ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

এ.জে লাভলু, বড়লেখা

প্রকাশিত: ১৪:২৫, ৫ আগস্ট ২০২০
আপডেট: ১৪:৫২, ৫ আগস্ট ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে হাকালুকিতে পর্যটকদের ভিড়

পাখিবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের পাখিদের ওড়াওড়ি দেখছেন। হাওরের বুকে চলছে ছোটবড় নৌকা। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকাওয়াচ টাওয়ার আর বনবিভাগের বিট অফিসের ওপর দাঁড়িয়ে হাওরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করছেন পর্যটকরা।

উপরে নীল আকাশ আর নিচে অথৈ স্বচ্ছ জলরাশি। হাওরের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে হিজল-করচসহ নানা জলজ বৃক্ষ। হাওরের জলে বয়ে চলছে ছোটবড় নৌকা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।

নয়নাভিরামএই দৃশ্যটি এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কেড়ে নেয়  ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের। তাইতো সেখানে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।

এবারের ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকি হাওর। করোনা ভাইরাসের ভয় উপক্ষো করে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন।

এতে আয় রোজগার বেড়েছে স্থানীয় নৌকার মাঝিদের। ফলে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ও বনবিভাগের হাকালুকি বিট অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম হাওর হাকালুকির বেশির ভাগই পড়েছে মৌলভীবাজারে বড়লেখায়। প্রতিবছর বর্ষা এলেই হাকালুকি হাওরে পর্যটকের ভীড় লেগে থাকে। তবে এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ভ্রমণপিপাসু মানুষ করোনার ভয় উপেক্ষা ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসছেন হাকালুকি হাওরে।

ঈদের দিন শনিবার থেকে ঈদের পঞ্চমদিন বুধবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, হাকালুকি হাওর ঘুরতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। কেউবা এসেছেন বন্ধুদের সাথে। হাওরপারের হাল্লা গ্রামে যেতেই দেখা গেল সড়কে ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাখা হয়েছে গাড়ি।

বর্ষায় সড়কের বিভিন্নস্থানে ভাঙন ও পানি ওঠায় অনেকেই আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে গাড়ি রেখেছেন। সড়কের পাশ ঘেঁষে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে ছোট বড় নৌকা। মানুষজন দর কষাকষি করে সেসব নৌকায় ওঠে হাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পাখিবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের পাখিদের ওড়াওড়ি দেখছেন। হাওরের বুকে চলছে ছোটবড় নৌকা। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকাওয়াচ টাওয়ার আর বনবিভাগের বিট অফিসের ওপর দাঁড়িয়ে হাওরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করছেন পর্যটকরা।

ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ কেউ ওয়াচ টাওয়ার থেকে হাওরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। সাঁতার কাটছেন।ওয়াচ টাওয়ারে দায়িত্বরত লোকজন তাদেরকে সতর্ক করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। সন্ধ্যা অবধি সেখানে মানুষ আনোগোনা করছেন।

হাওরে ঘুরতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি আবিদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন থেকে ঘরবন্দি। অনেকদিন ঘোরাঘুরি হয়নি। প্রকৃতির কাছকাছি যাওয়া হয়নি। ভেতরে একরকম অস্বস্তি কাজ করছিল। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে হাওর থেকে ঘুরে আসি। এখানে এসে ভালো সময় কেটেছে। মনটা সতেজ লাগছে। এখানে সূর্যাস্ত দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।

চাকরিজীবী শাহ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য দেখতে অন্যরকম ভালো লাগে। এখানকার পরিবেশ আমাকে বার বার টানে। তাই প্রাণের টানে এখানে ছুটে এসেছি। অসম্ভব ভালো লাগছে। আসার সময় সড়কপথে কষ্ট হয়েছে। তবে হাওরের রূপ দেখে তা ভুলে গেছি।

শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে হাওর দেখতে অনেকটা মিনি কক্সবাজারের মতো লাগে। আর এখানে কী নেই। নির্মল বাতাস রয়েছে। হিজল-করচ গাছ রয়েছে। পাখি বাড়ি রয়েছে। এগুলো হাওরের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে ঘুরতে এসে অন্যরকম ভালো লাগছে। আমরা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘোরাঘুরি করছি।

স্থানীয় এক নৌকা চালক বলেন, আমরা বর্ষাকালের জন্য অপেক্ষায় থাকি। এসময় মানুষজন হাওর ঘুরতে আসেন। তখন আমাদের বাড়তি আয় রোজগার হয়। এই সময়ে প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আয়-রোজগার করা যায়।

বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউটতপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঈদের আগে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশ মানুষ আসেতন। ঈদের দিন থেকে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে। এখানে জনবল সংকট। একা মানুষজনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিত খেতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আরও কয়েকজন লোক এখানে দিতো তাহলে ভালো হতো।

আইনিউজ/এসডিপি/এ.জে লাভলু

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়