Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ০৮ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২১, ৭ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লায় মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীর একটি মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ি) এলাকার কালী গাছতলা শিব মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে মন্দিরের পাশের আরও দুটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এছাড়া পাশের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণে আরও তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজনকে কুমিল্লা জেনারেল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মন্দিরে শনিপূজা চলাকালে পুরোহিতসহ কয়েকজন ভক্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটের দিকে মুখোশ পরা এক ব্যক্তি ব্যাগ হাতে মন্দিরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর ব্যাগটি রেখে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মন্দিরে থাকা পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন এবং মন্দিরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, মন্দির থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা শিব মন্দিরের পার্শ্ববর্তী একটি বৌদ্ধ মন্দির ও ব্র্যাক অফিসের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার সুজত আলীর ছেলে আ. বারেক এবং নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী বলেন, “বিস্ফোরণের সময় একটি সাদা বস্তু আমার সামনে এসে পড়ে। প্রথমে মনে হয়েছিল গাছ থেকে কিছু পড়েছে। পরে ধোঁয়া দেখে অন্যরা জানায় এটি বোমা। কে বা কারা কী কারণে এটি করেছে, তা বলতে পারছি না।”

কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। কারা ককটেল হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। যারা শান্ত পরিবেশ অশান্ত করতে চাইছে, আশা করি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। কী কারণে এবং কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, মন্দির এলাকা থেকে বিস্ফোরণের কিছু আলামত ও একটি ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ দল এলে বিস্ফোরণের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। আহতদের মধ্যে সামান্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন বলেও তিনি জানান।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়