আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিনেমা থেকে রাজনীতি
থালাপতি বিজয়ের উত্থানে তামিলনাড়ুতে নতুন সমীকরণ
থালাপতি বিজয়
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন চমক দেখিয়েছে দক্ষিণী সুপারস্টার জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর-এর দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে)। জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে দলটি। তবে এই উত্থানের পেছনের গল্পটি অনেকটাই সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো নাটকীয়।
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বিজয়ের যাত্রা মোটেও হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ২০০৯ সালে তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’কে সমাজসেবামূলক সংগঠনে রূপান্তর করা হয়। তখন বিষয়টি অনেকের নজরে না এলেও, এটিই ছিল তাঁর রাজনৈতিক পথচলার ভিত্তি।
পরবর্তীকালে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোতেও রাজনৈতিক বার্তা সূক্ষ্মভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সরকার চলচ্চিত্রে একজন ব্যবসায়ীর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার গল্প দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই সিনেমাকে অনেকেই তাঁর বাস্তব রাজনৈতিক যাত্রার পূর্বাভাস হিসেবে দেখেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিলেও শুরুতে বেশ নীরব কৌশল গ্রহণ করেন বিজয়। উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি ও তাঁর দল। সেই মুহূর্ত আসে সেপ্টেম্বরে, যখন তাঁর চলচ্চিত্র The Greatest of All Time মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তার ঢেউকে কাজে লাগিয়ে একই মাসের ২৫ সেপ্টেম্বর ত্রিচিতে বিশাল জনসমাবেশ করেন তিনি, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রাজনীতিতে প্রবেশের পরপরই বিজয় কেবল ভারতেই নয়, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায় আসেন। তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে এক মহাসমাবেশে তিনি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-এর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর প্রশাসনকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর ভাষণে নাটকীয় সংলাপও ছিল—“জঙ্গলে অনেক শিয়াল থাকে, কিন্তু সিংহ থাকে মাত্র একটি।”
তবে রাজনৈতিক যাত্রায় বিতর্কও পিছু ছাড়েনি। তামিলনাড়ুর কারুরে এক সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। ঘটনার পর তাঁর আচরণ নিয়েও সমালোচনা হয় এবং আইনি জটিলতার মুখে পড়েন তিনি।
অনেকেই মনে করেছিলেন, এটাই হয়তো তাঁর রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার ইতি টানবে। কিন্তু সমালোচনা ও বাধা পেরিয়ে বিজয় আবারও সামনে এগিয়ে যান। তাঁর লক্ষ্য এখন তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে জয়ী হলে তিনি ইতিহাস গড়তে পারেন। কিংবদন্তি এম জি রামাচন্দ্রন-এর পর তিনিই হবেন চলচ্চিত্র জগত থেকে উঠে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিরল উদাহরণ।
দল গঠনের সময়ই বিজয় স্পষ্ট করেছিলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কোনো ‘পার্ট-টাইম’ বিষয় নয়। মানুষের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তামিলনাড়ুর মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক এবং তাদের উন্নয়নই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু।
সব মিলিয়ে, থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান শুধু একটি নতুন দলের আবির্ভাব নয়; এটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সম্ভাব্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
ইএন/এসএ
- সেরা পাঁচ হরর মুভি
- নিউ জার্সির চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রীমঙ্গলের ২ নির্মাতার ৬টি চলচ্চিত্র
- ‘হাওয়া’ দেখতে দর্শকদের ভিড়, খোদ নায়িকা সিঁড়িতে বসে দেখলেন সিনেমা
- লুঙ্গি পরায় দেওয়া হয়নি সিনেপ্লেক্সের টিকেট, সেই বৃদ্ধকে খুঁজছেন নায়ক-নায়িকা
- শোকের মাসে শ্রীমঙ্গলের স্কুলগুলোতে প্রদর্শিত হলো ‘মুজিব আমার পিতা’
- শাকিবের সঙ্গে বিয়ে-বাচ্চা তাড়াতাড়ি না হলেই ভাল হত: অপু বিশ্বাস
- গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক
- বিয়ে করেছেন মারজুক রাসেল!
- নারী বিদ্বেষীদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন যাত্রা শুরু : জয়া আহসান
- প্রিন্স মামুন এবং লায়লার বিচ্ছেদ
























