নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ১৭:৫২, ১৫ জুলাই ২০২০
সাহেদকে নিয়ে মৌলভীবাজারে ছিলো ‘গুজব-বিভ্রান্তি’
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার সীমান্ত থেকে ঢাকার করোনা নমুনা পরীক্ষা কেলেঙ্কারীর প্রধান আসামী রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি বজলুর রশিদ।
এর আগে গত দুইদিন ধরে মৌলভীবাজারে সাহেদ অবস্থান করছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। মৌলভীবাজারে সাহেদের অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছে আইনিউজ।
জানা যায়, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রথম প্রচার করে সাহেদকে ধরতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচলনা করছে র্যাব। সাথে সাথে সারা জেলায় সাংবাদিকদের মধ্যে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সবাই ছুটতে থাকেন এই মিথ্যা তথ্যের পেছনে।
সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তারা নিশ্চিত হন খবরটি মিথ্যা।
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্ত বলেন, সে রাতে খবরের সন্ধানে আমরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পুলিশ সুপার এবং র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হই এটা বিভ্রান্তিকর তথ্য। তারা জানান, আমরা মিডিয়ার থেকে শুনেছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতে যেতে পারে এমন খবর রটানো হয় শমসের নগর পুলিশের বক্তব্য দিয়ে। তবে যে পুলিশ অফিসারের বক্তব্য প্রচার করা হয় তিনি আইনিউজকে বলেন, সাহেদ মৌলভীবাজারে আছে এমন কোন নির্দিষ্ট তথ্য আমি কাউকে বলিনি। আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে ১৩ জুলাই বিকেল থেকে কমলগঞ্জের শমশেরনগরে আকস্মিক পুলিশি তৎপরতা গণমাধ্যমের চোখে পড়ে । এ বিষয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, সে এই দিকে আছে এমন কোন নির্দিষ্ট তথ্য ছিলনা। তবে যেহেতু সীমান্ত এলাকা, তাই সে পালানোর চেষ্টা করতে পারে এটা আমাদের সন্দেহ ছিলো। আর সে কারণেই আমরা অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছিলাম।
আমি গণমাধ্যমকে এই বক্তব্য দিয়েছি যে “সাহেদ যেনো পালাতে গিয়ে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করতে না পারে তাই আমরা যেনো সতর্ক থাকি”। এ সতর্কতা একটি রুটিন ওয়ার্ক । আমাদের মত দেশে সব সব সীমান্ত এলাকায় এমন সতর্কতা ছিল। কিন্তু আমি নির্দিষ্ট করে বলেছি- এই এলাকায় আছে সেটা যে মিথ্যা বা ভুল বোঝাবুঝি ছিল তা সাহেদ গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রমাণিত হল।
সাহেদের বিষয় নিয়ে কোন নির্দিষ্ট বক্তব্য ছাড়া এবং অভিযান হয়ে থাকলেও তারা প্রচার করা নিয়ে বিরক্ত সচেতন সাংবাদিক মহল। একটি অনলাইন পত্রিকা সাংবাদিকদের ছবি দিয়ে প্রচার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে। মূলত সাংবাদিকরা গিয়েছিলেন সত্যতা যাচাই করতে।
চায়ের দেশ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হৃদয় শুভ জানান, গণমাধ্যমের চিলের পেছনে দৌড়ানো মনে হয় জীবনে প্রথমবারে শুনলাম। এই সাহেদ ইস্যুতে। একটি বেসরকারী টিভির সাংবাদিক চলছে অভিযান এমন শব্দে তোলপাড় করে তুলেন।অথচ র্যাব পুলিশের কেউই তা জানেন না বলে জানালেন। তবে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি অভিযানে কথা জানান, তারই উচ্চ অফিসার ‘সাহেদকে ধরতে জঙ্গলে অভিযানে’ আছেন। এই হলো অবস্থা। যে বেরসরকারী টিভি আগে বললো অভিযান তারাই পরে বলে গুজব। তাহলে কি এ গুজব মিডিয়ার সৃষ্টি।
বনিক বার্তা ও যমুনা টিভির মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি আফরোজ আহমদ বলেন, এটা কোন জঙ্গি আস্তানা ছিলনা যে নির্দিষ্ট জায়গা ঘেরাও করে অভিযান চালানো হয়েছে। সাহেদ পলাতক ছিল। তাকে ধরতে ঘাম ঝড়াচ্ছিল র্যাব, পুলিশ। তারা বিভিন্ন পেশাদার ট্যাকনিকেল বিষয় সামনে রেখে তার খোঁজে অভিযান করছিল। এমন অভিযানের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করা দায়িত্বশীলতা নয় । এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজকে কঠিন করে তুলে । অপরাধীকে সতর্ক হতে এবং পালাতে সাহায্য করে।
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহমুব এই ঘটনাকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
র্যাবের অভিযান পরিচালনা করছে এমন সংবাদে ঘটনার দিনেই র্যাবের শ্রীমঙ্গল এবং সিলেটে অফিসে যোগাযোগ করে আইনিউজ। র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর আহমেদ নোমান সেদিন জানান, এই রকম কোন তথ্য তাদের কাছে নেই এবং তারা নিজেও অভিযানে নেই।
সিলেট অফিসে মিডিয়া উইংও আইনিউজকে জানান এটা ভুল তথ্য, আমরা কোন অভিযানে নেই।
এ দিকে কমলগঞ্জের শমশেরনগরে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকাল ৫টা থেকে আকস্মিক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। শমশেরনগর চৌমোহনা থেকে ভারতের ত্রিপুরাগামী সড়কের মুখে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দাঁড়িয়ে যানবাহন তল্লাশি করেন।
গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সারা সিলেট বিভাগের সাথে ভারতের সীমান্ত থাকায়। সব জায়গায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে কোন জায়গায় সাহেদ আছে সেভাবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারলে আগেই গ্রেফতার করা হত।
গুজবের প্রথম দিন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, এই রকম সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই । তবে আমরা সতর্ক আছি। এই সতর্কতার নির্দেশ সব জায়গায় দেওয়া আছে।
মৌলভীবাজারের একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা অসন্তুষ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমের দায় আছে । বুঝতে হবে কোনটা সংবাদ আর কোনটা অপরাধীর পক্ষে যায়। তাকে ধরতে যদি অভিযান পরিচালনাও করা হত সেটা প্রচার করা ঠিক হতো না। আসামি গ্রেফতার হওয়ার পরে বা কেউ আসামীকে পালাতে সাহায্য করলে বা দায়িত্ব অবহেলা করলে নিউজ হতে পারত। কিন্তু অভিযান পরিচালনার নিউজ করে আমাদের বিভ্রান্ত করা হয়। একের পর এক ফোন আসতে থাকে এ বিষয়ে। যার কারণে আমাদের সেদিনের রুটিন কাজ ব্যাহত হয়।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার























