ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:০৭, ১৯ মে ২০২১
আপডেট: ১৮:৪২, ২০ মে ২০২১

বস্তার সূত্র ধরে খুনি গ্রেফতার (ভিডিও)

মসুদ মিয়া, পেশায় দাদন (সুদ) ব্যবসায়ী। নারীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ে করেছেন চারটা। এর বাইরেও আরও অনেক নারীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সর্বশেষ চতুর্থ স্ত্রীকে তিনি রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বস্তাবন্দি এক অজ্ঞাত নারীর লাশকে কেন্দ্র করে পুলিশ এ তথ্য উদঘাটন করে। 

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ মাত্র ১৪ ঘন্টায় ভিকটিমের পরিচয়সহ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। পুলিশ বলছে স্ত্রীকে হত্যার পর বস্তাবন্দী করে ব্রীজের নিচে লাশ ফেলে দেয় স্বামী। এ ঘটনায় স্বামী মসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেস বিফিং করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। 

চতুর্থ স্ত্রীকে হত্যার পর ব্রীজের নিচে ফেলে দেয় স্বামী

পুলিশ সুপার জানান, গতকাল মঙ্গলবার (১৮ মে) শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সিন্দুরখান ইউনিয়নে পশ্চিম বেলতলী উদনাছড়া ব্রিজের নীচে একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় পুলিশ  বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করে। পরে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান-এর নেতৃত্বে তদন্ত করে প্লাস্টিকের বস্তায় লিখা “মোঃ অনিক শ্রীমঙ্গল” সূত্র ধরে হত্যাকারী মসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

দাদন ব্যবসায়ী মসুদ মিয়া

পুলিশ সুপার বলেন, আসামী মসুদ মিয়া একজন দাদন ব্যবসায়ী। তিনি চারটি বিবাহ করেছেন। তার ঘরে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটও পাওয়া গেছে। কোনো স্ত্রীর সাথেই তার দাম্পত্য জীবন ভাল ছিল না।

মসুদ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত নারী ডলি আক্তার তার চতুর্থ স্ত্রী। গত ৭-৮ মাস আগে ডলি আক্তারের সাথে শ্রীমঙ্গল নতুনবাজারে মসুদ মিয়ার পরিচয় হয়। সে সুবাধে তাদের বিয়েও হয়। ডলি আক্তার ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার বধনপুর গ্রামের মৃত ফেলু মন্ডলের মেয়ে।

শ্বাসরোধ করে হত্যা

পুলিশ জানায়, গত ১৭ মে দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের জেরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় মসুদ মিয়া ডলিকে রশি বা কাপড় দিয়ে গলায় চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। 

পরের দিন মসুদ শহরের কাপড় ব্যবসায়ী অনিক মিয়ার কাছ থেকে একটি সাদা বস্তা কিনে নেয়। রাত আটটার পর শহরতলির সিন্দুরখান সড়কের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ম্যানেজার মনফর মিয়াকে ফোন করে একটি গাড়ি পাঠাতে বলে। মনফর মিয়া সিএনজি চালক বেলাল মিয়াকে মসুদের বাড়ি পাঠালে মসুদ বস্তাবন্দি ডলির লাশ তার সিএনজিতে তুলে।

বেলাল মিয়া বস্তার ভেতর কি আছে জিজ্ঞাসা করলে মসুদ মিয়া কোন উত্তর দেয় না। একপর্যায়ে সিএনজি গাড়িটি মসুদ মিয়ার নির্দেশে হুগলিয়া বাজারের দিকে যেতে থাকে। হুগলিয়া বাজারে যাওয়ার সময় বস্তাটি উদনাছড়া ব্রিজের উপর হতে নিচে ফেলে দেয়। বেলাল মিয়া আবারও বস্তার ভিতরে কি আছে জিজ্ঞাসা করলে মসুদ মিয়া জানায় বস্তার ভিতর গরুর মৃত বাছুর রয়েছে। লাশ ভর্তি বস্তাটি আসামী মসুদ মিয়াকে দেখালে তিনি জানান যে, বস্তাটি সে অনিক এবং জুয়েল-এর কাছ থেকে নিয়েছে। 

কাপড় ব্যবসায়ী অনিক জানান, মসুদ মিয়া চা পাতা প্যাকেট করবে বলে তাদের কাছ থেকে বস্তাটি কিনে নেন গত (১৭ মে) সোমবার। এই বস্তায় করে তারা কাপড় এনেছিলেন ঈদের আগে। তাই বস্তার মধ্যে তার ও তার ভাই জুয়েল মিয়ার নাম লেখা ছিল।

বস্তার সূত্র ধরে খুনি গ্রেফতার

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে মাত্র ১৪ ঘন্টায় ভিকটিমের পরিচয়সহ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। পরবর্তীতে আশরাফুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, শ্রীমঙ্গল সার্কেলসহ শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ মসুদ মিয়াকে গতরাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগরস্থ তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এ. বি. এম মোজাহিদুল ইসলাম (পিপিএম), শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচাজ মো. আব্দুছ ছালেকসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়