হাসানাত কামাল, যুক্তরাজ্য
আপডেট: ১৭:৪৩, ৭ মার্চ ২০২৬
৭ই মার্চের ভাষণ: একটি তর্জনী ও একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্ম
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রের সামনে ভাষণ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এক অবিনাশী দিন। ঢাকা সেদিন পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষাধিক মুক্তিকামী মানুষের সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ প্রদান করেছিলেন, তা ছিল একটি শোষিত জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা।
মাত্র ১৮ মিনিটের সেই কালজয়ী ভাষণেই লুকিয়ে ছিল একটি পরাধীন জাতির সশস্ত্র যোদ্ধায় রূপান্তরের মহাকাব্যিক গল্প।
অগ্নিগর্ভ প্রেক্ষাপট
সেদিনের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত নাজুক। একদিকে পাকিস্তানি জান্তাদের রক্তচক্ষু, অন্যদিকে বাংলার মানুষের স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এমন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন।
বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা
বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে কোনো লিখিত পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেননি। তাঁর হৃদয়ের গভীর থেকে আসা প্রতিটি শব্দ ছিল রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর অসীম সাহসিকতায় মোড়ানো। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।" শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার সেই আহ্বান বাঙালির হৃদয়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ভাষণের শেষ ভাগে তাঁর বজ্রকণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হওয়া সেই অমোঘ বাণী— "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—প্রকৃতপক্ষে ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার অলিখিত ঘোষণা।
বিশ্ব স্বীকৃতি ও ঐতিহ্যের দলিল
এই ভাষণ কেবল আমাদের জাতীয় গর্ব নয়, এটি আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে 'মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার'-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে এটি আজও মুক্তিকামী মানুষের কাছে পরম অনুপ্রেরণা।
৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালির জীবনে এক অলঙ্ঘনীয় শক্তি। এই ভাষণের ওপর ভিত্তি করেই ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল লাল-সবুজের পতাকা। আজ যখন আমরা একটি স্বাধীন দেশে বাস করছি, তখন এই ভাষণের আদর্শকে ধারণ করেই আমাদের আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গবন্ধুর সেই তর্জনীর হুংকার আমাদের জানিয়ে দেবে— বাঙালি জাতি পরাজয় মানার জন্য জন্ম নেয়
ইএন/এসএইচএ
- বাংলাদেশে শিশু শ্রম: কারণ ও করণীয়
- পনেরো আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক দ্বন্ধ
মোশতাক বললেও মন্ত্রীদের কেউ সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে যায়নি! - ২০২৩ সালে কী সত্যিই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আসছে?
- করোনা যেভাবে চিকিৎসকদের শ্রেণীচ্যুত করলো
- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সমস্যা এবং সম্ভাবনা
- ফিলিস্তিনে প্রাণ হারাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কুকুর স্থানান্তরকরণ ও ভবিষ্যৎ
- শরীফার গল্প পড়তে আমাদের এতো কেন সমস্যা?
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী গণমাধ্যমের ভূমিকা
- রেমডেসিভির একটি অপ্রমাণিত ট্রায়াল ড্রাগ

























