ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

রিপন দে

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ২৩ মে ২০২০
আপডেট: ১৯:৫৩, ২৩ মে ২০২০

মৌলভীবাজারে পর্যটন ব্যবসায় ধস, ঋণে আটকা ব্যবসায়ীরা

ছবি: রণজিৎ জনি

ছবি: রণজিৎ জনি

সারা বছর পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও, শীত মৌসুমে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতি ঈদের ছুটিতে রীতিমত ঢল নামে। ঈদের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকেই বুকড হয়ে যায় জেলার প্রতিটি হোটেল-রিসোর্ট।

জেলার অন্য এলাকার পাশাপাশি পর্যটকদের সব চেয়ে বেশি ভিড় থাকে শ্রীমঙ্গল –কমলগঞ্জে। এ সব এলাকার প্রায় ৭০টি হোটেল রিসোর্টের মৌসুম- ঈদের সময় । কিন্তু চলমান করোনাসংকটের কারণে সারাদেশে কার্যত লকডাউন থাকায় এ বছর নেই সেই আমেজ।

বরং দীর্ঘদিন পর্যটকের আগমন বন্ধ থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে এই এলাকার পর্যটন শিল্প। কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা। ট্যুর গাইডরা অপেক্ষা করছেন সুদিনের।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায় যায়, প্রতি ঈদে বিশেষ করে রমজানের মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি পর্যটক দেখা যায় কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেইক, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরি পাড়ায়। জেলার বিভিন্ন চা-বাগান ও বাইক্কাবিল, বড়লেখার মাধবকুণ্ড. কুলাউড়ার কালাপাহাড়, হাকালুকি হাওর। শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পর্যটন স্পটও ব্যাপক জনপ্রিয়।

এই পর্যটকদের ৯৫ শতাংশই থাকার জন্য বেচে নেন মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ- শ্রীমঙ্গলের প্রায় ৭০টি হোটেল রিসোর্টকে। এ সব হোটেল-রিসোর্ট প্রতি বছর ঈদের সময় কয়েক হাজার পর্যটক আগাম বুকিং দিয়ে রাখেন। কিন্তু এই বছর পর্যটকের সংখ্যা শূন্য। সেই সাথে দীর্ঘদীন বন্ধ থাকায় পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান বন্ধ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য কর্মচারী রাখতে হচ্ছে। যেহেতু কোন আয় নেই তাই পুঁজি ভেঙ্গে বেতন দিতে হচ্ছে ।

এসকেডি আমার বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক সজল দাশ বলেন, আমার ব্যংক লোন আছে ২ কোটি। মার্চের ১১ তারিখ থেকে আমার রিসোর্ট বন্ধ। কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছি কিন্তু তাদের বেতনতো দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিলের জন্যো চাপ আসছে। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের ঋণের জালে যেভাবে আটকে যাচ্ছি, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বের হতে পারবনা। উল্টা পুঁজি হারানোর ভয়ে আছি।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীণলিফ রিসোর্টের পরিচালক এস কে দাস সুমন বলেন, গত বছর তার রিসোর্টের ঈদের ১ মাস আগেই সব বুকড হয়ে যায়। তার রিসোর্টের বেশিরভাগ বিদেশীরা আসেন । ঈদের সময়টা ব্যবসার উল্লেখযোগ্য সময় হিসেবে সারা বছরের প্রস্তুতি থাকে কিন্তু এই বছর করোনা সংকটের কারণে সেই সুযোগ নেই। উল্টো ঝুঁকিতে পড়েছে আমার ব্যবসা। পরিবারের অন্য খাত থেকে টাকা এনে কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছি। তিনি জানান, আমরা পর্যটন ব্যবসায়ীরা বছরে কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ট্যাক্স দেই । বিপদের এই সময় সরকারের সাহায্য প্রয়োজন।

হোটেল মেরিনার পরিচালক নাজমুল হাসান মিরাজ বলেন, আমার হোটেলটি ভাড়া নিয়ে করেছি। মাসিক ভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কর্মচারীদের বেতনসহ মাসিক খরচ আড়াই লাখ টাকা। বর্তমান অবস্থায় ঋণে জড়িয়ে পড়েছি। সরকারের সাহায্য ছড়া এই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারবনা। পর্যটকদের আগমনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটান ট্যুর গাইডরা। কিন্তু এ বছর তাদের ফোনে কল আসছেনা ।

লাউয়াছড়ার ট্যুর গাইড সাজু মারচিয়াং বলেন, ঈদের ২ মাস আগে থেকেই অনেকে ফোন দেন । কেউ কেউ বিকাশে অগ্রিম দিয়ে রাখেন। সব কাভার দেওয়া যায়না বলে তখন আমরা মৌসুমী মানুষ রাখি। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত কোন ফোন আসেনি।

পর্যটন সেবা সংস্থা শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, আমার রিসোর্টগুলাতে গত বছর ২ মাস আগেও অনেকে বুকড করেছেন। পরিচিত অনেককে শেষ মুহুর্তে দিতে পারিনি বলে তাদের মন খারাপ হয় কিন্তু এই বছর উল্টা চিত্র। শুনেছিলান প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা থেকে আমাদেরকেও দেওয়া হবে। কিন্তু কবে হবে, বা হবে কিনা নিশ্চিত নই। যেভাবে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি ব্যবসা ঠিকিয়ে রাখতে হলে প্রণোদনা দরকার ।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়