রুপম আচার্য্য
শ্রীমঙ্গলে দোল উৎসবে রঙের উল্লাসে মেতেছে তরুণ-তরুণীরা
ছবি: আই নিউজ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ষষ্ঠবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে দোল উৎসব। রঙ, আনন্দ ও ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত এ উৎসবকে ঘিরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবে অংশ নেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
লাল, বেগুনি, হলুদ ও গোলাপি রঙের আবির থালায় সাজিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণ স্পর্শ করেন ভক্তরা। সকাল থেকেই ঢাক, ঢোল, কাসর ও বাঁশির সুরে নেচে-গেয়ে পালিত হয় দোল উৎসব। আবিরের রঙে রাঙা হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের সবুজবাগ এলাকায় ‘সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ’-এর আয়োজনে রঙ রাখা কলস ভাঙার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আবির উৎসব বা রঙের খেলা হিসেবেও এই আয়োজন পরিচিত।
দোল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবুজবাগ এলাকায় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের ঢল নামে। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল নগর সংকীর্তন, ধামাইল, নাচ-গান, হোলি খেলা এবং ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোল উৎসবে রঙের খেলায় মেতে উঠেছেন তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে অনেকেই নাচ-গান আর আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন। এই উৎসবকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষও অংশ নেন। শিশু-কিশোররাও রঙের খেলায় মেতে ওঠে। একে অপরকে রঙ মেখে আনন্দ ভাগাভাগি করেন সবাই।
সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় দোল উৎসব হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগের এই আয়োজন। মূলত দোল বা হোলি এমন একটি দিন, যেদিন মানুষ অতীতের ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ক্ষমা, সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা বহন করায় দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে দোল উৎসবকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
উৎসবে অংশ নিতে আসা রিতু ভৌমিক বলেন, “সবুজবাগে সবচেয়ে বড় দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরই এখানে সবাই একত্রিত হই। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে রঙের উৎসবে মেতে উঠি। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি, যা সত্যিই খুব ভালো লাগে।”
শ্রাবণী তালুকদার বলেন, “আজ আমরা সবুজবাগে এসেছি। এখানে দোল উৎসব উদযাপন করা হচ্ছে। মূলত দোলপূর্ণিমা উপলক্ষেই এই উৎসব পালিত হয়। গত মঙ্গলবার ছিল দোলপূর্ণিমা, আর ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবারে এখানে দোল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা এসেছি। সবাই মিলে রঙ খেলছি, নাচ-গান আর আনন্দে সময় কাটাচ্ছি। এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।”
এদিকে চা-বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করেছেন। রাধা-কৃষ্ণের চরণে লালচে আবির অর্পণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তারা। ফাল্গুন মাসে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে ‘ফাগুয়া উৎসব’ বলা হয়। উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগান ও ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানেও জাঁকজমকপূর্ণভাবে ফাগুয়া উৎসব উদযাপিত হয়েছে।
সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিয়াস দাশ বলেন, “এ বছর ষষ্ঠবারের মতো আমাদের এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। দোল উৎসব এমন একটি উৎসব, যা সবাইকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি করে। সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের দোল উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করায় উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
ইএন/এসএইচএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার

























