ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:৫২, ৩ জুন ২০২০
আপডেট: ১৫:৩০, ৩ জুন ২০২০

মৌলভীবাজারে হলুদ তরমুজ চাষে বাজিমাত

মাচা পদ্ধতিতে থাইল্যান্ডের হলুদ তরমুজ চাষ করে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার কনকপুর এলাকার যুবক মামুনুর রহমান বাজিমাত করেছেন। প্রচলিত লাল তরমুজ থেকে প্রায় ৩ গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এই তরমুজ।

তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইসবপুর এলাকায় ১২ কিয়ার জায়গায় চাষ করেছেন হলুদ তরমুজ। স্বল্প সময়ে অত্যন্ত লাভজনক নতুন এ ফসলের চাষ আগামীতে আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে কৃষি বিভাগ।

চাষি মামুনুর রহমান জানান- শ্রীমঙ্গলের ইসবপুর এলাকায় থাইল্যন্ড থেকে বীজ এনে ১২ কিয়ার জায়গায় এবার পরীক্ষামূলক হলুদ জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। এতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। বেশ ভালো ফল এসেছে। নতুন জাতের এ ফসল প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় কৃষক দেখতে আসছেন। এখন এ জাতের তরমুজের দামও ভালো।

বর্তমানে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এই তরমুজ। ঢাকার ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা বেশি থাকায় তিনি সেখানেই পাঠাচ্ছেন। মামুনুর জানান, বিশেষ জাতের এই হলুদ তরমুজের বীজ তিনি থাইল্যান্ড থেকে এনে গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে সে বীজ থেকে নার্সারি করে চারা উৎপাদন করেন। ২১ দিন বয়সের সময় চারাগুলো রোপণ করেন। ১২ কিয়ার জায়গায় এই তরমুজের গাছ লাগাতে এবং জমি চাষযোগ্য করতে ৪০ থেকে ৫০ শ্রমিক ২৫ দিনের মত কাজ করেছেন। পরে সে সংখ্যা কমে আসলেও ১০/১৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছেন। বর্তমানে ফসল তুলছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি চালান ঢাকা পাঠিয়েছেন। গাছে ফল আসার পর মাচা বেধে দিয়েছেন।

রোদের আলো যেনো না লাগে তাই তরজুম গায়ে টিস্যু জাতীয় কাপড় এবং ব্যাগ বেধে দিয়েছেন। প্রথমবার- তাই খরচ বেশী হয়েছে। এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বিনোয়োগ ১২ লাখ টাকার মত। খরচ আরো কমানো যেত। কিন্তু এই তরমুজ চাষে অভিজ্ঞতা না থাকায় খরচ বেশি হয়ে গেছে। তবে লস হবেনা। তিনি বলেন- ‘২৪ হাজার পিস টার্গেট ছিল। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় সেই লক্ষ্য অর্জন হয়নি।

নতুন হিসেবে যা হয়েছে তাতে খুশি আছি।’ কৃষি বিভাগকে সময়মত সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

মামুনুর বলেন- যখন চারদিকে অনেকেই এই তরমুজ খেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিচ্ছেন তখন থেকে কৃষি বিভাগ বারবার আসছেন আমার জমিতে। তিনি আরও জানান, যে টাকা ফেরত আসবে বলে ধারণা ছিল সেটা হয়নি। তবে করোনা না থাকলে লাভের পরিমাণ বেশি হত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন- এই তরমুজ একটি হাইব্রিড প্রজাতি। অনেকে দেশে খুব জনপ্রিয়। এটির স্বাদ ভাল, তবে চামড়া খুব গাঢ়। অবশ্য দাম বেশি। মৌলভীবাজারে প্রথম বারের মত চাষ হয়েছে। জানার পরপর আমরা সব ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছি। আমি নিজেও কয়েকদিন গিয়েছি। মৌলভীবাজারের মাটি এই তরমুজের জন্য খুবই ভাল। যেকোন মাধ্যম থেকে খবর পেলে আমরা কৃষকের পাশে থাকি।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়