ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:০৮, ২৪ মে ২০২১
আপডেট: ১৯:০৬, ২৪ মে ২০২১

‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে’

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই গরমে তাতিয়ে উঠছে প্রকৃতি। অসহনীয় উষ্ণতা চারদিকে। খাঁ-খাঁ রোদে মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির। কোথাও স্বস্তি নেই। শরীর গরম, মেজাজ গরম- তাই মন-মানসিকতাও চরম।

এতো এতো গরমের চরম আতিশয্যের মাঝেও বাঙালি খোঁজে উৎসব। কামনা করে বৃষ্টি, শীতল অনুভূতি। আর সেই কামনাই রূপ নেয় উৎসবে। পালিত হতে থাকে যুগ যুগ ধরে।

খাঁ-খাঁ রোদে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাল-ডাল তোলে কিশোর-কিশোরীরা। সাথে গানও গায়। টিনের চালে পানি ছুঁড়ে মেরে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানো হয়। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ গ্রামজুড়ে। সবাই উৎসাহ নিয়ে যোগ দেয় তাতে। কোনো রকম ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে পালিত হয় এই লোক উৎসব। যার নাম মেঘারানী উৎসব

চুনারুঘাট অঞ্চলের পাইকুড়া গ্রামে আজ সোমবার (২৪ মে) পালিত হয়েছে মেঘারানী উৎসব। আল্লাহ্ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তু আল্লাহ্। আছমান হইলো টুটা টুটা জমিন হইলো ফাটা। মেঘরানী ঘুমাইয়া রইছে মেঘ দিবো কেঠা। এমন কিছু গান গেয়ে গেয়ে গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা দলবেঁধে গ্রামে ঘুরে ঘুরে চাল-ডাল সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো রান্না করে সবাই মিলে খাওয়া হয়।

চুনারুঘাটে নানার বাড়ি ঘুরতে গিয়ে জাবেদ খাঁন বলেন, আমার নানা বাড়িতে এই রকম উৎসব প্রচলিত। আল্লাহ্ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তু আল্লাহ্ বলে একটি মেয়ের মাথায় কুলা দেয়া হয় এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল তোলা হয়। আর বাড়ির মহিলারা মেয়ের উপর পানি দেন। কুলার মধ্যে একটি ব্যাঙ ও চাল থাকে। এভাবেই গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা দলবেঁধে ঘুরে ঘুরে চাল-ডাল সংগ্রহ করে।

আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়