ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

তপন পালিত

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ১৮ আগস্ট ২০২০

আজিজুর রহমানের স্মৃতিচারণমূলক সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত অংশ

নাম: আজিজুর রহমান, পিতার নাম: মৃত আব্দুস সাত্তার, মাতার নাম: মৃত কাঞ্চন বিবি, জন্ম তারিখ: ২৬/৯/১৯৪৩, মৃত্যু: ১৭/০৮/২০২০। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক (বানিজ্য)।

পেশা: পারিবারিক ব্যবসা। দলে বর্তমান (২০১৬) অবস্থান (পদবী): জেলা পরিষদ প্রশাসক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ।

ঠিকানা: গ্রাম/মহল্লা: গুজারাই, ডাকঘর: মৌলভীবাজার-৩২০০, উপজেলা/থানা: মৌলভীবাজার, শহর: মৌলভীবাজার, জেলা: মৌলভীবাজার।

আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে আজিজ নানার সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য উনার বাসভবন গুজারাই যাই। সেখানে ৩১ টি প্রশ্নের আলোকে উনার বর্ণাঢ্য জীবনের কিছুটা তুলে আনার চেষ্টা করি। উনার সম্পর্কে অনেক কিছু পূর্বে শুনে থাকলেও সেদিন উনার রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে জানার পর মনে একটি প্রশ্নই উদয় হয়েছিলো যে, এমন একজন নেতা নীরবে নিবৃত্তে লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেলেন? কিন্তু আমরা উনার অবদানের কোনো মূল্যায়নই করতে পারলাম না?

এরপর উনার সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মৌলভীবাজার জেলা শাখা করার জন্য কয়েকবার দেখা করেছি। উনি অসুস্থ ছিলেন বলে কাজ তেমন এগোয়নি। উনার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে একটি গ্রন্থ প্রকাশের জন্যও আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। উনি বলেছিলেন বয়স হয়েছে, এখন আর আমার পক্ষে লেখা সম্ভব না। উনাকে বলেছিলাম নানু আপনি বক্তব্য রেকর্ড করেন। সেটা ট্রান্সক্রিপ্ট করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা যাবে। তিনি সে কাজ শুরু করেছিলেন।

করোনার এই মহামারি আসার পূর্বে যখন উনার সাথে জেলা পরিষদে দেখা করতে যাই তখন দেখলাম উনি নিজের বক্তব্য রেকর্ড করা শুরু করে অনেক দূর এগিয়েছেন। উনার সহকারী সেগুলো কম্পোজ করে দেয় আর উনি দেখে কারেকশন করেন। আমি জানিয়েছিলাম যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন নিয়ে কাজ করছি এবং উনার সাক্ষাৎকার লাগবে। তখন বলেছিলেন আমিতো কিছুটা রেকর্ড করেছি। তুই নিয়ে যা, পড়ে আমাকে জানাস কেমন হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অবদান অংশের একটি প্রিন্ট কপি উনার সহকারী আমাকে এনে দিয়েছিলো। আমি পড়ে কিছু জায়গায় মার্ক করে রেখেছিলাম যে, নানুর সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবো। কিন্তু মহামারি করোনা সে সুযোগ দিলো না। আপনার সাথে শেষ দেখাটাও করতে পারলাম না নানু। খুবই ইচ্ছে ছিলো আপনার আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হোক। জানিনা বর্তমানে সেটা কোন পর্যায়ে আছে। তবে আমার মনে হয় এটি শেষ পর্যায়ে ছিলো। এই আত্মজীবনী প্রাকাশিত হলে আপনার মতো মহান নেতা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম অনেক কিছুই জানতে পারবে।

পরপারে ভালো থাকবেন নানু। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছি। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ তুলে দিলাম।

১. কিভাবে, কোন সংগঠনের মাধ্যমে আপনার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শুরু হয়?

উত্তরঃ আমি আসলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। পীর হাবিবুর রহমান আমাকে ন্যাপে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু আমি রাজনীতির চেয়ে সাংস্কৃতিক বিষয়ের সাথে জড়িত থাকতে ভালবাসতাম। দেওয়ান ফরিদ গাজী আমার সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করেন। কারণ মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী প্রয়োজন ছিল। ১৯৬৬ সালে যখন ৬ দফা আন্দোলন সারাদেশে ব্যাপকতা লাভ করে তখন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের পক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমি কাজ শুরু করি। সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু সিলেট আসেন এবং আমাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে বলেন। সেই থেকেই আছি। ১৯৬৮ সালে মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগদান করি।


২. মুক্তিযুদ্ধের আগে বা পরে আপনি বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন? তার সাথে আপনার কোন স্মৃতি থাকলে বলুন।

উত্তরঃ আমি যখন স্নাতক পাশ করে কলেজ থেকে বের হয়েছি তখন ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন সারা দেশে ব্যাপকতা লাভ করে। তখন সেই বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মৌলভীবাজারে আমি ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করি। সেই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান সাংগঠনিক সফরে মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট যান। আমি সেদিন পারিবারিক কাজে সিলেট ছিলাম। সিলেট থেকে আসার পথে রেললাইনের কাছে লোকসমাগমের ভিড়ে গাড়ি নিয়ে আটকা পড়ি। গাড়ি থেকে নেমে যখন খোঁজ নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করে দেওয়ান ফরিদ গাজী (গাজী ভাই) আমার হাত ধরে জিজ্ঞাসা করেন, “কোথায় ছিলে? মৌলভীবাজারে শেখ সাহেব তোমাকে খুঁজেছেন। আমার সাথে চল।” বলে সিলেটে একটি বাড়িতে আমাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সামনে হাজির করে বলেন “আজিজ রাজনীতিতে আসতে চায় না।” আমি বিনীতভাবে বলি “আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদের পক্ষে কাজ করছি। রাজনীতি কম বুঝি এবং রাজনীতি বড় ইয়ে...” আমার কথা শুনে শেখ সাহেব আমার পিঠে একটি থাপ্পর দিয়ে বলেন, ২৫ বছরে না বুঝলে কবে বুঝবে? বৃহত্তর সিলেট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিনকে বলেন, “আজিজ আওয়ামী লীগে যোগদান করবে। আগামীকাল তাকে দিয়ে যোগদানের বিবৃতিটা সংবাদ মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবে।” শুরু হলো আমার সক্রিয় রাজনীতি।

৩. নতুন প্রজন্মের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে আপনার প্রত্যাশা।

উত্তরঃ নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশটাকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবে এই প্রত্যাশাই করি। (সংক্ষেপিত)

 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়