সাজেল আহমেদ
কিংবদন্তি নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে ইউকে বিডি টিভির শোক
দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, জাতীয় ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বর্ষীয়ান নেতা, সাবেক মন্ত্রী, একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইউকে বিডি টিভি এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
এক যৌথ শোকবার্তায় ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম লিংকন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও উপদেষ্টাবৃন্দ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের কিংবদন্তি ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং গণমানুষের নেতা। তাঁর মৃত্যুতে জাতি এক অভিজ্ঞ, দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদকে হারালো।
এদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ওয়েলস শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মালিকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, “আমাদের গৌরব ও গর্বের প্রতীক, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কিংবদন্তির দীর্ঘ সংগ্রামী ও বর্ণাঢ্য জীবনের একটি জীবন্ত অধ্যায় আজ চিরতরে সমাপ্ত হলো। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলো, রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা কিংবা মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।”
তিনি আরও বলেন, “তোফায়েল আহমেদের প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে তাঁর আপসহীন ভূমিকা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
তিনি বলেন, “একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শুধু একটি নামের বিদায় ঘটে না, বিদায় নেয় একটি ইতিহাস, একটি সংগ্রামী অধ্যায় এবং অসংখ্য স্মৃতি। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও অংশীদার।”
শোকবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইউকে বিডি টিভির বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানে একাধিকবার অংশ নিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এক অনুষ্ঠানে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মন্ত্রীত্ব, ক্ষমতা ও সম্মানের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী? জবাবে তিনি বলেছিলেন, “বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য।”
তোফায়েল আহমেদের জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রনেতা হিসেবে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীকালে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দেশসেবার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি ও ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। পরবর্তীতে এই নামই বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
ইএন/এসএ
- ডিভি লটারি আবেদনের নিয়ম
- অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্ক ভিসা ২০২৪ আবেদন করবেন যেভাবে
- লন্ডনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা তথ্য ২০২৩
- বিনা খরচে জার্মানি ওয়ার্ক ভিসা ২৬ হাজার কর্মী নিচ্ছে জার্মানি
- ইউরোপ যাওয়ার আগে যা জানা প্রয়োজন
- গ্রিসে নিখোঁজের দেড় মাসেও খোঁজ মিলেনি হবিগঞ্জের ওয়াহিদ আলীর
- বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: আমিরাতে তথ্যমন্ত্রী
- স্বচ্ছতা আনতে উন্মুক্ত লটারীর মাধ্যমে ভাতা কার্ডের তালিকা তৈরি
- মালয়েশিয়া কোম্পানি ভিসা এবং ফ্রি ভিসা সুবিধা অসুবিধা
- ৬ লাখ টাকা বেতনে আইসল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ Ireland Work Permit Visa
























