নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:০০, ২৫ মে ২০২০
এবার ঈদে পর্যটকশূন্য মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো
ছবি: রণজিৎ জনি
প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ঢল নামলেও এবার করোনাভাইরাসের কারণে সব বন্ধ থাকায় পর্যটকশূন্য হয়ে হাহাকার করছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
ইট-পাথরের বাইরে প্রকৃতির একটু ছোঁয়া পেতে পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে ভিড় জমাতেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে।
ঈদের দিন ও পরের কয়েকদিন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কয়েক হাজার পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠতো। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করায় এবার রমজানের ঈদে পর্যটক শূন্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ আশপাশের উপজেলাগুলো
সারা বছর মৌলভীবাজারে পর্যটক থাকলেও শীতের মৌসুমে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারে রীতিমতো ঢল নামে পর্যটকদের।

ঈদের ১০-১৫ দিন আগে থেকেই বুকিং হয়ে যেতো জেলার প্রতিটি হোটেল-রিসোর্ট। জেলার অন্য এলাকার পাশাপাশি পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকতো শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে। এসব এলাকার প্রায় ৭০টি হোটেল-রিসোর্টের ব্যবসার মৌসুম ঈদের সময়। ঈদ ঘিরে সাজানো হতো হোটেল-রিসোর্ট।
কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবার পর্যটন খাতে ধস নেমেছে। সারা দেশ কার্যত লকডাউনে থাকায় এ বছর হোটেল-রিসোর্টে নেই পর্যটক। নেই ঈদের আমেজ। উল্টো দীর্ঘদিন পর্যটকের আগমন বন্ধ থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে পর্যটন শিল্প। কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায় যায়, প্রতি ঈদে বিশেষ করে রমজানের ঈদে মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি পর্যটক দেখা যায়। কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পাড়ায় এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগান ও বাইক্কাবিল, কুলাউড়ার কালাপাহাড় ও হাকালুকি হাওরে পর্যটকরা যান। পর্যটকদের ৯৫ ভাগই থাকার জন্য কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের প্রায় ৭০টি হোটেল-রিসোর্টকে প্রাধান্য দেন। এসব হোটেল-রিসোর্ট প্রতি বছর ঈদের সময় কয়েক হাজার পর্যটক আগাম বুকিং দিয়ে রাখেন। কিন্তু এ বছর পর্যটকের সংখ্যা শূন্য। সেই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্ট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুঁজি হারানোর ভয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হোটেল-রিসোর্ট বন্ধ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্মচারী রাখতে হয়। যেহেতু কোনো আয় নেই তাই পুঁজি ভেঙে বেতন দিতে হয় কর্মচারীদের।
শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রিনলিফ রিসোর্টের পরিচালক এসকে দাস সুমন বলেন, গত বছর আমার রিসোর্ট ঈদের এক মাস আগেই বুকিং হয়ে যায়। আমার রিসোর্টে বিদেশিরা বেশি আসেন। ঈদের সময়টা ব্যবসার উল্লেখযোগ্য সময়। সারা বছরের প্রস্তুতি থাকে ঈদ ঘিরে। কিন্তু এ বছর করোনা সঙ্কটের কারণে সব শেষ। ঝুঁকিতে পড়েছে ব্যবসা। অন্য খাত থেকে টাকা এনে কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছি।

পর্যটকদের আগমনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটান ট্যুর গাইডরা। কিন্তু এ বছর তাদের ফোনে কল আসছে না কারও। সবাই বেকার বসে আছেন।
লাউয়াছড়ার ট্যুর গাইড সাজু মারচিয়াং বলেন, ঈদের দুই মাস আগে থেকে অনেকে ফোন আসতো। কেউ কেউ বিকাশে অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে রাখতেন। অথচ এবার একটা ফোনও আসেনি।
পর্যটন সেবা সংস্থা শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, আমার রিসোর্টগুলা গত ঈদে দুই মাস আগেই বুকিং হয়েছিল। পরিচিত অনেকজনকে সিট দিতে পারিনি বলে মন খারাপ করেছেন। কিন্তু এবার উল্টা চিত্র। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রণোদনা দেবেন। কিন্তু কবে পাব তা নিশ্চিত নই।
আরও পড়ুন
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
সর্বশেষ
জনপ্রিয়























