ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১২, ২৯ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ২০:২৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২১

উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথে দৌড়ালেন সাত শতাধিক রানার

চা-বাগানের উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথে দৌড়বিদরা

চা-বাগানের উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথে দৌড়বিদরা

শীতল বাতাস আর কুয়াশায় মোড়ানো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান ফুটবল মাঠ। এ মাঠে শুক্রবার জড়ো হয়েছেন দেশ-বিদেশের সাত শতাধিক রানার নারী-পুরুষ ও শিশুরা। তবে আনন্দ উচ্ছ্বাসে সকলেই সমান। পাহাড়ি পথে দৌড়ানোর অপেক্ষায় সবাই। কেননা প্রথমবারের মতো সেখানে আয়োজন করা হয়েছে আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন। 

ভোরের সূর্য উঠার আগেই শমশেরনগর চা-বাগান মাঠে এরকম উৎসাহী মানুষের ভীড়ে জমে ওঠে। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) এই মাঠে শমশেরনগর আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনের আয়োজন করেছে শমশেরনগর রানার্স কমিউনিটি।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন পর্যায়ের দূরত্বে এই ম্যারাথন হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ১০ কিলোমিটার, ২১ কিলোমিটার ও ৫০ কিলোমিটার। সকাল সোয়া ছয়টায় ৫০ কিলোমিটারে অংশগ্রহণকারী দলটি মাঠ থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। পৌনে সাতটায় রওনা দেয় ২১ কিলোমিটারের দলটি এবং সোয়া সাতটায় রওনা দেয় ১০ কিলোমিটারের দলটি। ৫০ কিলোমিটারে অংশ নিয়েছেন ১৭৩ জন। ২১কিলোমিটারে ২৬৫ জন এবং ১০ কিলোমিটারে ১৮৫ জন অংশ নিয়েছেন।

মাঠ থেকে দৌড় শুরু করেই চা-বাগানের উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথে ছড়িয়ে পড়েন রানাররা। আয়োজকদের নির্দেশিত পথে যার যার দূরত্ব অনুযায়ী তারা ছুটে চলেছেন। পাহাড়ি পথে ধীর, শান্ত গতির দৌড় আশপাশের চা-বাগানের মানুষসহ পথচারীরা আনন্দের সাথে উপভোগ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে পথের পাশের মানুষ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা, স্বাগত জানিয়েছেন।

শমশেরনগর, কানিহাটি ও বাঘিছড়া চা-বাগানের পথে পথে তখন নানা রঙের টি-শার্ট পরা নারী-পুরুষ ও শিশুর দৌড় সবুজ চা-গাছের ফাঁকে ফাঁকে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ফুটিয়েছে। কেউ গন্তব্য ছুঁয়ে মাঠের দিকে ফিরছেন, কেউ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। অনেকের কাছে এরকম পাহাড়ি ও চা-বাগানের পথে দৌড়ানো ছিল একেবারেই নতুন। কেউ আবার ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন প্রথম। নতুন অংশগ্রহণকারীদের আন্নদ উচ্ছ্বাস ছিল অনেকটাই বেশি।

সকাল সাড়ে আটটার পর থেকেই গন্তব্য ছুঁয়ে মাঠের দিকে ফিরতে থাকেন রানাররা। ফিরে আসার সাথে সাথেই আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী রানারদের হাতে তুলে দেন ‘ফিনিসার মেডেল’।

চট্টগ্রামের বয়োবৃদ্ধ রানার নৃপেন চৌধুরী বলেন, ‘খুবই সুন্দর ট্রেল রুট। এই প্রথম ট্রেল ম্যারাথন উাপভোগ করছি।’ ২০১৬ থেকে তিনি ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে ৫০টি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। আজকে অংশ নেন ২১ কিলোমিটার ম্যারাথনে।

ঢাকার বসুন্ধরা রানার্স গ্রুপের মিঠুন বিশ্বাস বলেন, ‘তিনি ২১ কিলোমিটার দৌড়েছেন। এ রকম ট্রেলে আগে দৌড়ান নি। তবে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এই উঁচু-নিচু ট্রেল খুব উপভোগ করেছেন।’

একমাত্র শাড়ি পড়ে ২১ কিলোমিটারে অংশ নেওয়া হবিগঞ্জের মেয়ে অনুসুয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘ট্রেলে এই প্রথম। ২০১৬ থেকে সমতলে ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছেন। তবে এই প্রথম সম্ভবত বাংলাদেশে প্রথম আলট্রা ট্রেইল ম্যারাথনে চা বাগান
বেষ্টিত উঁচু-নিচু টিলা বেয়ে রান করার আন্দই আলাদা।

ঢাকা থেকে এসে অংশ নেওয়া আঞ্জুমান লায়লা নওশীন বলেন, ‘ঢাকায় দৌড়ানো হয়। এখানে এসে তাঁবুতে ছিলাম। চা-বাগানের ভেতর দিয়ে দৌড়ানোর মজাটাই অন্যরকম। শিশির কণা ঝরছে। মাথায় মুক্তার দানার মতো জমছে। দারুণ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চেক রিপাবলিকান নাগরিক অংশগ্রহণকারী নারী বলেন,‘বিস্ময়কর। উপভোগ করেছি। তবে মন খারাপ,আমার বন্ধু অংশ নিতে পারেনি।’

সিলেট থেকে অংশ নেওয়া আমিনুল হক বলেন, ‘ট্রেলের আরও চার-পাঁচটা পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবক থাকলে ভালো হত। অংশগ্রহণকারীরা সবাই নতুন। অ্যারো চিহ্নগুলো নিচু থাকায় অনেকের বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। এছাড়া সবকিছু এক্সাইটিং। প্রাকৃতিক ভিউ অসাধারণ।’

শমশেরনগর আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনের সদস্যসচিব নবিল শমশেরী বলেন, ‘এর আগেও নিজ উদ্যোগে ম্যারাথন করেছি। এবার বড় পরিসরে ম্যারাথন হয়েছে। অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতে হয়তো আরও ব্যাপকভাবে করা সম্ভব হবে।’

আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, আমেরিকা,নেপাল ও চেক রিপাবলিকান প্রজাতন্ত্র থেকে ৩০ জন অংশ নিয়েছেন। 

সকাল ১১টার মধ্যে ১০ ও ২১ কিলোমিটারে অংশ নেওয়া অনেকেই মাঠে ফিরে আসলেও ৫০কিলোমিটারে অংশ নেওয়া রানাররা গন্তব্য স্পর্শ করতে তখনও চা-বাগানের উঁচু-নিচু পথে ছুটে চলছেন। 

৫০ কিলোমিটার দূরত্বের পুরুষ বিভাগে ম্যারাথনে প্রথম হয়েছেন শাহফুজ শাওন। দ্বিতীয় হয়েছেন শামছুজ্জামান আরাফাত ও তৃতীয় হয়েছেন কমল কৃষ্ণ রায়। ৫০কিলোমিটার দূরত্বে মেয়েদের বিভাগে প্রথম হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রনি এন্ডারসন। দ্বিতীয় হয়েছেন শিফাত ফাহমিদা ইতি ও তৃতীয় হয়েছেন নিশাত মজুমদার।

২১ কিলোমিটার দূরত্বে পুরুষ বিভাগে প্রথম হয়েছেন আল আমীন, যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে সাব্বির ও কাশেম এবং তৃতীয় হয়েছেন আব্দুল আওয়াল। মেয়েদের বিভাগে প্রথম নাসরিন বেগম, দ্বিতীয় নাসরিন ও তৃতীয় হয়েছেন নাজনিন সুরতানা।

১০ কিলোমিটার দূরত্বে পুরুষ বিভাগে প্রথম হয়েছেন নেপালের সাবেহীন মারজান। দ্বিতীয় হয়েছেন মিজান আহমেদ ও তৃতীয় হয়েছেন শেখ জহিরুল ইসলাম। মেয়েদের বিভাগে প্রথম হয়েছেন শিউরী শবনম। দ্বিতীয় হয়েছেন মবি সূত্রধর ও তৃতীয় হয়েছেন নদী ওহাব।

বিকাল সাড়ে ৩টায় অতিথি হিসিবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কারেরঅর্থ ও ক্রেস্ট বিতরণ করেন লিডিং ইউনিভার্সিটি সিলেটের ভিসি বনমালী ভৌমিক, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জসিমউদ্দীন আহমদ ও শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমেদ।

আইনিউজ/এম.আর/ এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়