ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১২:১৩, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাশিয়ার আরো একটি ভ্যাকসিন অনুমোদন শিগগিরই

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

করোনাভাইরাসের আরো একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে রাশিয়া। এর আগে গত আগস্টে বিশ্বের পথম ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয় ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ, যা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে রাশিয়া। 

আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই আরো একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। করোনার দ্বিতীয় এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে সাইবেরিয়ার ভেক্টর রিসার্চ সেন্টার।খবর- রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সি।

গত সপ্তাহেই মানবদেহে এই ভ্যাকসিনের প্রাথমিক ট্রায়াল শেষ হয়েছে। মস্কোর গামালিয়া ইন্সটিটিউটের তৈরি স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিন গত আগস্টে অনুমোদন পাওয়ার পর এর চূড়ান্ত ধাপে কমপক্ষে ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছে।

২০টি দেশ ‘স্পুটনিক-৫’ নামে রাশিয়ার প্রথম ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী বলে সম্প্রতি রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ তহবিলের (আরডিআইএফ) প্রধান নিশ্চিত করেছেন।

এরইমধ্যে ওই ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডোজের অর্ডার এসেছে। তবে রাশিয়া সবার আগে করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন দিলেও সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক চাপের কারণে রুশ ভ্যাকসিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঝুঁকির বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে।

রাশিয়াকে বিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপনে গবেষকদের ওপর দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরিতে চাপ ছিলো বলে দাবি অনেকের।

স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিনটির এখনো তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পাস করা বাকি। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি এ ভ্যাকসিন রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পেয়েছে। শিগগিরই ব্যাপকহারে এর উৎপাদন শুরু হবে।

তার নিজের মেয়ের শরীরেই এর পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং এতে ভ্যাকসিনটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তার মেয়ে এই টিকা গ্রহণের পর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেছেন পুতিন।

দ্বিতীয় ভ্যাকসিনটি নিয়েও বেশ আশাবাদী রাশিয়া। 

এদিকে সম্প্রতি রাশিয়ার তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ এর প্রথম ব্যাচ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিকট ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনটির আঞ্চলিক সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১১ আগস্ট রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বে প্রথম হিসেবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ এর অনুমোদন দেয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তা বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে।

বিশ্বজুড়ে করোনার তাণ্ডব চললেও এখন পর্যন্ত রাশিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশ এর ভ্যাকসিন কিংবা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের তৈরি অন্তত ১৭৬টি ভ্যাকসিন পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩৪টি মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁঁছেছে। চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের দিকে করোনার অন্যান্য ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রত্যাশা করছেন।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়