ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

প্রকাশিত: ২০:২১, ১৩ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ২০:৫২, ১৩ আগস্ট ২০২১

সিলেটে সিসিটিভি ফুটেজে ২ মাসের শিশু খুনের দৃশ্য

দুই মাসের নিষ্পাপ শিশুকে খুন। যে আয়া শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলো সেই হত্যাকারী। সিসিটিভি ক্যামেরায় উঠে এসেছে এই খুনের ভয়ঙ্কর দৃশ্যটি। ঘটনাটি সিলেটের বাগবাড়িতে ঘটেছে। 

বাগবাড়ি এলাকার ছোটমণি নিবাস। সিলেট সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে সেখানে আছে বর্তমানে ৪২ শিশু। এদের বয়স শূন্য থেকে সাত বছর পর্যন্ত। এদের দেখাশোনা করার জন্য রয়েছেন ৫ জন আয়া। 

এই ছোটমণি নিবাসেই ঘটেছে ২ মাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদকে খুনের ঘটনা। তাকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত আয়ার নাম সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। ছোটমণি নিবাসের কক্ষে থাকা সিসিটিভে ফুটেজে শিশুটিকে খুনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে এই ঘটনায় আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

কতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই রাতে কান্নাকাটি করে ওঠে শিশু নাবিল। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আছাড় মেরে হত্যা করেন আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। 

পুলিশ জানায়, নাবিলের কান্নাকাটিতে বিরক্ত হয়ে এক পর্যায়ে তাকে বিছানা থেকে তুলে ছুড়ে ফেলে দেন সুলতানা। এসময় বিছানার স্টিলের রেলিংয়ে বাড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারায় শিশু নাবিল। এরপর নাবিলের মুখের উপরে বালিশ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন আয়া সুলতানা।

আর খুন করেই শেষ নয়, তিনি চেষ্টা করেন প্রমাণাদি সব গায়েব করে দেওয়ার। ছোটমণি নিবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে সাহায্য করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ছোটমণি নিবাসের সিসি ক্যামেরায় শিশু নাবিল খুনের পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। এই রেকর্ডের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নম্বর-৪৫) দায়ের করে সিলেট সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ মামলা দায়েরের তদন্ত করতে পুলিশ ছোটমণি নিবাসে গেলে বেরিয়ে আসে খুনের তথ্য। কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ জানতে পারে বাচ্চাটিকে খুন করা হয়েছে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যমকে। তিনি বলেন, অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই হত্যার ঘটনাটি সামনে আসে। তদন্তে ছোটমণি নিবাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজে শিশুটিকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর এ ব্যাপারে এসপি, ডিসি, সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সকলকে জানানো হয়। পরে ওই নারীকে আটকের সিদ্ধান্ত হলে শুক্রবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

ওসি জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আমরা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলেছি মামলা করতে। তারা যদি মামলা না করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দেবে।

এছাড়াও এ ঘটনায় যদি ছোটমণি নিবাসের কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তবে তাদের বিরুদ্ধেও পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

আইনিউজ/এসডি

আইনিউজ ভিডিও-

জানেন কি ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ভয়াবহতা? কিভাবে এড়াবেন মশাবাহিত এসব রোগ?

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়