ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৫ ১৪২৭

তাহিরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ২৮ জুন ২০২০

তাহিরপুরে বন্যায় প্লাবিত শতাধিক গ্রাম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের বন্যা পরিস্থিতির রূপ নিয়েছে। এতে করে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মাঝে রয়েছে । বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সেই সাথে চলতি সপ্তাহ ধরে সুনামগঞ্জ জেলা শহর সাথে উপজেলার সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। ২০টির বেশি হাটবাজার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বন্যা আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাওরপাড়ের খেটে খাওয়া দিন মজুর পরিবারের লোকজনের মাঝে অর্থাভাব দেখা দিয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,আনোয়ারপুর-ফতেহপুর, বাদাঘাট-সোহালা সড়কসহ মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির চাপে উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। হাওর পাড়ের বাড়ি ঘরে ঢেউয়ের আঘাতে বিভিন্ন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাওরপাড়ের লোকজনের অন্যতম পেশা মাছ ধরা এবং বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় শ্রমজীবী লোকজন পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বন্যার পানিতে এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সীমান্তবর্তী অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে সেই সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্থরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ভেতর পানি প্রবেশ করেছে। অপরদিকে তাহিরপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দী শতাধিক গ্রামগুলোর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো- বড়খলা, আনোয়ারপুর, সোহালা, মাহতাবপুর, পিরিজপুর, চিকসা, চানপুর, মাহরাম, নোয়াহাট, পাতারগাঁও, ধরুন্দ, ইউনুছপুর, টাংগুয়ার হাওর সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় শতাধিক গ্রাম। শ্রীপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, হঠাৎ করে রাতের বেলা বাড়ি ঘরে ঢলের পানি ঢুকে পড়ে। বর্তমানে আমার ইউনিয়নের অনেক পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় আতঙ্কে দিনরাত কাটাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা: মো: ইকবাল হোসেন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। পানির কারণে জরুরি বিভাগ দ্বিতীয় তলাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের আমরা সবাই সার্বক্ষনিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি । মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের সাঞ্জব উস্তার বলেন, আমার গ্রামের অনেক জেলে মাছ ধরেই কোনও রকমে পরিবার নিয়ে খেয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু পানি বেড়ে যাওয়া ও আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে মাছ ধরতে যেতে পারছে না তারা। এতে করে পরিবারগুলো অনেক কষ্টে আছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ জানান, পানি বন্দি অনেক পরিবারে ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। সেই সাথে বন্যার্তদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারকে বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় দিয়ে তাদের খাবারের ব্যাবস্থা করে দেয়া হয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন অব্যাহত থাকবে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়