হেলাল আহমেদ
আপডেট: ১৮:৫৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২১
মৌলভীবাজারে নির্বাচন বর্জন কি বিএনপির ভুল ছিলো?
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচন। কিন্তু সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রশ্ন তোলে ভোট বর্জন করেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমান। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই বলে মাত্র একদিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে নির্বাচন বর্জন করেও ৩ হাজার ৭৩২ ভোট পেয়েছেন অলি।
নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি কি ভুল করেছে? এ নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনে মাঠে না থেকেও বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রায় ৪ হাজার ভোট পাওয়ায় অনেকেই বলছেন নির্বাচন বর্জন করা ছিলো বিএনপির ভুল। কারণ, নিরেপেক্ষতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্ন তোলে বিএনপি ভোট বর্জন করে। তারা বলেছিলেন নির্বাচনের পরিবেশ নেই।
তবে সাংবাদিক ও সাধারণ ভোটারদের পর্যবেক্ষণে ভোটের ফল প্রকাশকালীন বিচ্ছিন্ন কিছু উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছাড়া এবারের পৌর নির্বাচন সাম্প্রতিককালের সব থেকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
নির্বাচনের আগের দিন শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমান।
সাংবাদিক সম্মেলনে অলিউর রহমান অভিযোগ করেন, দলের সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের ফোনে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে চারজন নির্দিষ্ট ছাত্রলীগের ক্যাডারকে গ্রেফতারের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।‘
কেমন ছিলো নির্বাচন পরিস্থিতি
মৌলভীবাজারে পৌরসভা নির্বাচনে শহরের ১৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম চলে। এদিন নির্বাচনকে ঘিরে শহরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিশেষ করে পুলিশি তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রেই কঠোর নিরাপত্তা ও নির্দেশনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ করা হয়।
শনিবার সকাল থেকেই পাড়া-মহল্লা থেকে ভোটারদের এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে যেতে দেখা গেছে। যাদের অনেকেরই বক্তব্য ছিলো, এবছর কোনও ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিয়েছেন তারা।
তরুণ ব্যবসায়ী জাহেদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ৩০ জানুয়ারি মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচন স্মরণকালের সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি উদাহরণ। অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন শেষ করতে পেরেছে প্রশাসন।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সারাদিন মাঠে থেকে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্ত বলেন, 'অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর নির্বাচন হয়েছে অনেকটাই শান্তিপূর্ণভাবেই। প্রার্থীরা তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। কেন্দ্রগুলোতে কোনো সহিংসতার খবর আমরা পাইনি। তাছাড়া এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন।'
শহরের ১৮টি কেন্দ্রের ১৮টিতেই ভোটগ্রহণ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। তবে শহরের বাজার স্কুলে ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
অপরদিকে কাশিনাথ কেন্দ্রে গণ্ডগোল করার চেষ্টা করলেও সচেতন ভোটারদের হাতেই ধরা পড়েন ওই জাল ভোটার। পরে তাকে আটকে পুলিশে দেয়া হয়।
নির্বাচন বর্জন কী তবে বিএনপির ভুল ছিলো?
বিএনপির নির্বাচন বর্জন নিয়ে আলোচনা চলছে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো কিনা আইনিউজের এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন স্তরের কিছু নাগরিক।
এ ব্যাপারে তরুণ নাগরিক তারেক আজিজ বলেন, 'আমার মনে হয়েছে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ভুল করেছে। বিএনপি মাঠে না থেকেও চার হাজার ভোট পেয়েছে। নির্বাচনের দিন তাদের কোনো এজেন্ট ছিলো না। তাদের প্রার্থী, কর্মী কেউই মাঠে ছিলেন না। তবু বিএনপি সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিয়েছেন। ফলে চার হাজার ভোটও পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী। যা মোট প্রদত্ত ভোটের ২০ শতাংশেরও বেশি। কেউ তাদের সমর্থকদের বাধা দেয়নি। কিংবা নৌকার এজেন্টরাও কাউকে নৌকায় ভোট দিতে জোর জবরদস্তি করেন নি। ভোটাররা নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন।'
'আমার মনে হয়েছে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে ভুলই করেছে' যোগ করেন তারেক আজিজ।
আহনাফ নামের এক ভোটার বলেন, 'মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করলেও ধানের শীষে অনেক ভোট পড়েছে। নির্বাচন বর্জন না করলে হয়তো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারতো।'
মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্ত মনে করেন বিএনপি কৌশলগত কারণে নির্বাচন বর্জন করতে পারে।
বিএনপি কেন নির্বাচন বর্জন করলো প্রশ্নের জবাবে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক বলেন, ‘আমি মনে করি এখনো বিএনপির জনসমর্থন অনেক বেশি। আমরা যদি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ পেতাম তাহলে আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় পেতেন। তবে তখন ব্যাপক রক্তাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো। আমাদের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হতো। সহিংসতা এড়াতেই আমরা নির্বাচন বর্জন করেছি।'
এদিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন নির্বাচনের দুইদিন আগে শহরের চৌমোহনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেয়র ফজলুর রহমানের জনসভায় বলেছিলেন, 'বিএনপি তাদের শোচনীয় পরাজয় বুঝতে পেরে পালাবার পথ খুঁজছে। তারা এখন নির্বাচন বর্জনের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে।'
মোতায়েন ছিলো ৫'শ পুলিশ সদস্য
মৌলভীবাজার পৌর নির্বাচনের পরিস্থিতির ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, যে নির্বাচন যতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেখানে বিবদমান প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েই থাকে। এটা যাতে কোনো বড় ধরণের ঘটনায় রূপ না নেয় সেজন্য আমরা প্রস্তুত থাকি। সে হিসেবে মৌলভীবাজার পৌরসভায় বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এজন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি ছিলো। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করার জন্য পাঁচশো পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো।
আইনিউজ/এইচএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























