ইউকে সংবাদদাতা
আ’লীগ নিষিদ্ধের প্রস্তাবে ইউকে ওয়েলস আ’লীগের নিন্দা ও প্রতিবাদ
ছবি: আই নিউজ
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ পদক্ষেপকে গণতন্ত্রবিরোধী ও ইতিহাসবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
“ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ”
বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর এবং ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, প্রাক্তন ছাত্রনেতা আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে কথিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা হয়েছে, যা শুধু একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক বহুমত এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয় এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কোনো সংগঠনকে দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বরং এসব পদক্ষেপ সমাজে অস্থিরতা, বিভাজন ও অনাস্থা সৃষ্টি করে।
নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে উল্লেখ করেন, দলটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ অধ্যাদেশের আওতায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দেয়।
তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করলেও বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক হামলা ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা গণমানুষের সংগঠন। এ দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে যার স্থান—কোনো কাগুজে আইনে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।”
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নাম, মানচিত্র, স্বাধীনতা ও সংবিধান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল।
শেষে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় সব বাধা অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ইএন/এসএ
- ডিভি লটারি আবেদনের নিয়ম
- অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্ক ভিসা ২০২৪ আবেদন করবেন যেভাবে
- লন্ডনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা তথ্য ২০২৩
- ইউরোপ যাওয়ার আগে যা জানা প্রয়োজন
- বিনা খরচে জার্মানি ওয়ার্ক ভিসা ২৬ হাজার কর্মী নিচ্ছে জার্মানি
- গ্রিসে নিখোঁজের দেড় মাসেও খোঁজ মিলেনি হবিগঞ্জের ওয়াহিদ আলীর
- বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: আমিরাতে তথ্যমন্ত্রী
- স্বচ্ছতা আনতে উন্মুক্ত লটারীর মাধ্যমে ভাতা কার্ডের তালিকা তৈরি
- মালয়েশিয়া কোম্পানি ভিসা এবং ফ্রি ভিসা সুবিধা অসুবিধা
- ৬ লাখ টাকা বেতনে আইসল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ Ireland Work Permit Visa

























