মাধ্যমে। 

সত্যি বলতে ডায়াবেটিস অনেক জটিল রোগ হলেও প্রাথমিক অবস্থায় একে নির্ণয় করতে পারলে চিকিৎসা করাটা অনেক সহজ হয়। তাছাড়া অনেক জটিলতাও এড়ানো যায়। তাই ছোট খাটো শারীরিক সমস্যাগুলোর প্রতিও নজর দিন।

ডায়াবেটিস লক্ষণগুলো কি কি?

  • ঘন ঘন  খিদে লাগা । 
  • দুর্বল দৃষ্টিশক্তি।
  • ক্লান্ত ও দুর্বল বোধ হওয়া।
  • আঘাত থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধার
  • ঘন মূত্রত্যাগ। 
  • ত্বকের সংক্রমণ
  • চামড়া ফেটে যাওয়া।
  • শুষ্ক ত্বক। 
  • শরীরের ওজন হ্রাস।
  • ঘন ঘন তৃষ্ণা।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

ডায়াবেটিসের  চিকিৎসায়, চিকিয়ৎসাক চিনির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের যথাযথ খাওয়া এবং ব্যায়াম, যোগের মতো শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করার পরামর্শ দেন। ডায়াবেটিস সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে, চিকিৎসকরা প্রথমে রোগীর চিনির স্তর পরীক্ষা করেন। এই ব্লাড সুগার টেস্ট দুটি উপায়ে করা হয়।

প্রথম রক্তে চিনির পরীক্ষা খালি পেটে এবং দ্বিতীয় রক্তে শর্করার পরীক্ষা খাওয়ার পরে করা হয়। পরীক্ষার পরে, কিছু ওষুধ, যেমন: মেটফর্মিন, চিনির স্তর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দেওয়া হয়। এটি কেবলমাত্র ডায়াবেটিস টাইপ 2 রোগীদের দেওয়া হয়। এই ড্রাগগুলি ইনসুলিন উৎপাদন উৎসাহিত  করে। শরীরকে ইনসুলিন আরও ভালভাবে ব্যবহার করতে সহায়তা করে।

টাইপ 1 এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসের রোগীদের চোখের রেটিনা, ছানি ইত্যাদি একবারে পরীক্ষা করা উচিত।

ডায়াবেটিস রোগীর প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা

শক্তি প্রদানকারী খাদ্য

প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২৫-৩০ কিলোক্যালরি/প্রতিদিন। যাদের দৈহিক স্থূলতা আছে (বিএমআই ২৫-এর বেশি) তাদের জন্য ৩৫ কিলোক্যালরির কম।

শর্করা জাতীয় খাদ্য

মোট শক্তির ৫৫%-৬০% শর্করা থেকে আসতে হবে। এর প্রধান উৎস হতে পারে ভাত, রুটি, ডাল, মাছ-মাংস ও শিম ইত্যাদি। পরিশোধিত শর্করা যেমন- চিনি, মধু, ময়দা, গুড়, মিছরি, বেকারির তৈরি বিভিন্ন রকম খাদ্যদ্রব্য-পাউরুটি, কেক, বিস্কিট ইত্যাদি ও তেলে ভাজা খাবার-যতটা সম্ভব ত্যাগ করতে হবে।

আমিষ জাতীয় খাদ্য

প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ৮ গ্রাম করে আমিষ প্রতিদিন খেতে হবে। গর্ভধারণ ও বাচ্চাকে স্তন্যদানের সময় এর পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে হবে (১২ গ্রাম/কেজি/দিন)। মাছ সবচেয়ে ভাল। তারপর মাংশ (বিশেষত মুরগির। দই ও দুধ খাবেন নিয়মিত। লাল মাংশ (গরু, খাসির মাংশ) বর্জন করাই উত্তম।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে আমিষ জাতীয় খাদ্য ও উপাদান সমূহ সবচেয়ে কম ঝুকিপূর্ণ।

চর্বি জাতীয় খাদ্য

প্রতিদিনের মোট প্রয়োজনীয় ক্যালরির ২০%-২৫% চর্বি থেকে আসলে ভাল। এর উৎস হতে পারে রান্নার তেল, ঘি, ডিম ইত্যাদি। তবে অসমসত্ব চর্বি (আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট) খাবার দিকে বেশি আগ্রহ থাকতে হবে। রান্নার তেল ও মাখন মিলিয়ে একজন ডায়াবেটিস রোগী মাসে ৭৫০ গ্রাম তেল খাবেন। বাদাম তেল, শর্ষের তেল ও সয়াবিন তেল-সব ধরনের তেলই মিলিয়ে মিশিয়ে খেতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ চামচ ঘি খাওয়া যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীরা ইচ্ছামতো খেতে পারবেন যা

নিচের তালিকার খাদ্যদ্রব্যগুলো ডায়াবেটিস রোগীরা কোনো প্রকার ক্যালরি হিসেব ছাড়াই খেতে পারবেন। ডায়াবেটিস রোগী তার রুচি ও অভ্যাস মতো এর যেকোন এক একটি খাবার প্রতিদিনই খেতে পারবেন।

  • চা বা কফি (চিনি ছাড়া)
  • মসলা (ধনে, জিরা, হলুদ, মরিচ, আদা , রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদি)।
  • খাবারের ফ্লেভার বা সুগন্ধ (ভেনিলা, স্ট্রবেরি)
  • শাকসবজি (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।
  • ফল (কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, আমলকি, কচি ডাবের পানি ইত্যাদি)।
  • আচার (মিষ্টি ছাড়া)
  • শর্করা বিহীন মিষ্টি
  • শর্করা বিহীন মিষ্টি খাবার-সুকরোল, স্যাকারিন ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়া নিষেধ

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাদ্যাভাসের ব্যাপারে যথেষ্ট শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হয়। আগের আলোচনায় আমরা উল্লেখ করেছি কি কি খাদ্যদ্রব্য যেকোন পরিমাণে খাওয়া যাবে এবং কি কি খাদ্যদ্রব্য পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। এবার ডায়াবেটিস রোগীদের কি কি খাবার খাওয়া উচিত হবে না তা উল্লেখ করছি।

  • চিনি: চিনি দিয়ে তৈরি খাবার যেমন, কেক, পেস্ট্রি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি দধি, পুডিং, হালুয়া, মিষ্টি বিস্কিট, কোমল পানীয় ; কোকাকোলা -স্প্রাইট – ফান্টা – সেভেনআপ – পেপসি – মিরিন্ডা – আরসি কোলা – ইউরো লেমন – ইউরোকোলা – ফিজআপ – ভার্জিন, এ জাতীয় পানীয় এবং বাজারজাতকৃত ফলের রস ইত্যাদি (তবে ডায়েট পানীয় খাওয়া যেতে পারে)।
  • গুড়,  গ্লুকোজ, রস, মিছরি, মধু
  • তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা নিয়মিত খাদ্য খেতে না পারলে প্রতিবেলায় ১ কাপ দুধ- বার্লি বা দুধ-সাগু, ফলের রস বা ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে সত্বর ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। কোনভাবেই দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার চেষ্টা করবেন না।

ডায়াবেটিস থাকলে যেসব ফল কম খাওয়া উচিত

সফেদা

খুবই জনপ্রিয় ফল সফেদাও স্বাদে দারুণ মিষ্টি হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম সফেদা থেকে পাওয়া যাবে ৭ গ্রাম চিনি। গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে ৫৫ ভ্যালু সমৃদ্ধ এই ফলটি ডায়াবেটিসের সমস্যায় খুবই ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে।

আঙ্গুর

আঙ্গুর বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ আঙ্গুর তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্য খুবই উপকারী ও প্রয়োজনীয় একটি ফল। তবে আমের মতই উচ্চমাত্রার চিনি রয়েছে এই ফলটিতে। মাত্র ৮৫ গ্রাম আঙ্গুর থেকে পাওয়া যাবে ১৫ গ্রাম চিনি। যা সহজেই রক্তে চিনির মাত্রা বৃদ্ধি করে দিতে পারে।

আনারস

সঠিকভাবে পাকা আনারস স্বাদে দারুণ মিষ্টি হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ সমৃদ্ধ এক কাপ পরিমাণ আনারস থেকে পাওয়া যাবে ১৬ গ্রাম চিনি। যা খুব সহজেই রক্তে চিনির মাত্রা এক লাফে বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের টাইপ-২ ডায়বেটিসের সমস্যা বেশি, তাদের মিষ্টি স্বাদের আনারস থেকে দূরে থাকাটাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

কিশমিশ

অনেকেই হাতের কাছে কিশমিশ পেলে কয়েকটি খেয়ে ফেলেন। ভীষণ মিষ্টি স্বাদের শুকনো এই ফলটি আঙ্গুরের আরেকটি রূপ। মায়ো ক্লিনিকের মতে এক কাপ পরিমাণ কিশমিশে রয়েছে প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ চিনি ও ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। বোঝাই যাচ্ছে, ডায়বেটিস রোগীদের কিশমিশ থেকে দূরে থাকা খুবই জরুরি।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।  সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশ বেড়ে যায়। তাই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা চালাতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওষুধের পাশাপাশি নীচের এই সুগার কমানোর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করে চলতে হবে।

মেথি

ভারতীয় রান্নাঘরে এই ভেষজ উপাদানটি সর্বদা পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, গ্লুকোজ সহনশীলতা উন্নত করতে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে মেথি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।

দুই টেবিল চামচ মেথির বীজ জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে খালি পেটে এই জল পান করুন। এটি গ্ল‌ুকোজের লেভেল কমাতে সহায়তা করে।

অ্যালোভেরা

আমরা সকলেই জানি অ্যালোভেরায় ভেষজ গুন রয়েছে। এই উপাদানটি স্কিন এবং স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এটির স্বাদ একটু তেতো হলেও এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে উপকার করতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

দিনে দুবার এক কাপ করে অ্যালোভেরা জুস পান করুন।

দারুচিনি

দারুচিনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিন কার্যকলাপের সূচনা করে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে যা টাইপ -২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উষ্ণ গরম জলে আধ চা চামচ দারুচিনি মিশিয়ে নিন এবং প্রতিদিন একবার সেবন করুন।

নিয়মিত হাঁটুন

সুগার কমানোর ঘরোয়া উপায় আলোচনা করতে গেলে আমরা হাঁটার কথা এড়িয়ে চলতে পারি না। নিয়মিত ২৫-৩০ মিনিট হাঁটলে সুগার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন হ্রাস করতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারেন।

আইনিউজ/এসডি

মানসিক চাপ কমাবেন যেভাবে

চিনির কারণে প্রতিবছর সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে

বয়স পঞ্চাশের আগেই বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা

সহবাসে পুরুষের অক্ষমতা, সেক্স এডুকেশনের অভাব?

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়