ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৯ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ১৭ আগস্ট ২০২০

দুর্ঘটনায় যুবকের ব্রেন ডেড, সাত অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত পরিবারের

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিয়ের মাত্র দুই বছর হয়েছে। বাবা, মা, ভাই ও স্ত্রী নিয়ে সুখেই ছিলেন পেশায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ সংগ্রাম ভট্টাচার্য। কিন্তু কল্যাণী এলাকায় এক চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন ৩২ বছরের সংগ্রাম। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন। এতে শোকে স্তব্ধ পরিবার সংগ্রামের সাত অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, ১৪ আগস্ট চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার পর নিজের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সংগ্রাম। ভুলবশত তিনি মোটরসাইকেলে স্ট্যান্ড তুলতে ভুলে যান। মোটরসাইকেল চলার সময় স্ট্যান্ড যখন স্পিড ব্রেকারে লাগে তখন ছিটকে পড়ে যান ভাটপাড়ার ছেলে সংগ্রাম। 

দুর্ঘটনার সময় সংগ্রমের মাথায় হেলমেট ছিল। তবে হেলমেটের ফিতার লাগানো ছিল না। দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া সংগ্রামের কান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। তাৎক্ষণিক তাকে কল্যাণী মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ১৫ তারিখ ভোরে সংগ্রামকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন।

যুবক বয়সে ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয় পরিবার। তবে সংগ্রামের অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয় শোকে থাকা পরিবারের সদস্যরা। সেই অনুযায়ী রোববার রাতে স্বাস্থ্য দফতরের ব্রেন ডেথ অডিট কমিটি অ্যাপোলো হাসপাতালে পৌঁছায়।

একইসঙ্গে আসেন রিজিওনাল অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। সংগ্রামকে পরীক্ষা করে তারাও সংগ্রামকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন। শুরু হয় অঙ্গ গ্রহীতা সন্ধান।

সংগ্রামের আত্মীয় সম্পর্কিত বোন মৌমিতা সাহা ও রিয়া দাস সরকার বলেন, এতো অল্প বয়সে সংগ্রাম ভাইয়ের বিদায় মেনে নেয়া যাচ্ছে না। তবুও কয়েকজন মানুষ তার অঙ্গ নিয়ে বেঁচে থাকুন।

সংবাদ মাধ্যমের আরো খবর, সংগ্রামের লিভার পাচ্ছেন আগরতলার বাসিন্দা ৫৯ বছরের এক ব্যক্তি। এরইমধ্যে তাকে ত্রিপুরা থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে আনা হয়েছে। এখানেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন হবে। সংগ্রামের একটি কিডনি পাচ্ছেন লিলুয়ার বাসিন্দা ২৯ বছরের এক যুবক। এটিও অ্যাপোলোয় প্রতিস্থাপন হবে। হাওড়ার নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের ১৭ বছরের কিশোরী হৃদযন্ত্র পাবে। দিশা আই হাসপাতালে সংগ্রামের দুটি কর্নিয়া দান করা হয়েছে। অন্য কিডনি ও ত্বক এসএসকেএমে দান করা হয়েছে।

অঙ্গ নিয়ে যেতে অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে তৈরি হবে দুইটি আলাদা গ্রিন করিডোর। হৃদযন্ত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি যাবে নারায়ণা হাসপাতালে, অন্যটি যাবে এসএসকেএমে। 

অস্ত্রোপচার করে অঙ্গ বের করা ও ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য অ্যাপোলো হাসপাতাল তৈরি রয়েছে ৫৬ জন চিকিৎসকের দল। তাদের প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর চিকিৎসকেরা প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকের দল এসেছে, যে চিকিৎসকেরা ওটিতে থাকবেন তাদের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর সংগ্রামের দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Green Tea
সর্বশেষ