ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

কামরুল হাসান শাওন

প্রকাশিত: ১২:৫৫, ১৮ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২২:৪৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

অনলাইন প্রতারণার শিকার মৌলভীবাজারের তরুণী

ইদানীং ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এ সুযোগে একটি চক্র গ্রাহকদের সঙ্গে করছে প্রতারণা। অনলাইনে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য ক্রয় করে নানাভাবে এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তরুণীরা।

এমনই একটি ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয়ে এই ফাঁদে পা দেন মৌলভীবাজারের এক তরুণী। ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা মানুসরা সারাহ।

‘নিউ লেহেঙ্গা বাজার’ নামে একটি ফেসবুকে পেইজে গত ৩০ মার্চ ০৭ কোড এর লাল রঙের লেহেঙ্গা অর্ডার করেন সানজিদা মানুসরা সারাহ। লেহেঙ্গার দাম ১৬শ টাকা এসএ পরিবহনে টাকা পেমেন্ট করেন। ডেলিভারি চার্জ বাবদ ১ শত ৫০ টাকা তিনি বিকাশ নাম্বারে পাঠান। পার্সেলটি হাতে পাওয়ার পর প্যাকেট খুলে দেখলেন যা অর্ডার দিয়েছেন তা আসেনি। পেইজের সাথে যোগাযোগ করেও কাঙ্খিত লেহেঙ্গা পান নি তিনি।

তিনি বলেন, “নিউ লেহেঙ্গা বাজার’ নামের পেইজে একটি লেহেঙ্গা পছন্দ হয়। আমি তাদেরকে ইনবক্সে দাম জিজ্ঞাসা করলে তারা ১৬’শ টাকা চান। এরপর তারা আমার ঠিকানা নেয়। এরপর অর্ডার কনফার্ম করার জন্য বলেন। আমি পরের দিন অর্ডার কনফার্ম করি। এরপর অর্ডার এসএ পরিবহনে আসে। আমি টাকা পেমেন্ট করে প্যাক খুলে দেখি, আমি যেটি অর্ডার দিয়েছি সেটা নয়, একটা নিম্নমানের শাড়ি এসেছে। আমি সাথে সাথে তাদের কল দিয়েছি।

‘অভিযোগ দিলে তারা বলেন, ভূলবশত এটা হয়েছে। এরপর আমি তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা আর আমাকে লেহেঙ্গাটি পাঠায়নি।‘

এ বিষয়ে ‘নিউ লেহেঙ্গা বাজার’ পেইজের মামুন বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখে জানাবো’। এরপর পেইজটির ০১৯৩৯-৩৮৪৬১২ নাম্বারে যোগাযোগ করলে কল রিসিভ হয়নি।

এ ঘটনায় রোস পেটাস এর উদ্যোক্তা তানজিনা আক্তার রেশমি বলেন, ব্যবসায় সততার বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক অসৎ ব্যবসায়ীরা এইভাবে প্রতারণ করে আসছেন। এই সকল প্রতারক পেইজের কারণে অনলাইনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে। এসকল প্রতরক পেইজগুলোর বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে মানুষের আরো আগ্রহ বাড়তো, ফেইসবুক হতে পারতো বাণিজ্যের নতুন দ্বার।

মৌলভীবাজার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন বলেন, অনলাইনের অভিযোগ গুলো ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যাবে। অনলাইন থেকে যারা কিনবেন তাদের প্রথমত দেখতে হবে সেটির অস্তিত্ব আছে কিনা। হুটহাট করে ফেসবুকে বা মোবাইলে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখেই না কিনার অনুরোধ করা হয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে ক্রেতা সাধারণকে। তারপরেও প্রতারণার শিকার হলে প্রমাণ সহ ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এখনও অনলাইন মাকেটিং এর নির্দিষ্ট কোনও আইন হয়নি। যা কারনে অনেকে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। ভুয়া অনলাইন পেইজ খুলে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ক্রেতাকে সচেতন হতে হবে। এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে কিন্তু পেইজ গুলোর কোন ভিত্তি না থাকায় আইন প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। তাই ক্রয়ের আগে অবশ্যই দেখতে হবে কোথা থেকে কিনছেন, কার কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন, পণ্য আসবে কি না সচেতন হতে হবে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়