ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ১৮ মে ২০২২

বৃষ্টির বাগড়া

রাজনগরে শতাধিক টন কাঁচাধানে গজিয়ে গেছে চারা

রাজনগরের আমিরপুর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার মিয়া এ বছর ৩০ বিঘা জমিতে বোরোধান চাষ করেছিলেন। ফলন বাম্পার হওয়ায় স্বপ্ন দেখেছিলেন ভালো লাভ পাওয়ার। কিন্তু ধান কেটে মাড়াই দিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। শুকাতে না পারায় তার ১০০ মণ ভেজা ধানে গজিয়ে গেছে চারা। এতে প্রায় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই কারণে ওই এলাকার সেকুল মিয়ার ১৫০ মণ ধান নষ্ট হয়েছে। শুকাতে না পারায় এভাবে পুরো উপজেলায় শতাধিক টন ধানে চারা গাজানোয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক কৃষক।

উপজেলার আমিরপুর, ক্ষেমসহস্র, কর্ণিগ্রাম, কামারচাক, রাজাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা ভেজা ধান ঘরের মেঝেতে মেলে রেখে বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে শুকানোর চেষ্টা করেছেন। ধানে চারা গজানোর ফলে এসব ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে না বলে জানান কৃষকরা। কেউ কেউ উপায় না পেয়ে নৌকায় ধান ভিজিয়ে রেখে দিয়েছেন। বৃষ্টি থামলেই ধান উঠানে মেলে দিচ্ছেন আবার বৃষ্টি শুরু হলে তাড়াহুড়ো করে ঘরে ধান তুলছেন কেউ কেউ। তবুও বাঁচাতে পারছেন না স্বপ্নের সোনালী ধান

কথা হয় আমিরপুর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার মিয়া, সেকুল মিয়া, ইজাব মিয়া, কামারচাক গ্রামের কাজল মালাকার, মান্না আহমদ মজনু, ক্ষেমসহস্র গ্রামের আব্দুল আকিক, রাজাপুর গ্রামের সুয়াইব আহমদের সাথে। তারা জানান, এ বছর ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ও হাইব্রিড কয়েক জাতের ধান চাষ করেছেন। ঈদের আগে ও পরে কিছু ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। গত ৬-৭ দিন আগে যেসব ধান কেটে মাড়াই দিয়েছেন টানা বৃষ্টির কারণে সেসব ধান শুকাতে পারছেন না। টানা বৃষ্টির ফলে বাইরে ধান শুকাতে দিতে পারছেন না। ফলে এসব ভেজা ধানে চারা গজিয়ে যাওয়ায় চাল পাওয়ার আশা নেই। আবার কিছু ধান রক্ষা হলেও দীর্ঘসময় ভেজা থাকায় ধান থেকে উটকো গন্ধ বের হচ্ছে। এসব ধান থেকে চাল পেলেও গন্ধের কারণে ভাত মুখে দেয়া যাবে না বলে জানান তারা। এখনো অনেকের ধান কেটে জমির পাশে স্তুপ করে ফেলে রেখেছেন। বৃষ্টি থাকায় মাড়াই দিচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর। শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। সেই হিসাবে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের ধান কেটে কৃষকরা ঘরে তুলেছেন। এর বাইরে যেসব এলাকায় বোরো আবাদ হয়েছে সেসব এলাকায়ও ধান কাটা শেষ পর্যায়ে।

ক্ষেমসহস্র গ্রামের আব্দুল আকিদ বলেন, এবার ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ সময়ে টানা বৃষ্টির ফলে শুকাতে না পারায় আমার প্রায় ৬০ মণ ধান নষ্ট হয়েছে। আরো ধান কাটা হলেও জমিতেই স্তুপ করে রেখে দিয়েছি। রোদ না থাকায় মাড়াই করার সাহস পাচ্ছি না। আমিরপুর গ্রামের কৃষক ইজাব মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমার প্রায় ১০০ মণ ধানে চারা গজিয়ে গেছে। বৃষ্টি থামলে বাইরে বের করি। আবার বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই দৌড়ে ধান ঘরে তুলি। ধান না বাঁচাতে পাড়লে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বৃষ্টিতে বোরো ধান শুকাতে না পাড়ায় বেশি ক্ষতি হয়নি। বরং এই বৃষ্টি আউশের জন্য ভালো হয়েছে। ধান দ্রুত শুকাতে কৃষকদের আমরা ড্রায়ার মেশিন কিনতে বলেছি। নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় কেউ কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ড্রায়ার মেশিন থাকলে এই ক্ষতিও হতো না।

আইনিউজ/ফরহাদ হোসেন/এমজিএম

আইনিউজ ভিডিও 

মৌলভীবাজারে ট্যুরিস্ট বাস চালু

যেসব দেশে যেতে বাংলাদেশিদের লাগবে না ভিসা

সাজেক: কখন-কীভাবে যাবেন, কী করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়