ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮

তনিমা রশীদ

প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ১২ নভেম্বর ২০২১
আপডেট: ২২:৪৬, ১২ নভেম্বর ২০২১

রোমাঞ্চকর মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড়

কালা পাহাড়ের উপর থেকে ভিউ। ছবি- সীমান্ত দাস।

কালা পাহাড়ের উপর থেকে ভিউ। ছবি- সীমান্ত দাস।

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর অংশের সর্বোচ্চ পাহাড় বিন্দু বা চূড়া। এটি সিলেটেরও সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া। এর উচ্চতা প্রায় ১১০০ ফুট। এর এক পাশে বাংলাদেশের কুলাউড়া-জুড়ী সীমান্ত ও অন্য পাশে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত। পাহাড়টি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের রবিরবাজারের নিকটে বেগুনছড়া পুঞ্জিতে অবস্থিত। কুলাউড়া শহর থেকে কালা পাহাড়রের দূরত্ব আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার এবং আজগরাবাদ চা বাগান থেকে এর দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার।

কালা পাহাড়রের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত এবং বাকি অংশ ভারতের উত্তর ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্ত। ত্রিপুরা রাজ্যে পাহাড়টি রঘুনন্দন নামে পরিচিত। বাংলাদেশে পাহাড়টির সর্বোচ্চ চূড়ার স্থানীয় নাম `কালা পাহাড়` এবং পাহাড়ের পর্বতশ্রেণীকে স্থানীয় ভাষায় লংলা পাহাড় শ্রেণী ডাকা হয়। তবে পাহাড়টি ‘হারারগঞ্জ পাহাড়’ নামেও পরিচিত বলে মনে করেন, বাংলাদেশ জিওগ্রাফিক সোসাইটি। 

কালা পাহাড় আবিষ্কারের ইতিহাস

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড় ২০১৫ সালে আবিষ্কার করা হয়। `বিডি এক্সপ্লোরার` নামক একদল ভ্রমণপিয়াসী অভিযাত্রী লংলার বনজঙ্গলে হাইকিং করতে গিয়ে পাহাড়টি খুঁজে পায়।

যেভাবে মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড় হয়

আবিস্কারের পরেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই কালা পাহাড়টি দেশবাসীর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিলো। এর মূল কারণ হলো সঠিক প্রচারণার অভাব। কিন্তু পরবর্তীতে কুলাউড়া উপজেলা প্রসাশনের পরামর্শে ‘kulaura problem & prospect – কুলাউড়া সমস্যা ও সম্ভবনা’ সাইবার কমিটির একদল স্থানীয় তরুণ কালাপাহাড় জয় করে, সেখানের আকর্ষনীয় দৃশ্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে।

কালাপাহাড়ে যাওয়ার পথ সবুজে ঘেরা, যেন সবুজ চাদর দুই দিকে বিছানো। ছবি- রনজিৎ জনি।

তার সাথে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াও তাদের লেখালেখির মাধ্যমে অনলাইনে এ স্থানটির বিষয়ে প্রচার করে। যার ফলস্বরূপ এখন এ স্থানটি মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীদের লাইমলাইটে এখন মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড়।

কালা পাহাড় এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

কালা পাহাড়ের চূড়া  থেকে অসাধারণ সব দৃশ্যও চোখে পড়ে। পাহাড়ের চূড়া থেকে উত্তর-পূর্বাংশের দিকে তাকালে দেখা যায় জুড়ি উপজেলায় অবস্থিত রাজকি চা বাগান ও ফুলতলা বাজার। পূর্ব–দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর জেলার প্রধান শহর ধর্মনগরের একাংশ চোখে পড়বে। শরৎকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এর চূড়া থেকে হাকালুকি হাওরে মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় গুলোর দৃশ্য এই পাহাড় থেকে সবসময় দেখা যায়।

বর্ষাকালে এই পাহাড়ের চূড়া থেকে একদম কাছাকাছি মেঘের খেলা উপভোগ করা যায়। সেসময় ঝিরি পথে যাবার পথে বেশ কিছু ছোট ছোট ঝর্ণার দেখা মিলে। বৃষ্টির দিনে সেখানের ছড়া পথে অধিবাসীরা ভেলা করে যাতায়াত করে।

ঘন জঙ্গলের মাঝে মাঝে দেখবেন ছোট জলাশয়। সবুজের মধ্যে যেন একঘেয়েমি কাটাতে প্রকৃতির ফন্দি এসব জলাশয়। ছবি- সীমান্ত দাস।

ভাগ্য ভালো থাকলে আপনি ভেলা চড়ার সুযোগ পাবেন। একেক ঋতুতে এই পাহাড়টি তার রূপ পরিবর্তন করে। এসব রূপ পাহাড়টিকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে।

কালা পাহাড়ে পাবেন আদিবাসীদের পানজুম, চোখে পড়বে শতবর্ষী বিশালাকার প্রচুর গাছ। ছবি- সীমান্ত দাস।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কালো পাহাড়ের একদম শীর্ষে ট্যুরিস্টরা পাহাড় আরোহীদের নাম ও স্মৃতিচারণ কাগজে লিখে তা বোতলবন্দী করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

উপরে আকাশ ছাড়া অন্য যেদিকেই তাকাবেন, চোখে সবুজের মেলা দেখবেন। ছবি- সীমান্ত দাস।

পাহাড় বেয়ে উঠার সময় দুই পাশেই জঙ্গল থাকে। এই জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাবার সময় মনে হবে যেন আমাজন জঙ্গলে আছেন। ঘন জঙ্গলের ভেতরে গাছের আড়লে হালকা সূর্যের রশ্মি দেখলে তেমনি মনে হয়। জঙ্গলের ভিতরে রয়েছে ছোট বড় অনেক ছড়া। এই বনে রয়েছে হরিণ, ভাল্লুক, বানর, মেছোবাঘ সহ আরও নানান জীবজন্তু। রয়েছে নানান ধরনের ফলের গাছ। জঙ্গলের গাছগুলোর মধ্যে চোখে পড়বে খাসিয়াদের লাগানো লতানো পান গাছ।

কালা পাহাড়ের ঐতিহাসিক নির্দশন

কালা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত পাথরে খোদাইকৃত ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থান “ঊনকোটি”। এই ধর্মীয় স্থানটি ভারতীয় অংশে অবস্থিত। বাংলাদেশের অংশে পাহাড়টির উপরিভাগের কাছাকাছি ছাতাচূড়া নামের একটি মাজার রয়েছে। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কালা পাহাড়ের অগ্রভাগে একটি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। তার নির্দশন রয়েছে এ পাহাড়ে।

কালা পাহাড়ে মাঝে মাঝে দেখা পেতে পারেন পরিশ্রমী খাসিয়াদের। ছবি- সীমান্ত দাস।

কালা পাহাড় এর স্থানীয় সংস্কৃতি

কালা পাহাড়ের আশেপাশে বসবাস করে কিছু খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী। জনসংখ্যার দিক দিয়ে এখানে গারো নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা খুব কম এবং খাসিয়া নৃগোষ্ঠীর বেশি।

পুঞ্জিতে প্রবেশের রাস্তা। ছবি- রনজিৎ জনি।

অনেক গুলো খাসিয়া পুঞ্জি রয়েছে এখানে যেমন: নুনছরা পুঞ্জি,পানাইছরা পুঞ্জি,পুটিছরা পুঞ্জি এবং বাইগঞ্ছরা পুঞ্জি।

পাহাড়ের মাঝে এতোটুকু সমতল জায়গায় আদিবাসিদের পুঞ্জি, সেখানে আছে তাদের মাটির তৈরি পরিচ্ছন্ন ঘরবাড়ি। পুঞ্জির মুখে আপনাকে পড়তে হবে গাছের গুড়ি দিয়ে তৈরি এসব সিড়ির সামনে। ছবি- সীমান্ত দাস।

খাসিয়া ভাষায় `গ্রামকে` `পুঞ্জি` বলা হয়। পুঞ্জি গুলো খুবই সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এসব পুঞ্জিতে বসবাস করে পাঁচ শত পরিবার। এদের মধ্যে অধিকাংশই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তাদের আয়ের প্রধান উৎস হলো পান চাষ। দেশব্যাপী নামকরা খাসিয়া পান এখানে চাষ হয়।

কালা পাহাড় এর পথ

আজগরাবাদ চা বাগান থেকে বেগুনছড়া পুঞ্জি যাওয়ার সময় পথে পাওয়া যাবে ফানাই নদীসহ আরো আটটি পাহাড়ি বড় বড় খাল। এছাড়াও বেগুনছড়া থেকে কালা পাহাড় যাবার পথেও কোথাও পাবেন ঝিরি পথ আবার কোথাও পাবেন খাড়া পাহাড়ি পথে ঘন জঙ্গল ও ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়া। তার উপর কোথাও একেবারে খাড়া হয়ে নামতে হবে আবার কোথাও একেবারে খাড়া পাহাড়ি পথে উঠতে হবে।

কালা পাহাড়ের রাস্তা কোথাও দুর্গম, মাঝে মাঝে পাবেন পায়ের পাতায় পানির ছোঁয়া। ছবি- রনজিৎ জনি।

এসব পথ দিয়ে এগোতে থাকলে দেখা পাবেন হাতির মলের। স্থানীয়দের মতে, এখানে আগে প্রচুর হাতি পাওয়া যেতো। পরে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় এখন আর এখানে বন্যহাতিরা আসেনা। তবে প্যেষ্য হাতিদের বিচরণ আছে এখানে। ভাগ্য ভালো থাকলে এসব হাতির দেখা পেতে পারেন। নানা রোমাঞ্চকর অভিযানের অভিজ্ঞতা পেতে পেতে আপনি পৌঁছে যাবেন কালা পাহাড়ের চূড়ায়। প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টার পুরো রাস্তাটাই চ্যালেঞ্জিং-এ ভরপুর। 

কালা পাহাড়ে পৌঁছাতে পার হতে হবে অনেক চড়াই উৎরাই। ছবি- রনজিৎ জনি।

কালা পাহাড়ে উঠার রাস্তা একটি, পাহাড়ি রাস্তা। কিন্তু পাহাড় থেকে নামার রাস্তা দুটি। ঝিরি পথ ও পাহাড়ি পথ।

ঝিরি পথে যেতে চাইলে আপনাকে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে হাঁটতে হবে নুড়িপাথরে ভরা স্বচ্ছ পানির রাস্তা দিয়ে। ছবি- সীমান্ত দাস।

আপনি চাইলে যেকোনো পথে নামতে পারেন। তবে আপনি যদি ট্রেকিং প্রিয় হন তাহলে কালা পাহাড়ের উল্টো দিকে মুড়াইছড়া ইকোপার্ক হয়ে জুড়ী উপজেলায় ফুলতলা বাজারের কাছে রাজকি চা বাগান হয়ে বের হতে পারেন। রাস্তাটি সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। এই পথ দিয়ে নামতে চার থেকে সাড়ে চার ঘন্টা সময় লাগে। তবে রাস্তাটি দিয়ে যেতে হলে আগে থেকে গাইডকে বলতে হবে, কারণ সব গাইড এ রাস্তা চিনেনা।

কীভাবে যাবেন কালা পাহাড়

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড় এ যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে। ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারে আসার জন্য আপনি ফকিরাপুল বা সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন বা সিলেট পরিবহন করে আসতে পারেন । এসব নন এসি বাসের ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। মৌলভীবাজারে এসে আপনি লোকাল বাসে কুলাউড়া যেতে পারবেন।

এছাড়া আপনি ট্রেনে সোজাসুজি কুলাউড়া আসতে পারেন। কমলাপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পার্বত্য এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেসে চড়ে কুলাউড়া আসতে পারবেন।

কীভাবে যাবেন কুলাউড়া থেকে কালা পাহাড়

কুলাউড়া থেকে কালা পাহাড় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কুলাউড়া নেমে আপনি আসগরাবাদ চা বাগানে যাওয়ার জন্য সিএনজি নিতে পারেন। সিএনজি ভাড়া পড়বে ৪০ টাকার মতো। আর যদি রিজার্ভ করেন তাহলে খরচ হবে ২২০ টাকা। আাজগরাবাদ পৌঁছে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে সে আপনাকে বেগুনছড়া পুঞ্জির পথ দেখিয়ে দিবে।

আজগরাবাদ চা বাগান থেকে কালা পাহাড়ের দিকে ওঠার রাস্তা। আজগরাবাদ চা বাগানের সাইনবোর্ড (বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ লেখা থাকলেও ভ্রমণের জন্য যেতে পারবেন)। ছবি- সীমান্ত দাস।

আজগরাবাদ চা বাগান থেকে প্রায় ৪০ মিনিট পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাবেন খাসিয়া পুঞ্জিতে।

আজগরাবাদ চা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। ছবি- সীমান্ত দাস।

সেখানের পুঞ্জির মন্ত্রী বা সর্দার কে বলে গাইড নিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টার পাহাড়ি ট্রেইল ধরে হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন কালা পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায়। একজন গাইডকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হবে।

কোথায় থাকবেন

কালা পাহাড় এর আশেপাশে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই থাকার জন্য আপনাকে কুলাউড়া শহরে কিংবা মৌলভীবাজারে আসতে হবে। সেখানে আপনি মানসম্মত হোটেল পাবেন  থাকার জন্য।

কোথায় খাবেন

আজগরাবাদ চা বাগান থেকে কালা পাহাড় পর্যন্ত কোনো দোকানপাট নেই। তাই হয় কুলাউড়া থেকে খাবার খেয়ে আসতে হবে বা সেখান থেকে কিনে আনতে হবে। কুলাউড়ায় আপনি যেকোনো জায়গায় খাবারের রেস্তোরাঁ পাবেন।

পাহাড়ে প্রবেশের আগে নাহয় রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিলেন, তবে পাহাড়ের ভিতর বা প্রবেশের রাস্তায় চা খেতে হলেও সেটা নিজের ব্যবস্থায়। তবে খুঁজতে পারেন পাহাড়ি ফল (অবশ্যই বিষাক্তগুলো নয়)। ছবি- রনজিৎ জনি।

সর্তকতা

কালা পাহাড় ট্রেকিং এর জন্য অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি নিতে হবে। তবে তা আগে থেকেই কিনে রাখতে হবে। কারণ, আজগরাবাদ চা বাগান পরে  কোনো দোকানপাট পাবেন না পানি কিনার জন্য। তাই আগে থেকে কুলাউড়া থেকে পানি কিনে নিতে হবে। কমপক্ষে দুই লিটার পানি সাথে রাখতে হবে। এর সাথে শুকনো খাবারও নিয়ে যেতে হবে।  ট্রেকিং উপযোগী পোশাক এবং জুতা পড়তে হবে। এতে ট্রেকিং-এ সুবিধা হবে। যেহেতু কালা পাহাড় ভারত সীমান্তের পাশে তাই ভুল পথে গেলে বড় বিপদে পড়তে পারেন। সেজন্য গাইডের কথামতো চলতে হবে। গাইডের কথার বাইরে এক পা-ও আগে যাবেন না আর সবসময় দলের সাথে সাথে থাকবেন।

কালা পাহাড় থেকে নেমে শেষেরদিকে এমন সাঁকো পেতে পারেন। এগুলোই নিশ্চিত করবে আপনি জনপদের পাশে চলে এসেছেন। ছবি- সীমান্ত দাস।

আপনি যদি পাহাড় পর্বত ভালোবাসেন আর চান শহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে সৃষ্টিকর্তার তৈরী প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তাহলে মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান কালা পাহাড় আপনার অপেক্ষায় আছে। এখানে এসে আপনি কল্পনার রাজ্যে এভারেস্ট অভিযান ও বিজয় (তাজিনডং) স্বাদের অনুভূতিও নিতে পারেন।

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান সহ দেশের সকল দর্শনীয় স্থান আমাদের সম্পদ আমাদের দেশের সম্পদ। তাই এসব সম্পদের দেখাশোনা করা আমদের দ্বায়িত্ব। আমরা অপচনশীল বা যেকোনো ধরনের আর্বজনা দর্শনীয় স্থান গুলোতে ফেলবো না। কোনো দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করার সময় সাথে আর্বজনা রাখার জন্য একটি ব্যাগ নিয়ে যাবো এবং ফেরার পথে ব্যাগটি লোকালয়ের নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিব।

আর কালা পাহাড় ভ্রমণে গেলে সেখানের পুঞ্জিতে এমন কোনো ধরনের আচরণ করবেন না যা স্থানীয়দের সংস্কৃতিতে আঘাত হানে। এছাড়া কালাপাহাড়ে বসবাস করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ, এদের মধ্যে প্রধানত খাসিয়ারা। তাদের সাথে এমন আচরণ করা ঠিক নয় যাতে তারা ভাবে সমতলের মানুষরা নৃগোষ্ঠীদের সম্মান দিতে জানেনা।

কালা পাহাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী খাসিয়াদের নিয়ে আইনিউজের ভিডিও-

আইনিউজ/টিআর/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়