বিশ্ব
প্রকাশিত: ১১:৪৭, ১৪ আগস্ট ২০২০
তুরস্ককে ঠেকাতে সমরযান পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে ফ্রান্সের ঘোষণা। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশে দুটি রাফাল যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর একটি রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভূমধ্যসাগরে সামরিক উপস্থিতি পোক্ত করতে ফ্রান্স এসব যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স ও আলজাজিরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের বিরোধিতা ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে। ফরাসিদের সাবেক ঔপনিবেশিক অঞ্চলে ক্রমশ আঙ্কারা প্রভাব বাড়াচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ভূমধ্যসাগরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাদ সাধে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভূমধ্যসাগরের পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার সুবিধার্থে ‘একতরফা’ অনুসন্ধান বন্ধে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বুধবার টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গ্রিসসহ ইউরোপীয় অংশীদারদের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন বহাল রাখতে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশে অস্থায়ীভাবে সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে ফ্রান্স।’ এরপর গতকাল ফরাসি সেনাবাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিটি দ্বীপে গ্রিক সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়, যেটিকে ফ্রান্সের প্রথম সহায়তা উল্লেখ করেছে গ্রিক প্রতিরক্ষা দপ্তর। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে টেলিফোন আলাপের পর গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস টুইট করেন, ‘ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গ্রিসের প্রকৃত বন্ধু এবং তিনি ইউরোপিয়ান মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজসহ তুরস্কের একটি ড্রিলিং জাহাজ ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে রওনা হয়। এরপরই ন্যাটো সদস্য দুই প্রতিবেশী তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইইউ। যদিও গ্যাসসমৃদ্ধ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অনুসন্ধান নিয়ে আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক, গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ফ্রান্সের অবস্থানে চটেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসগ্লু অভিযোগ করেন, আফ্রিকার মতো লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্স ঔপনিবেশিক মানসিকতা বজায় রেখেছে। এই নীতি আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য অস্থিতিশীল।
গত ৪ আগস্ট বৈরুতের বন্দরে জোড়া বিস্ফোরণে ২২০ জন নিহত ও ৬ হাজারের বেশি আহত হয়। এর পরপরই লেবানন সফরে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। পরে তিনি গ্রিসের পক্ষ নিয়ে তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আপাতত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে সংকট দেখা গেলেও ভূমধ্যসাগরের মূল সংকট শুরু লিবিয়াকে ঘিরে। লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের সমর্থক তুরস্ক। আর এই সরকারের বিদ্রোহী গ্রুপ জেনারেল হাফতাবকে সমর্থন করছে ফ্রান্স, মিসর, রাশিয়া ও আরব আমিরাত। লিবিয়ার জাতীয় সরকারের সঙ্গে তুরস্ক গত বছর সামরিক সহযোগিতা ও সমুদ্র প্রতিরক্ষাবিষয়ক চুক্তি করলে সংকট জোরালো হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমাদের আশঙ্কা, ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে ব্যাপক আকারে তুরস্কের উপস্থিতি ভূমধ্যসাগরের পূর্ব পার থেকে ইউরোপ অভিমুখের তেল-গ্যাসের চালানকে ঝুঁকিতে ফেলবে। ভূমধ্যসাগরে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তেল ও ৫ ট্রিলিয়ন কিউবেক গ্যাস মজুদ রয়েছে, যার বড় একটি অংশ গ্রিস ও সাইপ্রাসকে ঘিরে। সাইপ্রাসের এই অংশটি স্বাধীনতা দাবি করছে এবং তাদের একমাত্র স্বীকৃতিদাতা দেশ তুরস্ক।
আরও পড়ুন
বিশ্ব বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- আইয়ুব খানের পদত্যাগের দিন আজ
- টাই পরা বাদ দিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করতে চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
- যুদ্ধবন্দী কারাগারে বোমা হামলা, পরস্পরকে দোষছে রাশিয়া-ইউক্রেন
- আবারও মক্কায় কালো পাথর স্পর্শ-চুম্বনের সুযোগ পাচ্ছেন মুসল্লিরা
- মাঙ্কিপক্স ঠেকাতে পুরুষদের সেক্স পার্টনার কমানোর পরামর্শ
- ভারতের স্বাধীনতা দিবস শনিবার
- গাজায় অ্যাম্বুলেন্সে হা*মলা, নি হ ত ৯ হাজার ছাড়িয়েছে
- ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের মালিক রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা মারা গেছেন
- মালিতে সন্ত্রাসী হামলায় ৪২ সেনার মৃত্যু
- ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য হিও গ্রাঞ্জে দো সুলে বনায় ৫৬ জন নি হ ত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়


















