মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট: ২১:২৩, ১৩ এপ্রিল ২০২১
কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে মৌলভীবাজার, না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা
কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে পর্যটন ও প্রবাসীদের জেলা মৌলভীবাজার। চলবেনা কোনো প্রকার যানবাহন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারবেনা। লকডাউন প্রতিপালনে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শহরে তারই প্রস্তুতি দেখা গেছে।
লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে মাঠেন নামেন স্বয়ং জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান। অভিযানে ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটেরাও। ছিলেন র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা।
বিকেলে পুরো শহরজুড়ে সতর্কতামূলক মাইকিং করে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও জেলা তথ্য অফিস। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশব্যাপী বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে আটদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হচ্ছে। আর লকডাউনের দেয়া বিধিনিষেধগুলো না মানলেই কঠোর ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারিকৃত ১৩ টি নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে সবাইকে তা মেনে চলার আহবান করেছেন।
সেখানে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিলমেয়াদে আরোপিত বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলতে অনুরোধ করছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।‘
জেলা প্রশাসনের অভিযান
করোনাভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা মৌলভীবাজার। জেলাটিতে মার্চের শুরু থেকে হঠাৎ করে বাড়তে থাকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। এমনকি গত এক মাসে ৫ জন মারা গেছেন এই জেলার। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে আছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার পৌরসভা, পুলিশ ও র্যাব।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক পরিধান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে শুরু থেকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। এসব অভিযানে অনেকেই নিয়মিত গুণছেন জরিমানা।
জেলা প্রশাসনের অভিযান
এমনকি আজ মঙ্গলবারও জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এবং এই অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন শুরুর দিন অর্থাৎ বুধবার সারাদিন মাঠে থাকবেন জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, উপজেলা নির্বাহি অফিসারগণ, নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটগণ, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘এ কয়েকদিন আমরা দোকানপাট ও যানবাহন সীমিত করেছিলাম।চলবেনা কোনো প্রকার যানবাহন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারবেনা।’ লকডাউন প্রতিপালনে আগামী সাতদিন সকলের সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক।
কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে মৌলভীবাজার, না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা
‘কঠোর লকডাউন’ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের দেয়া ১৩ নির্দেশনা
১. সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৩. সব প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরি সেবা, যেমন: কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড দেখানো সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যা।
৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে। শপিং মলসহ অন্যান্য দোকানগুলো বন্ধ থাকবে।
৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।
১০. সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।
১১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাঁর পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।
১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবিহ নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।
১৩. এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
আইনিউজ/এসডিপি
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার


























