ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ১১ জুলাই ২০২০

“প্রবাসী শ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিক ও চা শ্রমিকরাই সোনার ছেলে”

“আমরা পরিবারের আট, দশ জন সদস্যের হাল ধরলেও আমাদের সমস্যা নিয়ে কাউকে বলতেও পারছি না, আবার সইতেও পারছি না। জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন দুঃসময়ে আমাদের কাছ থেকে সহায়তা নিলেও আমাদের প্রতি কারো সহানু্ভূতি পাওয়া  যায়নি।

আমরা প্রবাসী শ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিক ও চা শ্রমিকরাই দেশের সোনার ছেলে। দেশে আটকাপড়া প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে মানবিক দিক বিবেচনা করে দেশে থাকাকালীন সময়ে আমাদের প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগে প্রবাসে ফেরত যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা কামনা করছি।”মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আটকে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের সহায়তা নিয়ে পতনঊষারে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলেন ওমান প্রবাসী সোহেল আহমদ।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আটকে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা প্রবাসের কর্মস্থলে ফিরে যেতে সরকারের সহায়তা দাবী করেন। প্রবাসীদের মধ্যে কারো ভিসার মেয়াদ, কারো টিকেটের মেয়াদ, কারো একামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে পড়ায় তারা ভোগান্তি ও ঋণগ্রস্থ হওয়ার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে প্রবাসীরা বলেন, পরিবার-পরিজন ও সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন সময়ে তারা কাতার, আরব-আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত, সোদিআরব, মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক হিসেবে গমন করেন। দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখিত দেশ সমূহে কাজ করে উপার্জিত আয়ের একটি বড় অংশ দেশে পাঠিয়ে পরিবার ও সংসারের ভরনপোষন চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাদের  শ্রমঘামে উপার্জিত আয় থেকে প্রেরিত রেমিটেন্সে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব আয়েরও অংশীদার হিসাবে অবদান রেখে আসছেন। তবে ছুটিতে এসে করোনা মহামারীর কারণে কমলগঞ্জের প্রায় সহস্রাধিক প্রবাসীরা বর্তমানে নানা জটিলতায় প্রবাসের কর্মস্থল দেশ সমূহে ফিরে যেতে পারছেন না।

এই সময় পর্যন্ত আমরা ব্যাপক ঋণগ্রস্থ হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। সম্মানের সাথে প্রবাসের দেশ সমুহে চাকুরী করে আসলেও দেশে এসে আটকা পড়ায় তাদের কফিলরা প্রবাসে ফিরে যাওয়ার জন্য বারবার যোগাযোগ করছেন। বিভিন্ন ট্রেভেলস এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করলেও তারা সঠিক কোন তথ্যাদি পাচ্ছেন না। ফিরত টিকেট থাকার পরও এসব প্রতিষ্ঠান প্রচুর টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন।

প্রবাসীরা জানান, একদিকে অর্থাভাব ও এনজিওসহ বিভিন্ন ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন। এনজিও ঋণ ও ব্যক্তিগত ঋণ ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে চাকুরিচ্যুত এসব নানা দুশ্চিন্তায় আতঙ্কিতভাবে সন্তানাদি ও পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দেশে থাকাকালীন সময়ে প্রবাসী পরিবার সমূহকে প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদানের দাবি জানান।

এসব বিষয়ে গত ৬ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছেও তারা লিখিত অভিযোগ করেন। সমাজকর্মী তোয়াবুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রবাসীর উপস্থিতিতে সংবাদ  সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুবাই প্রবাসী আহমদ আলী।

এসময়ে তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন বক্তব্য রাখেন কুয়েত প্রবাসী অমর মাহমুদ আনসারী, দুবাই প্রবাসী আব্দুল হান্নান, কবি জয়নাল আবেদীন, আনোয়ার খাঁন, ওমান প্রবাসী সোহেল আহমদ, কাতার প্রবাসী মতিউর রহমান, মালেশিয়া প্রবাসী মুকুল মিয়া।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরকার প্রবাসীদের প্রতি সবসময় আন্তরিক রয়েছেন। তাদের লিখিত আবেদন যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।

আইনিউজ/এনএম/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়