ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

এ.জে লাভলু, বড়লেখা

প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ২৪ মে ২০২০
আপডেট: ১৫:১২, ২৪ মে ২০২০

মৌলভীবাজারে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের নিয়ে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একের পর এক করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ শনিবার (২৩ মে) এক পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তার দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এই নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের করোনার কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। কিন্তু তাদের দেহে প্রাণঘাতী এ রোগ নীরবে বাসা বেঁধেছে।

এদিকে দিন দিন উপসর্গবিহীন করোনা রোগী বাড়তে থাকায় সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দিন যত গড়াচ্ছে তত উপসর্গবিহীন করোনা রোগী বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ মনে করে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। এতে তিনি যেসকল সুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে যাচ্ছেন কিংবা যারা তার সংস্পর্শে আসছেন তারাই করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন। এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে সামনে পরিস্থিত ভয়াবহ আকার ধারণা করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মানার পাশাপাশি ঘরে থাকাটাই একমাত্র পথ বলে তারা মনে করছেন।

হাসপাতাল ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখায় গত ২৫ এপ্রিল প্রথম এক যুবকের (৩৫) করোনা শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তির মধ্যে করোনার উপসর্গ জ্বর-সর্দি-কাশি ছিল। তিনি চা-ছোলা বিক্রি করতেন। তিনি আক্রান্ত কারো মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে তিনি সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতেল চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন।

এরপর দিন গত ২৬ এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর (৩০) করোনা শনাক্ত হয়। তার মধ্যে করোনার উপসর্গ জ্বর ছিল। গত ২৩ এপ্রিল করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা এক ব্যক্তিররর করোনা নেগেটিভ এলেও গত ৫ মে নমুনা পরীক্ষায় তার স্ত্রীর (৩৫) করোনা পজিটিভ আসে। যদিও ওই নারীর করোনার কোনো উপসর্গ নেই। এরপর চলতি মাসের গত ১৭ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক ওয়ার্ড বয়ের (৩৫) করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই ওয়ার্ড বয়েরও করোনার কোনো লক্ষণ নেই। এরপর ওই হাসপাতালের চিকিৎসকসহ আরো ৩৯ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়।

গত ২১ মে তাদের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন আসে। এরমধ্যে ৩ চিকিৎসকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তাদের বয়স ২৯ থেকে ৩১ এর মধ্যে। তবে তাদের কারোই করোনার কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আক্রান্ত কারো মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার (২৩ মে) এক পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তার (৩০) দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। যদিও তাঁর দেহে করোনার কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আক্রান্ত কারো মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। এনিয়ে বড়লেখা উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের কোয়ার্টারে আইসোলেশনে রয়েছেন।

এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় ও আক্রান্ত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫ জন নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। প্রশাসন আক্রান্ত এসব ব্যক্তিদের বাসা ও বাড়ি লকডাউন করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, বড়লেখায় এ পর্যন্ত ৮জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে প্রথম যে ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তার মধ্যে করোনার উপসর্গ ছিল। তবে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। এছাড়া এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর শরীরে করোনার লক্ষণ ছিল। এরপর যে ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের কারো মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। তাদের মধ্যে হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক ও একজন ওয়ার্ডবয় রয়েছেন। এটা খুব উদ্বেগের বিষয়। কারণ উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে পরিস্থিত খারাপ হতে পারে।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়