ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৯ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১১:৪১, ১৭ আগস্ট ২০২০

বাইডেনের পেছনে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত সপ্তাহে নিজের রানিংমেট হিসেবে তিনি যখন কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা করেন, তখনই পরিষ্কার হয় ভারত প্রশ্নে ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে বাইডেনের। চলতি সপ্তাহে বাইডেনের এক নির্বাচনী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে নয়াদিল্লি কৌশলগত অংশীদার হবে ওয়াশিংটনের। এশিয়ায় চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে শক্তিশালী করে ওই অঞ্চলের রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করতে চাইবেন জো বাইডেন।

সাবেক কূটনীতিক টনি ব্লিঙ্কেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে বাইডেন প্রশাসনের। এই পলিসি বাইডেনকে কৌশলগত দিক দিয়ে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘জো বাইডেন ক্ষমতায় এলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী আসন নিশ্চিতে ভূমিকা পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও আরও জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন অনেকদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বে চীনের আধিপত্য প্রত্যক্ষ করছে। রিপাবলিকান সরকার চেষ্টা করেও এই আধিপত্য থেকে বের হতে পারছে না বিভিন্ন দুর্বলতা ও নীতিনির্ধারণী সমস্যার কারণে। দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত-চীন ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ তিন খেলোয়াড়। রিপাবলিকান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্য, আর পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে চীনের সখ্য। ফলে চীনকে এড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে নেওয়া কষ্টকর। আর এই জায়গাতেই শক্তিশালী নীতি নিতে চাইছে ডেমোক্র্যাট শিবির। তারা পাকিস্তানের সঙ্গে নয়, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে একই সঙ্গে পাকিস্তান ও চীনকে শায়েস্তা করতে চাইবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে জো বাইডেন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি রক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। তখন তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে ভারতের আসন নিশ্চিত করতে কাজ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতকে এগিয়ে রাখতে কাজ করবেন তিনি। আর এই সুযোগ ভারতও ছাড়তে চাইবে না, যতই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভালো সম্পর্ক থাকুক না কেন। কারণ ভারতও সীমান্ত ইস্যুতে কিছুটা নাজেহাল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। নয়াদিল্লিও চাইবে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সীমান্ত ইস্যুর সমাধান করে চীন ও পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে।

Green Tea
সর্বশেষ