ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ২৩:৪৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

অচল এক হাত নিয়ে একযুগ ধরে পত্রিকা ফেরি করছেন তিনি

পত্রিকা বিক্রি করছেন পরিতোষ তরাৎ

পত্রিকা বিক্রি করছেন পরিতোষ তরাৎ

পরিতোষ তরাৎ। বয়স প্রায় ৬০ বছর। একযুগ ধরে পত্রিকা ফেরি করে চলছে তার জীবন। রোদ, বৃষ্টি, শীত কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। বেঁচে থাকার তাগিদে সকল বাঁধা পেরিয়ে পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেন পত্রিকা।   

পরিতোষ তরাৎ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বয়স যখন ১৫ বছর তখন টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হন। তারপর থেকেই দেখা দেয় শারীরিক সমস্যা। পারতেন না সাধারণ মানুষের মতো কাজ করতে।  কিন্তু তাতেও বসে থাকেন নি। অভাবের সংসার চালাতে তখন শুরু করেন বাসা বাড়িতে রঙ দেয়ার কাজ।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে অচল হয়ে পড়ে এক হাত। পরিবারে আয়ের উৎস একমাত্র তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ে যান পরিতোষ।

এমন পরিস্থিতিতে ২০০৮ সালে শুরু করেন পত্রিকা হকারি। বাসায় বাসায় পাঠকদের পৌঁছে দিতেন পত্রিকা। এই কাজ থেকে যা টাকা পেতেন তাতেই চলত চার সদস্যের পরিবার। 

বর্তমানে তিনি শহরের কুসুমবাগে পত্রিকা বিক্রয় করেন। মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ছেলে মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজারে পরিতোষ তরাৎ এর বাড়ি। ৪৫ বছর আগে কাজের উদ্দেশ্য এসেছিলেন শহরে। এখন তিনি শাহ মোস্তফা কলেজের পিছনে ছোট এক বাসায় ১০০০ টাকা ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বাস করছেন। 

পরিতোষ তরাৎ এর ছেলে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী এবং মেয়ে হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। 

পরিতোষ তরাৎ আইনিউজকে বলেন, আমার যখন টাইফয়েড হয় তখন থেকে শারিরীক অক্ষমতা দেখা দেয়। আমি ঠিক মতো কাজ করতে পারতাম না। তারপরও সংসার চালাতে টুকটাক কাজ করতাম। বয়সের সাথে সাথে সমস্যা বেড়ে গেছে। হাতে আর ভারী কাজ করা যাচ্ছিল না। তখন অন্য কোনো কাজ না পাওয়ায় পত্রিকা হকারি শুরু করি। 

তিনি বলেন, আগে পত্রিকা বিক্রয় করে মোটামোটি ভালো টাকা পেতাম। দিনে ৩০০-৪০০ কপি পত্রিকা বিক্রি হতো। কিন্তু এখন অনেকেই পত্রিকা কিনেন না।  ৬০-৭০ কপি পত্রিকা বিক্রি করতে পারি দিনে। পত্রিকা এজেন্টকে টাকা দিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পকেটে থাকে। এই টাকা দিয়ে কি সংসার চলে?  

তিনি আরও বলেন, আমার এক মাসের বাসা ভাড়া এখনো বাকি। জানিনা কি করে দিবো। মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় ছেলেমেয়ের পড়াশোনা চলছে। সেই খরচও দিন দিন বাড়ছে। সবসময় কি মানুষের কাছে হাত পাতা যায়। আমার আয়ের আর কোনো উৎস নেই।

মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্ত আইনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই পেশায় আছেন। ভালো মানুষ এবং পরিশ্রমী। সরকারিভাবে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা তার পাওয়া উচিত।

আইনিউজ/কেএইচএস/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়