Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ২৫ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১১ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২০, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে ত্রিপুরাদের পৈতৃক ভূমিতে হামলা ও দখল চেষ্টার অভিযোগ

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুছড়া গ্রামের আদিবাসী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পৈতৃক ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ভূমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বাড়িঘর ভাঙচুর, সীমানা পিলার অপসারণ এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি (বুধবার) ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বালিশিরা মৌজার দাগ নং ৫১৭, জেএল নং ৭১, ব্লক নং ৩-এর অন্তর্ভুক্ত খতিয়ান নং ৩২৬ ও ৪০১-এর ভূমিতে যুগ যুগ ধরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২১ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে রুহিন মিয়া ও ছফেদ মিয়া, উভয়েই শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ছফেদ মিয়া রোডের শ্যামলী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন ব্যক্তি সিএনজি ও পিকআপযোগে ঘটনাস্থলে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের সদ্য নির্মিত একটি ট্যুরিস্ট শপ ভাঙচুর করে এবং নির্মাণসামগ্রী গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ভূমির সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় দোকান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডলুছড়া গ্রামের প্রবেশপথে অবস্থিত তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন একটি মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন জুমার নামাজের আগে মো. মোক্তার মিয়াকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয় বলে তার ছেলে মো. সিহাব মিয়া বিকেল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে পরিবারকে বিষয়টি জানান।

ভুক্তভোগী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধানে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।

তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধভাবে অপসারিত সীমানা পিলার পুনঃস্থাপন, ভাঙচুরকৃত ঘর ও দোকানের মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের ভূমি, বসতভিটা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা হুমকি না আসে, সে জন্য কার্যকর প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুহিন মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে ইন্দ্র মোহন দেববর্মা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “আমি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়