ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩

আই নিউজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:২৫, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

হবিগঞ্জ-১ আসনে ঈগল-লাঙ্গলের তুমুল লড়াই, চিন্তায় নবীগঞ্জ

হবিগঞ্জ-১ আসনে আলোচিত দুই প্রার্থী ঈগলের কেয়া চৌধুরী এবং লাঙ্গল প্রতীকের বাবু। ছবি- আই নিউজ

হবিগঞ্জ-১ আসনে আলোচিত দুই প্রার্থী ঈগলের কেয়া চৌধুরী এবং লাঙ্গল প্রতীকের বাবু। ছবি- আই নিউজ

নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই সরগরম হয়ে ওঠছে স্থানীয় নির্বাচনি পরিবেশ। হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। এ আসনের মূল আলোচনা ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু। সাবেক এই যুগল নেতাকে ঘিরে এই আসনের ভোটের আলাপ তুঙ্গে। দুপক্ষের ভাবনায় নবীগঞ্জ উপজেলা। কেননা, আসনের সবচাইতে বেশি ভোটার এই এলাকায়। 

গত ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওইদিন জাতীয় পার্টিও দেশের ২৮৩ আসনে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। হবিগঞ্জ-১ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত দুই মুখ জাপার এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু এবং ঈগল প্রতীকের কেয়া চৌধুরী। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে দুজনেই বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভোটারদের কাছে দুজনেরই রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। 

তবে, হবিগঞ্জ-১ আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী ও ঈগলের প্রার্থীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নবীগঞ্জ উপজেলা। হবিগঞ্জ-১ আসনটি গঠিত নবীগঞ্জ-বাহুবল এই দুই উপজেলা নিয়ে। যার মধ্যে ভোটার সংখ্যায় এগিয়ে নবীগঞ্জ। প্রায় আড়াই লাখের বেশি ভোটার এই উপজেলায় থাকায় নির্বাচনে কেয়া চৌধুরী ও এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবুর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই আসন। কেননা, নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দেয়ার মতো পরিসংখ্যান নবীগঞ্জ উপজেলা থেকেই আসবে। 

হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ৫ জন। যদিও বাকি তিন জনকে ছাপিয়ে এই আসনে ভোটের মাঠে আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগলের কেয়া চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু। তারা দুজনেই সাবেক সাংসদ এবং এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও দুজনকে আলাদা নিয়ে সমীকরণ সাজাতে হচ্ছে নবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। নবীগঞ্জ থেকে নিজেদের পক্ষে বেশি ভোট নিয়ে আসা দুই প্রার্থীর জন্যই কিছুটা দুষ্কর। কেননা, তারা কাকে নির্বাচন করবেন সেটা তাদের উপর নির্ভর করছে। তাছাড়া, এ বছর হবিগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে কেউ না থাকায় নিজেদের গুণেই প্রার্থীদের ভোট ভিরাতে হবে নিজেদের পক্ষে। যা নিয়ে ভাবনায় আছেন প্রার্থীরা। 

ভোটাররা বলছেন, এই আসনে এবছর জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদিন প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও অন্য দলের প্রর্থীদের তেমন প্রচারণা নেই। বাহুবল ও নবীগঞ্জ দুটি উপজেলাতেই প্রধান সড়ক, হাট বাজার এবং চায়ের দোকান সব ছেয়ে গেছে পোস্টার ও ব্যানারে।  প্রতিদিন প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের পক্ষে টানছেন ভোটারদের। 

নির্বাচনী ভোটের মাঠে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে ভোটের সমীকরণ হচ্চে ঈগল বনাম লাঙ্গল প্রতীককে ঘিরেই। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে দেখা দিতে পারে জয়-পরাজয়ের হিসাব। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে এবার মোট ভোটার হচ্ছেন ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৫২ জন। এর মধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলার ভোটার হচ্ছেন ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৬৯ জন এবং বাহুবল উপজেলার ভোটার হচ্ছেন ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৩ জন। 

নবীগঞ্জে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় মোট ১১৬টি কেন্দ্র এবং বাহুবল উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ৬১ টি কেন্দ্র রয়েছে।

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ