ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ২০:৫৬, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

আসল সমস্যাটা কোথায়, বোরকায় না আবহমান কালের বাঙালিয়ানায়?

মাঠে চলছিল বাংলাদেশ পুলিশ ও আনসার মধ্যকার জাতীয় বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। তাতে সাংবাদিক ও দর্শকদের নজর সামান্যই। সবার চোখ পাশে চলা পাঞ্জাবি পায়জামা পরিহিত শিশু ছেলের বোরকা পরিহিত মায়ের ক্রিকেটে!

শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয় ভাইরাল। ইতিবাচক ও আবেগী মন্তব্য করেন অনেকে। আবার মা-ছেলের পোশাকে অনেকের চোখ কপালে উঠে। তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক। এ নিয়েই মুখ খুলেছেন ফারুকী।

তিনি বলেছেন, আমাদের পরের প্রজন্ম এই সব পেটি এবং ফালতু জ্ঞানালাপ থেকে আশা করি দূরে থাকবে। এরই সাথে প্রশ্ন তুলেছেন অতি চর্চিত ‘আবহমান কালের বাঙালিয়ানা’ নিয়ে। সেই প্রসঙ্গে তুলে ধরেন নানান ক্ষেত্রের বৈষম্যের বিস্তারিত। আছে আগামী প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদও।

তিনি ফেসবুকে লেখেন, “আসল সমস্যাটা কোথায়? বোরকায় না আবহমান কালের বাঙালিয়ানায়? এবার প্রশ্ন ‘আবহমান কালের বাঙালিয়ানা’ কোনটা? ব্যাপারটা কি এমন যেটা এতো কাল ধরে সাধারণভাবে বাংলাদেশে চলে আসছে? তো বাংলাদেশে তো একসময় কালচার ছিলো মেয়েরা সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে যাবে না! মেয়েদের পনেরো বছর হইলে বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠাইয়া দিতে হবে! মেয়েরা চাকরি করতে পারবে না! তারও আগে ছিলো সতীদাহ প্রথা! আমরা তো সেই সব কালচাররে ঝাড়ু পিটা কইরা তাড়াইয়া দিছি! নাকি? তার মানে আবহমান কালের বাঙালিয়ানাটা ধইরা না রাখলেও আমাদের মধ্যবিত্ত কালচারাল পুলিশদের সমস্যা নাই! সমস্যা কি তাইলে বোরকায়? কারণ এটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসছে? তো আমরা কি বাইরের কিছু নিবো না? তাইলে তো সালওয়ার কামিজ, প্যান্ট-শার্ট, শর্ট এগুলাও আমাদের বাতিল করতে হয়! নাকি? এক সময় এই বাকোয়াজ পাহারাদারগুলা রক-পপ মিউজিকরে অপসংস্কৃতি বইলা চুঙ্গা ফুঁকাইছিলো দিনের পর দিন! আবহমান শুনলেই তাই আমি চশমার ফাঁক দিয়া একটু ভালো কইরা তাকাইয়া দেখি!

আমার অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে কোনটাতেই সমস্যা নাই! বোরকাতেও নাই, বিকিনিতেও নাই! যতক্ষণ পর্যন্ত জবরদস্তি না হচ্ছে!

আগেও বলছি, যে হুজুর ফতোয়া দেয় নারী প্যান্ট-টি শার্ট পরতে পারবে না, হেন করতে পারবে না, তেন করতে পারবে না, তার সাথে আমাদের কিছু লিবারেলদের খুব পার্থক্য পাই না, যখন তাদের বোরকা নিয়া ফতোয়া শুনি! তখন আমার ইনাদেরকে একেকজন সেক্যুলার আমির হামজা মনে হয়!

আমাদের পরের প্রজন্ম এই সব পেটি এবং ফালতু জ্ঞানালাপ থেকে আশা করি দূরে থাকবে! তাদের মন চাইলে শর্ট পইরা ঘুরবে, মন চাইলে আপাদমস্তক ঢাইকা ঘুরবে!! তার গা ঢাকা বা খোলা রাখার কারণে তাকে আমরা আলাদা করে জাজ করবো না, বৈষম্য করবো না- এইটুকু আলো আমাদের দাও গো সাঁই!”

ফারুকীর সর্বশেষ সিনেমা ‘ডুব’ মুক্তি পায় ২০১৭ সালে। এর পর ‘শনিবার বিকেল’ নির্মাণ করলেও দুই বছর ধরে আটকে আছে সেন্সর বোর্ডে। কিছুদিন আগে শেষ করছেন ইংরেজি ভাষার ছবি ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর ‍দৃশ্যায়ন। আর ঘোষণায় আছে পরের ছবি ‘আ বার্নিং কোয়েশ্চেন’।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়