রিপন দে
আপডেট: ১৬:২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২১
সেবায় নয়, ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ
এসব স্থাপনায় সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ
মৌলভীবাজার শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এবং ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে যুগিডর এলাকায় একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে মৌলভীবাজার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন।
প্রায় তিন একর জায়গার মধ্যে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প ও পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এতে জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫হাজার ৫১৯ টাকা। কিন্তু পরিবহন মালিকদের অনীহাসহ নানা কারণে বাস টার্মিনাল চালু করা যায়নি আজও। বর্তমানে এখানে ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে। বরং শহরে প্রধান সড়কের উপর শ্রীমঙ্গল রোডে গড়ে উঠেছে অবৈধ টার্মিনাল যা শহরের যানজটের অন্যতম কারণ।
এই স্থাপনার মত গত কয়েক বছর বেশ কিছু স্থাপনা গড়ে উঠেছে মৌলভীবাজারে যার সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুধুই টাকার খরচ হয়েছে আর ঠিকাদারদের লাভ হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। কতগুলো স্থাপনা নির্মাণের পর সেবাহীন ভাবে পরে আছে তার তথ্য কোথাও নেই তবে জেলার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজ নিয়ে জানা যায় এমন স্থাপনা আছেন অনেক।

জেলার জুড়ি উপজেলার এমনই একটি স্থাপনা বিটুলি প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভবন ও অ্যানিমেল শেড নির্মাণের পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এটি জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে চালু হয়নি এখনো। উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা গ্রামে এটির অবস্থান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২০ শতক জমির উপর ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় নির্মিত এই স্টেশনে আছে একটি একাডেমিক ও ডরমেটরী ভবন। ভবনের পাশেই রয়েছে একটি অ্যানিমেল শেড। এছাড়াও ভবনের অভ্যন্তরে অলস পড়ে আছে কোটি টাকার ৫১টি যন্ত্রপাতি ও ফার্নিচার। গত তিন বছর ধরে এগুলো পড়ে থাকার কারণে ধুলোবালি জমে রয়েছে। এখানে নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটি দেখ ভালের জন্য রয়েছেন শুধুমাত্র একজন আউটসোর্সিং নিরাপত্তা প্রহরী। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভবন ও যন্ত্রপাতির সুফল জনগণ পাচ্ছেন না।
দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাছিন আহমদ চৌধুরী জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। মোট কত টাকার মেশিন ও রিএজেন্ট নষ্ট হচ্ছে সি হিসেব তার জানেন না। চালু না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে যে ল্যাব রয়েছে বা পশু-প্রাণি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার যে যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো পরিচালনা করার জন্য অদ্যাবধি জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিলো সেটি ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্পে ৩জন কর্মকর্তা ও ৯জন স্টাফ থাকার সুপারিশও করা হয়েছিল।
কেনো যে এই জমি আমি দান করেছিলাম তা বুঝে উঠতে পারিনি জানিয়ে এই কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটির জন্য ২০ শতক জমি দানকারী বিরইনতলা গ্রামের বাদশা মিয়া বলেন, নির্মাণের তিন বছর ধরে এখানে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সবসময়ই তালাবদ্ধ থাকে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখা যায় না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, এটি এখনো চালুই হয়নি তাই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কি তা আজও আমাদের বোধগম্য নয়।
এদিকে প্রাণি বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই জেলায় প্রায়ই লোকালয়ে এসে ধরা পড়ে বন্যপ্রাণি। এসব প্রাণিকে উদ্ধার এবং সেবা দেওয়ার জন্য জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ২০১৩ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি রেসকিউ সেন্টার। কিন্তু জনবলের অভাবে সেবা চালু করা যায়নি এখনো।
শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, জনবলের সংকটে এখানে রেসকিউ সেন্টারটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এর মালামাল নষ্ট হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।
মৌলভীবাজার জেলা বাপার সমন্বয়ক আ স ম সালে সুহেল জানান, বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অনেক প্রাণি খাদ্যের জন্য লোকালয়ে গেলে স্থানীয়দের হাতে ধরা পরে এমনকি মাঝে মাঝে শিকারিদের হাতে আটকা পড়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, উদ্ধার হওয়া আহত প্রাণিগুলোর চিকিৎসার জন্য নেই কোনো পশু চিকিৎসক। বন্যপ্রাণীর স্বার্থে যত দ্রুতসম্ভব লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

স্থাপনা নির্মাণ করলে সে টাকা জনগনের পকেট থেকে যায়। কিন্তু চালু না হলে মাঝপথে ঠিকাদারদের লাভ ছাড়া আর কিছুই হয়না। তবে এইসব বড় বড় স্থাপনার মত পরিকল্পনাবিহীন কিছু ছোট সেতুও রয়েছে যা নির্মাণের বছরের পর বছর চলে গেলেও কাজে আসছে না। জেলায় কয়েকটি ব্রিজ রয়েছে যেগুলো সংযোগ সড়কের অভাবে বছরের পর বছর অব্যবহৃত হয়ে পরে আছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেরিন চা বাগান, ডলুছড়া, দিলবরনগর পুরান বাড়ি এলাকার সড়কের একটি ব্রিজটি বিশ বছরেও জোড়া লাগেনি। ইউনিয়নের দিলবরনগর এলাকার বাসিন্দারা জানান- জেরিন চা বাগান, ডলুছড়া, দিলবরনগর পুরান বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যে ২০০০ সালে সরকারি অর্থে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজ নির্মাণের সময় নতুন রাস্তা তৈরি কিংবা মেরামত করা হয়নি। তারপর বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যান কেমেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দেয়ার কথা জানালেও কেউ এটি সংস্কার করে দেননি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রসাশক মীর নাহিদ আহসান আইনিউজকে বলেন, কেনো এভাবে পরে আছে সে ব্যাপারে খুঁজ নেব। বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মতামত দেওয়া যাচ্ছে না। তবে অবগত হলাম এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























