ইমরান আল মামুন
মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫ এর ২৭তম আসর
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫–এর ২৭তম আসর। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বছরের সেরা কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
লালগালিচায় তারকাদের উপস্থিতি এবং জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন দর্শক ও শিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এবারের আয়োজনে তারকা জরিপ, সমালোচক পুরস্কার ও আজীবন সম্মাননা—এই তিনটি প্রধান বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সম্মেলনকেন্দ্রের হল অব ফেম প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে তারকাদের উপস্থিতিতে। লালগালিচায় উপস্থিত হন ২০১৮ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী এবং অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকারা। মূল মঞ্চে যোগ দেন কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর এবং সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী আখি আলমগীরসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গত বছরের উল্লেখযোগ্য কাজের সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর মঞ্চে আসেন গীতিকার কবির বকুল, যিনি বলেন, এই আয়োজন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির একটি সম্মিলিত উদযাপন। পরে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বক্তব্য দেন এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ–কে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আফজাল হোসেন, যিনি আজীবন সম্মাননা পর্বটি সঞ্চালনা করেন।
এবারের মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫–এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল আজীবন সম্মাননা, যা পেয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর। তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক ও তিন লাখ টাকার চেক তুলে দেন রুনা লায়লা। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। সম্মাননা গ্রহণের পর আলমগীর বলেন, তিনি নিজেকে এই সম্মানের যোগ্য মনে করেন কি না তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে, তবে দর্শকের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি অভিনয়শিল্পের গভীরতা সম্পর্কে কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই শিল্পের পূর্ণতা এক জীবনে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। দর্শকেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানান। পরে তিনি পুরস্কারের তিন লাখ টাকা প্রথম আলো ট্রাস্টে দান করেন।
সমালোচক বিভাগে ওয়েব সিরিজ ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ‘গুলমোহর’। এই সিরিজটির পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী। একই বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন জয়া আহসান ‘জিম্মি’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী ‘সারা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য। একই বিভাগে সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন মাহাফুজ মুন্না এবং শান্ত চন্দ্র সূত্রধর, যারা ‘উড়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।
সীমিতদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন এফ এস নাঈম ‘খুব কাছেরই কেউ’ নাটকের জন্য। সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ ‘তোমাদের গল্প’ নাটকের জন্য। একই বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন মোস্তফা কামাল রাজ। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী, যিনি ‘ভালো থেকো’ নাটকে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তারকা জরিপ বিভাগে নাটকে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফারহান আহমেদ জোভান ‘তোমাদের গল্প’ নাটকের জন্য। একই বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন কেয়া পায়েল ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের জন্য। চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন তমা মির্জা ‘দাগি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।
এবারের আয়োজনে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস–কে। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন, ‘লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড মানে এখনো হাফটাইম বাকি আছে।’ তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়ে। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে গান, নৃত্য ও বিশেষ পরিবেশনা রাখা হয়েছে। দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা এতে অংশ নিচ্ছেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রতিটি পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের আগ্রহ বাড়তে থাকে, এবং বিজয়ীদের মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার দেশের বিনোদন অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আয়োজনের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাধ্যম ও প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে ওয়েব সিরিজ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল কনটেন্ট যুক্ত হওয়ার ফলে নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও নির্মাতাদের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই আয়োজন শুধু পুরস্কার প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের বিনোদন শিল্পের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে। বছরের সেরা কাজগুলোর মূল্যায়ন এবং শিল্পীদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এটি নতুন কাজের প্রতি উৎসাহ জোগায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করে।
এবারের মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫ আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যেখানে অভিজ্ঞ শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি ঘিরে দর্শক, শিল্পী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করে এই আয়োজনের জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার মাধ্যমে বছরের সেরা কাজগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই আয়োজন বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। শিল্পী, নির্মাতা ও দর্শকদের অংশগ্রহণে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫ আবারও প্রমাণ করেছে, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার আয়োজন, যা ভবিষ্যতেও একইভাবে বিনোদন শিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।
- সেরা পাঁচ হরর মুভি
- নিউ জার্সির চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রীমঙ্গলের ২ নির্মাতার ৬টি চলচ্চিত্র
- ‘হাওয়া’ দেখতে দর্শকদের ভিড়, খোদ নায়িকা সিঁড়িতে বসে দেখলেন সিনেমা
- লুঙ্গি পরায় দেওয়া হয়নি সিনেপ্লেক্সের টিকেট, সেই বৃদ্ধকে খুঁজছেন নায়ক-নায়িকা
- শোকের মাসে শ্রীমঙ্গলের স্কুলগুলোতে প্রদর্শিত হলো ‘মুজিব আমার পিতা’
- শাকিবের সঙ্গে বিয়ে-বাচ্চা তাড়াতাড়ি না হলেই ভাল হত: অপু বিশ্বাস
- গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক
- বিয়ে করেছেন মারজুক রাসেল!
- নারী বিদ্বেষীদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন যাত্রা শুরু : জয়া আহসান
- প্রিন্স মামুন এবং লায়লার বিচ্ছেদ
























