মধুমিতা দেব
আপডেট: ২০:৪১, ২১ জুলাই ২০২০
মেয়েদের জন্য অনেক ভাল সুযোগ সৃষ্টি করেছে ই-কমার্স
করোনাভাইরাসের সংকটে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ খুব জরুরি কাজ ছাড়া ঘরে থেকে বের হতে চাইছেন না। আর এই সময়ে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে কেনাকাটা। অনলাইনে যারা ক্রয় বিক্রয় করছেন তাদের কাছেও করোনাকালীন সময় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এই সময়ে সৃষ্টি হয়েছে অনেক নতুন নতুন উদ্যোক্তা।
এই উদ্যোক্তাদের একজন মধুমিতা দেব, তার ফেসবুক পেইজের নাম “মধুশৈলী”। ২০১৭ থেকে তিনি এখন পর্যন্ত নিয়মিত এই বাজারে টিকে আছেন। তিনি বিক্রি করেন হাতে তৈরি গহনা। গামছা গহনা, কাঠের গহনা, মেটাল-বিড্স এর গহনা এবং মুক্তার গহনা নিয়ে করছনে তার সিগনেচার প্রোডাক্ট গামছা গহনা ।
এই গহনা দিয়ে সারা দেশে ভাল সাড়া পেয়েছেন । করোনাকালীন এই সময়ে কেমন যাচ্ছেন ব্যবসার দিনকালসহ নানা বিষয়ে আইনিউজকে জানিয়েছেন মধুমিতা দেব। তিনি বলেন, করোনার সময়টা অনেকের জন্য অভিশাপ মনে হলেও আমার জন্য বলবো আশির্বাদ। কারণ আমি যখন প্রথম আমার উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছি এবং অনলাইন বিজনেসের জন্য পেইজ খুলেছি তখন আমি অনলাইনে অতোটা সাড়া পাইনি যতোটা পেয়েছি অফলাইনে।
তিনি বলেন, ক্রাফ্টিং আমার খুব পছন্দের। তাই ক্রাফ্টিং করতাম এবং অল্পস্বল্প গয়না বানাতাম। আমার পরিচিত, বন্ধু বান্ধব, প্রতিবেশি যারা আমাকে চিনেন, তারা আমার সাথে যোগাযোগ করতেন। আমার বাসায় এসে তাদের পছন্দের জিনিসটি নিয়ে যেতেন। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে। তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলেও কখনও তাদের কিছু দরকার হলে পছন্দের জিনিসটা দেখতে পারতেন না। কারণ তখন বাসায় আসতে পারতেন না। তাই আমি এই সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের সবাইকে আমার পেইজে আসতে বললাম। পেইজে যুক্ত হওয়ার পর তারা আমার প্রোডাক্টের ছবি দেখতে পারেন। পছন্দ হলে আমি তাদের পৌঁছেও দিতে পারি। এটা একমাত্র করোনার জন্য সম্ভব হয়েছে। কারণ এর আগেও আমি তাদের পেইজে আসতে বললেও তারা পেইজে যুক্ত হতে এবং পেইজে এক্টিভ থাকতে পছন্দ করতেন না। তারা সরাসরি পণ্য দেখে নিতে পছন্দ করতেন। পেইজে আমার পরিচিতরা এক্টিভ হবার পর আমি আরও অনেককে পেয়েছি। আমি আমার জেলা শহরের বাইরেও আমার প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিচ্ছি। এই করোনার সময়টাতে আমার হাসবেন্ড আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। কারণ আমরা সবাই বাসায় ফ্রি সময় কাটাচ্ছিলাম। বাসার বাইরে যাওয়া বন্ধ। তাই আমার হাসবেন্ড বিভিন্নভাবে আমাকে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। আর এজন্য আমি আমার পেইজে নিয়মিত থেকে অন্য সময়ের তুলনায় ভাল ফলাফল পেয়েছি। এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।
করোনার এই সময়টাতে মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা বাধ্য হয়ে করলেও তারা কিন্তু অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে নিজের অজান্তেই। যদিও আমার মনে হয় এই অভ্যাসটা আরও পরে তৈরি হতে পারত। কিন্তু করোনার জন্য এটা আরও আগেই হয়ে যাচ্ছে। আর আমি সবসময় আমার কাস্টমারকে আমার বেস্টটা দিতে চেষ্টা করি সব দিক থেকে। আর তাই বলছি ঘরে বসে মনের মতো সার্ভিস পেলে মানুষ অবশ্যই অনলাইনে কেনাকাটা করতে আগ্রহী হবে।
প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, অভিজ্ঞতার কথা আসলে বলে শেষ করা যাবেনা। অভিজ্ঞতা সবসময় নিয়েই চলেছি। যতো সময় যাবে ততোই অভিজ্ঞতা হবে। একটা কথাই বলতে পারি, লেগে থাকলে, শ্রম দিলে, ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে গেলে, সততা বজায় রাখলে সফলতা আসবেই। আমি আমার নিজের ক্ষেত্রেই বুঝতে পারছি। একসময় আমিও হতাশায় ছিলাম।
আমি প্রাণীবিদ্যায় অনার্স এবং মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি কিন্তু প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল নিজের প্রচেষ্টায় কিছু করার। তাই চাকরি করার দিকে এতো ঝোঁক ছিলনা। কিন্তু কি করব সেটা ভাবতে ভাবতেই অনেকটা সময় চলে যায়। আর তাই পরিবারের কথা আর লোকলজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেতে মাঝে মাঝে চাকরির চেষ্টা করতাম। কিন্তু মন দিয়ে চেষ্টা করতাম না। ঐ যে বললাম, নিজের প্রচেষ্টায় কিছু করার ইচ্ছা সেটাই মাথায় ঘুরঘুর করতো সবসময়। পড়াশোনা করে চাকরি না করে গহনা বানাই এটা সবার কাছে হাস্যকর ছিল এবং এখনো হাস্যকর। আর এজন্য অনেক বাঁকা কথা শুনেছি এবং শুনছি লোকের। তাই সবসময় নিজেকে তৈরি করার চেষ্টায় আছি।
একসময় লুকিয়ে কাজ করেছি, একসময় কাজে বিরতিও দিয়েছি। কাজে অনিয়মিত ছিলাম। চাকরি না করে গহনা বানানো যেন বিরাট এক ভুল! কিন্তু থেমে যাইনি। লেগে থেকেছি ধৈর্যের সাথে এবং কাজের প্রতি প্রচন্ড ভাল লাগা থেকে।আর এখন কিছু টা সফলতার মুখ দেখতে পাচ্ছি। তাই ধৈর্য আর শ্রম দিলে সব কিছু সম্ভব।
নতুন যারা শুরু করেছে তাদের জন্য পরামর্শ দিলে হলে কি বলবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন , নতুনদের জন্য এবং বিশেষ করে মেয়েদের জন্য কিছু কথা বলতে চাই। একে আমি উপদেশ বলবনা.. বলব সুপরামর্শ। এখনো অনেক আপু-দিদিরা আছেন যারা পড়াশুনা শেষে চাকরি করতে আগ্রহী নন। অথবা আগ্রহী হলেও চাকরি পান না। কারণ চাকরি পাওয়াটা এখন সোনার হরিণ জেতার মতো ব্যাপার হয়ে গেছে। আর তাই অনেকেই কি করবেন ভেবে না পেয়ে হতাশায় ভোগেন। আর এভাবে অনেকটা সময় চলে যায়। তাই বলছি -- আপনি প্রথমেই ঠিক করে নিন কোন কাজটি আপনি ভাল করতে পারেন। কি করতে আপনি আগ্রহবোধ করেন। সেটা হতে পারে লেখালেখি, হতে পারে পেইন্টিং, ক্রাফ্টিং ও হতে পারে, আবার রান্নাবান্নাও হতে পারে। অথবা গহনা তৈরির কাজ ও হতে পারে। এরকম আরও অনেক কিছু আছে। আপনি যে কাজটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন সেটা নিয়ে কাজ করুন। এগিয়ে যেতে পারবেন। কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক বাধা আসবে। মাথা ঠান্ডা রাখুন। ধৈর্য নিয়ে কাজ করুন। ভাল রেজাল্ট আসবেই।
কাজের কোয়ালিটি আপনার পণ্যের কোয়ালিটি সবসময়ই ঠিক রাখুন। মানে ভাল জিনিসটি সবসময় দেয়ার চেষ্টা করুন। অনলাইন বিজনেসে কাস্টমার খাতির খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাস্টমারের সঙ্গে সবসময় ভাল ব্যবহার করন। মেয়েদের জন্য ঘরে বসে অনলাইন বিজনেস থেকে ভাল কিছু আর হতে পারেনা। কারণ অনেক মেয়েরা আছেন ইচ্ছে থাকা সত্বেও চাকরি করতে পারেন না পারিবারিক এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে। তারা এবং যারা বিবাহিত আছেন তারা সংসার, সন্তান সামলিয়ে ঘরে বসে অনলাইন বিজনেস করতে পারেন অনায়াসে। এটি মেয়েদের জন্য অনেক বড় সুযোগ।
লেখক: উদ্যোক্তা, পেইজের নাম: মধুশৈলী
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার























