ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৩, ২ আগস্ট ২০২০

মৌলভীবাজার শহরে অবিক্রিত নেই কোনো গরুর চামড়া

মৌলভীবাজার জেলা শহরে অবিক্রিত নেই কোনো গরুর চামড়া। পৌর মেয়র এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সব চামড়া কিনে নিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

শহরতলির বালিকান্দি এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী, চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শওকত আইনিউজকে বলেন, ‘রোববার ফজরের আগেই লবণ মিশিয়ে আমরা সব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে ফেলেছি। গরুর একটা চামড়াও অবিক্রিত থাকেনি। কোনো চামড়া নষ্ট হতে দেইনি। আমরা সব কিনে নিয়েছি। অল্প কিছু চামড়া গরমে নষ্ট হয়েছে।

মো. শওকত বলেন, ‘মেয়র ফজলুর রহমান ও জেলা প্রশাসক আমাদের সহযোগিতা করেছেন। কোনো চামড়া যেন অবিক্রিত না থাকে, সেজন্য মেয়র নিজে উপস্থিত হয়ে আমাদের অনুরোধ করেছেন, সহযোগিতা করেছেন।

মেয়র ফজলুর রহমান আইনিউজকে বলেন, ‘শনিবার (১ আগস্ট) ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বাসটার্মিনালে অবস্থান করি। সেখানে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করি। কোনো চামড়া যেন অবিক্রিত না তাকে- বিষয়টি তদারকি। ব্যবসায়ীরা সব চামড়া কিনে নিয়েছেন। গরুর কোনো চামড়া অবিক্রিত থাকেনি।’

মেয়র বলেন, ‘এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। আমরা নষ্ট হতে দিতে পারি না।

বালিকান্দির চামড়া ব্যবসায়ী মো. সুলেমান বলেন, ‘আমরা ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০, ১৫০, ২৫০, ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে চামড়া কিনেছি।’। তিনি প্রায় হাজার, বারো’শ চামড়া কিনেছেন- জানান মো. সুলেমান।

মো. শওকত জানান, মৌলভীবাজার শহর ও আশপাশ এলাকা থেকে প্রায় দশ থেকে বারো হাজার পিস গরুর চামড়া কিনে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে অল্প কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে।

তবে ছাগলে কোনো চামড়া কেউ কেনেন নি বলে জানান, মো. শওকত।   

জেলার সাতটি উপজেলায় এবছর আনুমানিক প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার পিস গরুর চামড়া সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য বছর এ পরিমাণ থাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজা্র।  

এ বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে, সে দরে চামড়া বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

খুচরো পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বেশি দাম দিয়ে প্রতি পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা, যারা ট্যানারিতে নিয়ে চামড়া বিক্রি করেন, তারা নানা কারণ দেখিয়ে দাম বেশি দিতে নারাজ। এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়