ঢাকা, শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

মাসুদ হাসান

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ১৪ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৭:২০, ১৫ জুলাই ২০২১

করোনায় কোরবানির পশুর হাট, বাড়াবে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি

কোরবানি পশুর হাট। (ফাইল ছবি)

কোরবানি পশুর হাট। (ফাইল ছবি)

কোরবানির হাটের কারণে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আবার একটা ঝুঁকি তৈরি হবে। যারা গরু নিয়ে এসব হাটে আসবেন, তাদের মাধ্যমে যেমন রোগ আসতে পারে, তাদের মাধ্যমে সেটা সারা দেশে ছড়িয়েও পড়তে পারে। তেমনি যারা গরু কিনতে যাবেন, তাদের মাধ্যমেও সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দু’টি ধর্মীয় উৎসব- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। আর মাত্র এক সপ্তাহ পর ২১ জুলাই দেশে পালিত হবে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার প্রধান অনুসঙ্গ পশু কোরবানি। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে মুসলমানরা এদিন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। করোনার অভিঘাতে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও পার করছে এক দুঃসহ সময়। প্রতিটা মুহূর্তে যেখানে সংক্রমণের ভয়, মৃত্যুর হাতছানি- সেখানে অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত জনসমাগমপূর্ণ কোরবানির পশুর হাট নিয়ে তাই চিন্তিত দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ। আজ ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, কোরবানির হাট ১৭ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। কিন্তু পশুর হাটে যদি মানুষের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব না থাকে এবং মাস্ক ব্যবহার না হয়, তাহলে সংক্রমণ যে কারো থেকেই ছড়িয়ে যেতে পারে।

কোরবানির জন্যে দেশেই আছে পর্যাপ্ত পশু

অন্যান্য বছর আমেরিকা, ভারত, মায়ানমার ও মধ্যেপ্রাচ্য থেকে এমন সময় গরু, উট, দুম্বা ও ছাগল উড়োজাহাজে করে আমদানি করা হত। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার সেই প্রস্তুতি বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশে মোট গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। দেশে প্রতিবছর কোরবানিতে এক কোটির বেশি গবাদি পশুর চাহিদা থাকে। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, সবমিলিয়ে এবছর কোরবানির জন্য ১ কোটির বেশি গরু প্রস্তুত রয়েছে। সে হিসেবে এবারও বাইরের পশু ছাড়া চাহিদা মেটানো সম্ভব।

উচ্চ সংক্রমণের আতঙ্ক

এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পশু কোরবানির হাট না বসলেও অনেক জায়গায় বিধিনিষেধ অমান্য করে এই কঠোর লকডাউনের সময়ে কোরবানি পশুর হাট বসে গেছে। সেখানে সকাল থেকেই গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়িরা ভিড় জমাচ্ছে। হাটে মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব, কোন স্বাস্থ্যবিধি বজায় না রেখেই গাদাগাদি করেই বসছে পশুর হাট। হাটকে কেন্দ্র করে হোটেল ও চায়ের দোকানগুলো লোকে লোকারণ্য। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সামাল দেয়া যাচ্ছে না। এই বাড়তি সংক্রমণের মধ্যে কীভাবে দেশে গরুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হবে এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়বে কি না, এ নিয়েও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চলছে গভীর চিন্তাভাবনা। অভিযোগ রয়েছে যশোরে দেশের সবচেয়ে বড় পশুরহাটে আগত কয়েকজন করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। অবশ্য এর পরপরই যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ার সাতমাইল পশুরহাটটি বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পশুর হাট: বড় ধরণের বাণিজ্য

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কোরবানির হাটকে ঘিরে চলে বড় ধরনের বাণিজ্য ৷ বহু মানুষের জীবন আবর্তিত হয় এই পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে। এরসাথে বিপুল মধ্যস্বত্বভোগীও জড়িত ৷ হাটের ইজারা, হাসিল, গরুর ট্রাক বা ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়ে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকেন ৷ হাট বসা, না বসার ওপর অনেকের আয় নির্ধারিত হয়। তাই হাট বসানোতে আগ্রহ অনেকের ৷ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কঠিন সময়ে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে কোরবানির পশুর হাটের একটা যোগ আছে ৷ বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও অনেকটা নির্ভরশীল কোরাবানির ওপরে ৷ তাই দুই দিক রক্ষা করতে এবার কোরবানির পশুর হাটের জন্য অনলাইন হাট এবং ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন ৷

মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। এটি ক্রেতা–বিক্রেতা সবাইকে মানতে হবে, মানাতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জটলা তৈরিতে বাধা দিতে হবে। হাটের চা-পানের দোকানকেও করতে হবে ভীড়শূন্য। গরু, ছাগল-ভেড়ার বেচাকেনার জায়গা হতে হবে জনসমাগমমুক্ত। নিয়মমত মাস্ক পড়তে বাধ্য করতে হবে সবাইকে। যত্রতত্র কোরবানির পশু হাট বসতে দেয়া যাবে না, যেকোন ভাবেই হোক সেগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। আর এগুলো নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সিটি করপোরেশন-পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদ। হাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশে কোরবানি ও কোরবানির পশু বিক্রি বাদ দেয়া সম্ভব নয় ৷ কিন্তু এটাও সত্যি পশুর হাট বসিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ ৷ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিকল্পনা করে বিকল্প পদ্ধতিতে করোনায় অর্থনীতি সচল রাখা যেতে পারে ৷ কারণ হাট বাজারে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অর্থনীতিও বাঁচবে না, মানুষও বাঁচবে না।

সাবধানতা পুরো প্রক্রিয়ায়

এ বছর সারা দেশে করোনা সংক্রমণ কেবল অব্যাহতই থাকেনি, অধিক সংক্রমণশীল করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতিজনিত কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়ানোর জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও পশুর হাটগুলোর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদুল আযহার সময় যদি মানুষ সামাজিক দূরত্বের মতো বিষয়গুলো ঠিকভাবে মেনে না চলেন, স্বাস্থ্য সতর্কতা না মানেন, তাহলে তা করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কোরবানির হাটের কারণে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আবার একটা ঝুঁকি তৈরি হবে। যারা গরু নিয়ে এসব হাটে আসবেন, তাদের মাধ্যমে যেমন রোগ আসতে পারে, তাদের মাধ্যমে সেটা সারা দেশে ছড়িয়েও পড়তে পারে। তেমনি যারা গরু কিনতে যাবেন, তাদের মাধ্যমেও সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে মাংস কাটাকাটি, মাংস সংগ্রহ যারা করবেন, তাদের মাধ্যমেও এটার বিস্তার ঘটতে পারে। ঠান্ডা, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্তদেরকে পশুর হাটে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার টানানোসহ সব সময় মাইকে প্রচারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত ও কঠোরভাবে পরিচালনা করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্দেশনার বিষয়টি ইজারাদারদের নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত না মানলে ইজারা বাতিল করতে হবে।

স্বস্তি দিতে পারে অনলাইন পশুর হাট

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশে অনলাইনে কেনাকাটার পরিসর বেড়েছে। এই কঠিন সময়ে করোনা থেকে বাঁচার জন্যে এই পথ বেছে নেয়াই আমাদের জন্যে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দেশে এখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন পশুর হাট। একদিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অন্যদিকে কোরবানীর হাটে গিয়ে পশু কেনার ঝামেলা এড়াতে জনপ্রিয় এই অনলাইন পশুর হাট হতে পারে উত্তম সমাধান। অনলাইনে বুকিং দিয়ে কিছু অর্থ আগাম পরিশোধ করলে নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানির পশু বাড়ি পৌঁছে দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয়, ওয়েবসাইটে গরু পছন্দ করে অর্ডার দিলে কোরবানি দিয়ে বাড়িতে মাংস পৌঁছে দেয়ারও ব্যবস্থা রেখেছে তারা। অনলাইনে পশু কিনে তা খামারীদের মাধ্যমে প্রসেস করে নিলে কোরবানির বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হবে না বলে জানান অনলাইন আয়োজকরা। এছাড়া মাংস বাজারজাত করার আধুনিক প্রতিষ্ঠান এবং খামার গড়ে উঠছে ৷ সরকারের উচিত এগুলোকে আরো সম্প্রসারিত বা জোরদার করা। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল পশুর হাটই ভালো বিকল্প ব্যবস্থা, যেখানে অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোরবানির উপযুক্ত পশুর স্থিরচিত্র বা ভিডিও দেখে পশুর দাম, বয়স, ওজন ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে কেনাবেচা সম্পন্ন করা যাবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে অর্থ লেনদেনের যেসব ব্যবস্থা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সহজেই পশুর দাম পরিশোধ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে ক্রেতার ফরমায়েশ অনুসারে যথাস্থানে ক্রয়কৃত পশু পাঠিয়ে দেওয়াও কঠিন কিছু নয়। বস্তুত গত বছর থেকেই বেশকিছু উদ্যোক্তা অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এবার এর পরিসর আরও বেড়েছে। নতুন নতুন উদ্যোক্তা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বস্তুত অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের হার যত বাড়বে, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তত কমবে।

সরকারের উদ্যোগ

আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট ও কোরবানির বিষয়ে ২৩ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১০ জুলাই এ নির্দেশনা জারি করা হয়। প্রতিটি হাট কমিটিকে যেসব কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো:

  • পশুর হাট বসানোর জন্য বদ্ধ জায়গা নয়, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে।
  • ইজারাদারকে মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজারসহ জীবাণুমুক্ত করণ সামগ্রী সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  •  হাট কমিটির সকলের ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  •  স্বাস্থ্যবিধি সমূহ সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
  • প্রতিটি হাটে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব নির্দেশনা প্রচার করতে হবে।
  • পশুর হাটে প্রবেশের জন্য এ বছর প্রবেশপথ ও বাহির পথ আলাদাভাবে নির্দিষ্ট করতে হবে।
  • সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা। ইউনিয়ন পরিষদকে প্রতিটি হাটে এক বা একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • মেডিকেল টিমের কাছে শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখতে হবে। প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট রাখার কথা বলা হয় নির্দেশনায়।
  • একটি পশু থেকে আরেকটা পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতারা কমপক্ষে তিন ফুট বা দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু ক্রয় করতে পারেন। মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে।
  • লাইনে ৩ ফুট বা কমপক্ষে ২ হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিয়ে দিতে হবে। হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।
  • হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেতাকে হাটে প্রবেশের সুযোগ দিতে ১ টি পশু ক্রয়ের জন্য ১ বা ২ জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশে করবেন না।
  • সেক্ষেত্রে, অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
  •  সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ হাটে প্রবেশ করবেন না। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা হাটে আসতে পারবেন না।
  • পশুরহাটে প্রবেশের আগে ও বের হবার সময় তরল বা সাধারণ সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

এদিকে, পশু কোরবানির ক্ষেত্রেও দেয়া হয় দুইটি নির্দেশনা। এর মধ্যে রয়েছে, পশু কোরবানির সময় প্রয়োজনের অধিক লোকজন একত্রিত হবেন না এবং কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য একত্রে অধিক লোক চলাফেরা করতে পারবেন না। পশুর চামড়া দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং কোরবানির নির্দিষ্ট স্থানটি ব্লিচিং পাউডারের দ্রবণ দিয়ে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

নব ভাবনা

সনাতন হাটের চিন্তভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে এখন। আগের মতো শুধু একটি প্রবেশপথ না রেখে রাখতে হবে একাধিক প্রবেশপথ। একটি ডিজ ইনফেকশন চেম্বারের মাধ্যমে সব কয়টি প্রবেশপথ সংযোগ ঘটানো যেতে পারে। প্রতিটি প্রবেশপথে পৃথক পৃথক সারি রাখতে হবে এবং সারির মানুষজনকে ওই চেম্বারে প্রবেশ করাতে বাধ্য করাতে হবে। এই সারিতে আবার জনসাধারণের দাঁড়ানোর জায়গাও নির্দিষ্ট করতে হবে, যার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হবে সামাজিক দূরত্ব।

প্রবেশপথের দুই পাশে দুটি বুথ রাখতে হবে। একটি বুথ থেকে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা পরিচালনা করা হবে। অন্যটি ঘোষণা মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পশুগুলোকে সারিবদ্ধভাবে রাখার পরিবর্তে অনেকগুলো ব্লকে ভাগ করে রাখা যেতে পারে। প্রতিটি ব্লকের চতুর্দিকে হাঁটার রাস্তা রাখতে হবে। পশুর হাটের আয়তন বিবেচনায় নির্দিষ্টসংখ্যক লোককে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে প্রবেশ করতে দিতে হবে। হাটের প্রতিটি ব্লকের জন্য আলাদা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। ক্রেতারা পশু কেনার পর বের হওয়ার জন্য রাথতে হবে আলাদা একটি বহির্নির্গমন পথ। হাটের পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী রাখতে হবে যারা বিভিন্ন নির্দেশনাগুলো মানতে অন্যদেরকে সাহায্য করবেন।

সীমান্তে দিতে হবে বেশি নজর

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যেও সীমান্তবর্তী অনেক জেলায় পশুর হাট বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে সেগুলো জমেও উঠেছে। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত বাধা পেরিয়ে দেশে ঢুকছে ভারতীয় গরু। এতে সীমান্ত দিয়ে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আরও প্রবেশের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সীমান্তে জনবলের পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

সিদ্ধান্ত হোক সত্য ও বাস্তবতার নিরিখে

পশুর হাটের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনসহ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-কানুন সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো যাতে কেবল ‘কাগুজে ঘোষণায়’ পর্যবসিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে কোরবানির পশু কেনাবেচা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম যতটা সম্ভব অনলাইনভিত্তিক করা উচিত। গত বছর তদারকির অভাবে পশুর হাটগুলোয় শারীরিক দূরত্ব যেমন মানা হয়নি; তেমনি মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও তা থুতনিতে ঝুলতে দেখা গেছে। তাছাড়া অনেক হাটে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা রাখেনি ইজারাদাররা। এবার যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সংক্রমণ এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।

করোনা সংক্রমণের মারাত্মক সময় পার করছে বাংলাদেশ। সামনের দিনগুলোতে গরুর বাজারগুলো সংক্রমণের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা সুশীল সমাজের। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো বৈধভাবে পশু জবাই করে ঘরে এনে গোশত দেয়ার ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে অনেকে বলছেন, এধরণের কোরবানি নাকি জায়েয হবে না। তাহলে পবিত্র হজ্বের সময় পশু কোরবানির বিষয়টি কী আমরা বেমালুম ভুলে যাচ্ছি? সেখানে তো কোরবানির জন্যে পশুর মূল্য হজ্ব শুরুর আগেই পরিশোধ করে দিতে হয় এবং পরবর্তীতে তা কোথায় কোরবানি হচ্ছে সেটা দেখারও তেমন সুযোগ নেই। যাই হোক মূল কথা হচ্ছে, জীবন রক্ষার স্বার্থে আমরা সত্য এবং বাস্তবকে যত সহজে এবং দ্রুত মেনে নিতে পারবো ততই তা আমাদের জন্যে কল্যাণ বয়ে আনবে।

মাসুদ হাসান, লেখক ও কলামিস্ট।

  • খোলা জানালা বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। eyenews.news-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে eyenews.news আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়