কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট: ০০:১৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
এক সপ্তাহে কমলগঞ্জে পিপিআর রোগে দুই শতাধিক ছাগলের মৃত্যু
ফাইল ছবি
ছাগলের প্রাণঘাতী পিপিআর রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে ছাগলের আসে জ্বর। তারপর সর্দি হয়ে নাক দিয়ে পড়ে অবিরত পানি। সবশেষে পেট ফুলে ডায়রিয়া দেখা দিলে মৃত্যু হয় আক্রান্ত ছাগলটির। এমন ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মারা গেছে দুই শতাধিক ছাগল।
সোমবার( ৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সেখানকার কয়েকটি গ্রামে পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শতাধিক ছাগল মারা গেছে। এদের মধ্যে বাচ্চা ছাগলের সংখ্যা বেশী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে মাধবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের খামারি আতাউর রহমানের ৩৩টি, পারোয়া বিল গ্রামের কৃষক ছবুর মিয়ার ১৩টি, একই এলাকার গোপাল নুনিয়ার ৬টি, ইসমাইল মিয়ার ৬টি, ছয়সিড়ি গ্রামের আব্দুল আলিমের ২টি, আরেক চা শ্রমিকের ১১টি, কাটাবিল গ্রামের দুই কৃষকের ১৩টি, চা শ্রমিক অতুল নুনিয়ার ১০টি, রামচন্দ্র গড়ের ১০টি, সুমন দাসের ৫টি, শ্রীনাথ ভরের ৩টি, রাম নারায়ণ যাদবের ২টি, মাধবপুর বাজারের ইকবার হোসেনের ২টি, গোপাল নুনিয়ার ৫টি, সঞ্জয় বীনের ১৩টি, শ্রীনাথ দাসের ২টি, মাধবপুর চা বাগান ৮নং লাইনের শ্রমিক সঞ্জয় দাসের ১৯টি, সুজিত কাহারের ৩টি, রাম দয়াল ভরের ৪টি, রুহিত লাল ভরের ২টি, বসন্ত কৈরীর ২টি, শ্রীরাম ভরের ২টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও পিপিআরে সংক্রমিত হয়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গ্রামের আরও অর্ধশত ছাগলের মৃত্যু পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে দুই শতাধিক ছাগল মারা গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতিগস্ত হয়েছেন ছাগলের মালিক কৃষক ও চা শ্রমিকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত চা শ্রমিক অতুল নুনিয়া বলেন প্রথমে তার ৫টি ভেড়া ও ছাগল জ্বরে আক্রান্ত হয়। তারপর শুরু হয় সর্দি। সবশেষে পশুগুলোর পেট ফুলে ডায়রিয়া হয়ে মারা যায়।
চা শ্রমিক গোপাল নুনিয়া, ইসমাইল মিয়া ও কৃষক ছবুর মিয়া বলেন, এ রোগ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই নেই। স্থানীয় পশু চিকিৎসক রামভজন ভরকে এনে অসুস্থ ছাগলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানতে পেরেছেন এটি পিপিআর রোগ।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক রামভজন ভর বলেন, চিকিৎসা সেবায় আক্রান্ত ছাগল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাচ্চা ছাগল ও দুর্বল ছাগল মারা যায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হিদায়াত উল্যাহ বলেন, ছাগলের পিপিআর রোগ সারা বছর হয়ে থাকে। তাছাড়া ঠাণ্ডায় অনেক ছাগল মারা যায়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ছাগলের পাশের ছাগলও দ্রুত আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসায় রোগমুক্ত হয় ছাগল।
তিনি আরও বলেন, তবে মাধবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পিপিআর রোগের প্রকোপের বিষয়টি তিনি জানেন না। মঙ্গলবার পানি সম্পদ বিভাগের একটি দল নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় যাবেন বলেও তিনি জানান।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সোমবার এ রোগে ছাগল আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার কথা শুনেছি। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি দ্রুত আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
আইনিউজ/এস.এম/ এসডিপি
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























