ঢাকা, রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৬ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ১২ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সংকটে বড় স্বস্তি

হরমুজ প্রণালীতে ‘বন্ধু’ ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। কূটনৈতিক তৎপরতার ফল হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে ইরানের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ইতোমধ্যে ‘পুষ্পক’ ও ‘পরিমল’ নামের দুটি পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিষয়টি ভারতের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক তৎপরতার আশঙ্কায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এর আগে ইরান এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যেখানে ব্যতিক্রম ছিল কেবল রাশিয়া ও চিন।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভারত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আমেরিকা ও ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস।

এই অগ্রগতির পেছনে কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে। ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ব্যাক-চ্যানেল আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এর ফলে আপাতত হরমুজ প্রণালীর ওপারে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলো নিরাপদে দেশে ফেরানোর পথ খুলে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়