মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট: ২২:০৯, ১৩ এপ্রিল ২০২১
মৌলভীবাজারে সারাদিন মানুষের ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীনতা
রাস্তাঘাটে উপচে পড়া ভিড়
আজকে রোজার শেষ বাজার। কালকে থেকে পবিত্র মাস রমজান। একইদিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৮ দিনের কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। এমন অবস্থায় রমজান আর লকডাউনের আগের দিন প্রয়োজনীয় কাজ আর বাজার করতে মৌলভীবাজার শহরে সারাদিন ছিলো মানুষের ঢল।
সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ শহরে প্রবেশ করেন। এতে শহরের অলিগলিতে বাড়তে থাকে ভিড়। সেই ভিড়ে উধাও হয়ে যায় স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্বের কথা বাদ দিলেও কারো মুখেই ছিল না মাস্ক। দোকানপাট, ফুটপাত, মার্কেট কিংবা ব্যাংকগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে বরাবরের মতো এবারও উপেক্ষিত থাকে স্বাস্থ্যবিধি।
সরেজমিনে গিয়ে শহরের পশ্চিম বাজার, সেন্ট্রাল রোড, কুসুমবাগ, চৌমোহনা, বেরিরপাড় জনসাধারণের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সড়কগুলোতেও মানুষ দীর্ঘসময় যানজটে আটকে ছিলেন। পায়ে হেটে চলাচল করতে দেখা যায় অন্যদের। এছাড়াও দেখে গেছে গাদাগাদি করে গণপরিবহণগুলোতে চলাচল। অনেকেই দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে গাড়ি পাননি। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি গন্তব্যে।

বাজারে উপচে পড়া ভিড়:
পশ্চিমবাজারে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে বাজারে ভিড় করেছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিনের তুলনায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা ছিল বেশি। পণ্যেও দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি বলছেন অভিযোগ করেন ক্রেতারা।
বাজারে মাংসের চাহিদা ছিলো উল্লেখযোগ্য। জনসাধারণকে লাইন ধরে মাংস ক্রয় করতে দেখা যায়। ফার্মের মুরগী প্রতি কেজিতে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে যা একদিন আগেও ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিলো। দেশী মুরুগী বিক্রয় হচ্ছে ৬০০ টাকায়। গরুর মাংস ৬০০ টাকা ছিলো প্রতি কেজি।

বাজারে জনৈক ক্রেতা মোহাম্মদ সালাম বলেন, আজকে কেনাকাটা অনেক বেশি হচ্ছে । বাজারে পণ্যের দামও বেশি। শসা কোনও দোকানে ৫০ টাকা কোথাও ৮০ টাকা। ইচ্ছে মত দাম দিয়েও বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলেন, আগামী ৮দিন কোন বাজার করা যাবে না। গাড়ী চলাচল করবে না শহরে আসা যাবে না। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে উচ্চদামেও নিত্যপণ্য কিনছে।
রিক্সা চালক সজিত মিয়া বলেন, কাল থেকে নাকি কঠোর লকডাউন কেউ আসতে পারবে না। তাই মানুষ বেশি দামে জিনিসপত্র কিনছে। সমস্যা আমাদের মত গরীব মানুষদের যারা অতিরিক্ত জিনিসপত্র কেনার টাকা নেই। কাল রোজা ভালো কিছু খাওয়ার জন্য মুরুগী ক্রয় করবো কিন্তু কেজিতে ২০ টাকা বাড়তি।

আরেক ক্রেতা রহমান আহমেদ বলেন, আজ পণ্যের দাম অনেক বেশি। সব কিছু কিনতে না পারায় অল্প অল্প ক্রয় করতে হচ্ছে। আমি প্রতি বছর ৩য় বা ৪র্থ রমজানে বাজার করতাম। রোজার আগের দিন পণ্যের দাম বেশি থাকে। কিন্তু এই বছর লকডাউন থাকায় আগামী ৮ দিন কোন গাড়ি চলাচল করবে না বাজারে আসতে পারবো না।
মাছ বিক্রতা অভিনাশ বলেন, কাঁচাবাজারের কোন লকডাউন নেই কিন্তু মানুষ আসতে পারবে না বলে বেশি ক্রয় করছে। বাজারে মাছের দাম স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মাংসের দোকানে ভিড় বেশি দেখা যাছে।
শহরে বাজার করতে নাজিরাবাদ থেকে আসা রায়হান আহমেদ বলেন, আগামীকাল বুধবার থেকে রমজান শুরু হচ্ছে। বুধবার থেকে লকডাউনও শুরু হচ্ছে। তাই পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস আজকেই কিনতে হবে। তাই কষ্ট হলেও ভারী ব্যাগ ভরে নিয়ে বাজার করছি।
এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রী মিম আক্তার জানান, এক সপ্তাহ বললেও কতদিন লকডাউন থাকবে বুঝা যাচ্ছে না। কবে আর বের হবো জানি না, ৭ দিনের কথা বলে টানা মাস লকডাউন থাকতেও পারে। তাই সকলের ঈদের কাপড় আগে কিনার চিন্তা করছি।
উল্লেখ্য, লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বিকেল ৫ টার পরে জেলা প্রসাশকের পরিচালনায় অভিযান পরিচালিত হয়। এছাড়াও জেলার সকল উপজেলায় মাইকিং এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডি
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























