কামরুল হাসান শাওন
প্রকাশিত: ০২:৫১, ২৪ মে ২০২০
আপডেট: ০৩:০৫, ২৪ মে ২০২০
আপডেট: ০৩:০৫, ২৪ মে ২০২০
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারে চলছে ঈদের কেনাকাটা
সারাবিশ্বে এখন করোনা মহামারীর আতঙ্ক। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এ অবস্থার মাঝেও মৌলভীবাজারে করোনা নিয়ে ভয় নেই।
প্রতিদিন প্রশাসন, পুলিশ সবাইকে হ্যান্ড মাইক দিয়ে করোনা সচেতনতায় মাইকিং করলেও কেউ কানেই তুলছে না বিষয়টি। ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষ কেউই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। আর ঈদ বাজারে পুরুষদের থেকে এগিয়ে রয়েছে নারীরা।
গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়ার পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনসমাগম না করে কেনাকাটা করার নির্দেশনা থাকলেও, এর কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না মৌলভীবাজারের দোকানগুলোতে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার কথা থাকলেও কেনাকাটা চলছে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত! এছাড়া উন্মুক্ত রয়েছে প্রায় সব ধরনের দোকানপাট। নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সবমিলিয়ে দিনকে দিন বাড়ছে জনসাধারণের মাঝে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবার ঝুঁকি।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ জনে। গত ২৪ ঘন্টায় মৌলভীবাজারে ৬ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এর আগের দিন পর্যন্ত ৮৩ জন ছিল।
শুক্রবার মৌলভীবাজার জেলায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতির বিষয়ে দৈনিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন।
পূর্বদিন সূত্র অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬১, বর্তমান তারিখে ২২জন আক্রান্ত হয়ে এখন মোট সংখ্যা ৮৩। বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২ হাজার ২২৭জন আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ১জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে এপর্যন্ত আরোগ্যলাভ করেছেন ৮জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ২জন।
সরেজমিনে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিশ বাজার, সেন্টাল রোড, চৌমুহনার বিভিন্ন কাপড়ের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আমেজে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে এসে কেনাকাটা করার জন্য সকাল থেকেই দল বেঁধে ভিড় করছেন লোকজন। নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা, আবার অনেক অভিভাবকদের সাথে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও এসেছে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য।
এতো জটলার মাঝে ছেলেমেয়েকে সাথে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী জানান- ‘সামনে ঈদ। নতুন পোশাক কিনতে ছেলেমেয়েরা বায়না ধরল। তাদেরকে কোনোভাবেই বোঝানো গেলো না। শেষমেশ উপায়ন্তর না পেয়ে কেনাকাটা করতে বের হলাম অনেকটা বাধ্য হয়ে। আর ভয় তো কিছুটা আছেই। কিন্তু উপায় নেই বের না হয়।’
মুখে মাস্ক নেই, শারীরিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না। দেদারসে কেনাকাটা করে যাচ্ছেন। কেনাকাটায় ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। জটলা বেঁধে লোকজন ভিড় করছেন দোকানে সীমাহীন।
পশ্চিম বাজার কাপড় দোকান ব্যবসায়ীদের শরীফ আহমদ বলেন, ‘২৫ মার্চ পর থেকে দোকান বন্ধ প্রায় দেড় মাস কোন আয় নইে খরচ ছাড়া, দোকান ভাড়া দিতে হবে কারেন্ট বিল দিতে হবে। কিছু কিছু দোকান মালিক মানবতা দেখিয় ভাড়া কম নিলেও সব দোকান মালিক এক রকম নয়। আর এখন দোকান খুলেও তেমন কোন বেচা-কেনা হচ্ছে না’।
সচেতন মহলের মানুষ বলছেন, যদি আগের ন্যায় পুলিশি টহল ও নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রশাসনিক নজরদারি করা হয়, তাহলে এ জনস্রোত ঠেকানো যাবে।
এইচকে/ আই নিউজ
আরও পড়ুন
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
সর্বশেষ
জনপ্রিয়























